পাঁচ জেলার মানুষের ভরসা বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে কাগজে শয্যা বেড়েই চলেছে, কিন্তু চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী বা ভবন বাড়েনি। ২০০৬ সালে ৫০০ শয্যার হাসপাতালটি চালু হয় ২৩৮ চিকিৎসক, ৫৩২ নার্স ও ৫৩৬ কর্মচারীসহ ১ হাজার ৩৪২ জনবল নিয়ে। এর মধ্যে ১৯০টি পদ বদলি ও অবসরে শূন্য হয়ে আছে।
২০২১ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শয্যা বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ করে, তবে কর্মী বা নতুন ভবন দেয়নি। গত ১৬ সেপ্টেম্বরের এক চিঠিতে আরও ৬০০ শয্যা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮০০ করার কথা বলা হয়েছে, জনবল নিয়োগের নির্দেশনা ছাড়াই। হাসপাতালের রেজিস্টারে ১৯ সেপ্টেম্বর ৪২টি বিভাগে ভর্তি ছিল ২ হাজার ৫৩৪ জন; রোগীদের রাখা হচ্ছে বারান্দা ও মেঝেতে।
সমকালের প্রতিবেদনে বিভাগওয়ারি হিসাব এসেছে। মেডিসিনের ২১০ শয্যায় ভর্তি ৯৭৭ জন, চিকিৎসক ১৬ জন, অথচ দরকার অন্তত ৫৬ জন; নার্স ১৭ জন, দরকার ৬৪ জন। গাইনিতে ১২০ শয্যায় ৪৩৬ রোগী, শিশু বিভাগে ১৬০ শয্যায় ৪৩২ জন; চার শয্যার একটি কক্ষে ছিল হামের ১২ রোগী। সার্জারির ১৬০ শয্যায় ৪৩৮ রোগী, ওয়ার্ডবয় মাত্র একজন। পাঁচ ইউনিটের একমাত্র ক্লিনারের ভাষ্য, ২০ জনের বাথরুম ব্যবহার করেন অন্তত ২০০ জন।
বহির্বিভাগে দিনে গড়ে প্রায় তিন হাজার রোগী আসেন, ২০ সেপ্টেম্বর টিকিট বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ৯৭৪টি। ২০ জন চিকিৎসকের গড়ে তিনজন ছুটিতে থাকায় একেকজন দেখেন প্রায় ১৭০ রোগী। চিকিৎসক এ এস এম নোমানের ভাষ্য, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে ১৬০ থেকে ১৭০ রোগী দেখতে হয়, একেকজনকে বড়জোর দুই মিনিট দেওয়া যায়।
চাপের ফল পড়ছে সম্পর্কেও। ২০২১ সালের জুলাই থেকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে সাতবার সহিংসতা ঘটেছে, ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা নিরাপত্তা ও জনবলের দাবিতে কর্মবিরতি করেছেন। ইন্টার্নরা বলছেন, শয্যা অনুপাতে নিয়োগ আর রোগীপ্রতি একজন স্বজনের নিয়ম মানলে বিরোধ কমবে। ভর্তি রোগীরা অভিযোগ করেছেন, দিনে দুবারের বেশি চিকিৎসক বা নার্সের দেখা মেলে না।
উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর-ই-মোর্শেদ সমকালকে বলেন, দুই দফায় শয্যা বাড়লেও জনবল বাড়েনি; প্রচণ্ড চাপ আর স্বজনদের দাপটে কর্মীরা কখনো মেজাজ ধরে রাখতে পারেন না, তাতে সহিংস পরিস্থিতিও তৈরি হয়।
প্রতিবেদনটি সমকালের বগুড়া প্রতিনিধির প্রতিবেদন অবলম্বনে।
ছবি: মুসফিক মুন্না / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)