আরও বেশি কৃষ্ণাঙ্গ কৃষককে বাণিজ্যিক উৎপাদনে আনতে কৃষক, অর্থায়নকারী, বিমা প্রতিষ্ঠান, কৃষি ব্যবসা ও সরকারের মধ্যে অংশীদারত্ব জোরদার করতে হবে, দক্ষিণ আফ্রিকার গাউতেংয়ের বকসবার্গে কৃষি উন্নয়ন সংস্থা অ্যাগডার (Agda) বার্ষিক সম্মেলনে এমন আহ্বান এসেছে।
সংস্থার পর্ষদ সভাপতি ড. ম্যাথিউস ফোসা জানান, ২০২৫ সালে দেশটি প্রায় ১ হাজার ৫১০ কোটি ডলারের রেকর্ড কৃষি রপ্তানি করেছে, তবু অনেক উদীয়মান কৃষক ঋণ, বিমা বা বাজার পান না। জমির দলিল, ঋণের ইতিহাস ও নিরীক্ষিত হিসাব চাওয়ায় সামাজিক মালিকানার জমি বা সরকারি ইজারার জমিতে চাষ করা কৃষকেরা বাদ পড়েন। তাঁর ভাষায়, শোনা যায় উদীয়মান কৃষকেরা ঋণযোগ্য নন, কিন্তু অভিজ্ঞতা বলে অনেকে আসলে ব্যাংকিংয়ের সুযোগই পাননি। ক্ষুরারোগ, বন্যা ও তাপের ঝুঁকি সামলাতে ভালো জৈব নিরাপত্তা ও সাশ্রয়ী বিমার কথাও বলেন তিনি।
প্রধান নির্বাহী লিওনা আর্চারি জানান, অ্যাগডার নেটওয়ার্কে আছে ১২ লাখ হেক্টরের বেশি জমি, ৪৫ হাজারের বেশি কৃষক, ৫০টির বেশি কৃষি ব্যবসা আর ২৬টির বেশি অর্থায়নকারী। সংস্থাটি সামাজিক বিনিয়োগ ও উন্নয়ন তহবিলে ৩ কোটি ২০ লাখ র্যান্ড তুলেছে, ল্যান্ড ব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ঋণ সুবিধা চালুতে ৩ কোটি ৩৬ লাখ র্যান্ড জোগাড় করেছে, আর ৫৮ কোটি ৬০ লাখ র্যান্ডের লেনদেনে সহায়তা করেছে। তবে শুধু অর্থ দিয়ে সমস্যা মিটবে না; পরামর্শদান ও সরবরাহ চুক্তির মাধ্যমে ঝুঁকি ও বাজারের সমস্যাও সামলাতে হবে, বলেন তিনি।
কৃষি ব্যবসায়ীদের সংগঠন অ্যাগবিজের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও কৃষি-ভূমি সংস্কারে প্রেসিডেন্টের দূত ওয়ান্দিলে সিহলোবো বলেন, ২০২৬ সালে কৃষি অর্থনীতি ৮ থেকে ৯ শতাংশ বাড়তে পারে, আর বছরের প্রথমার্ধে রপ্তানি বেড়েছে ১১ শতাংশ; দক্ষিণ আফ্রিকা এখন বিশ্বের ৩২তম বৃহৎ কৃষি রপ্তানিকারক, শীর্ষ ৪০-এ একমাত্র আফ্রিকান দেশ। তবে জ্বালানি ও সারের দাম আগের বছরের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি, আর এশিয়ার বাজারে বাণিজ্য চুক্তিতে দ্রুত অগ্রগতি দরকার।
ফোসা সতর্ক করেন, এল নিনোর তাপ কিছু এলাকায় উৎপাদনে ক্ষতি করছে, ম্যাকাডামিয়ার ফুলও নষ্ট হচ্ছে; সিহলোবো বলেন, শুকনো ও গরম আবহাওয়া পানি ও সেচের ওপর চাপ বাড়াবে। প্রতিবেদনটি করেছেন প্যাট্রিসিয়া টেম্বো।
ছবি: Alandmanson / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: ফুড ফর মজানসি





মন্তব্য
(০)