মাটির উন্নতিতে বহু বছর ধরে পরিচিত বায়োচার থেকে এখন জ্বালানি ও কার্বন ক্রেডিটের আয়ও সম্ভব, এমনটা উঠে এসেছে নাফিল্ড অস্ট্রেলিয়া ফার্মিং স্কলারশিপের আওতায় পল ম্যাকগরম্যানের (Paul McGorman) গবেষণায়। খবরটি দিয়েছে গ্লোবাল অ্যাগ্রিকালচার।
অল্প অক্সিজেনে জৈববস্তু পুড়িয়ে পাইরোলাইসিস চুল্লিতে বায়োচার তৈরি হয়। ম্যাকগরম্যান জানান, এক দশকেরও আগে মাটির গঠন ও উর্বরতা বাড়ানোর উপায় হিসেবে বায়োচার কৃষকদের কাছে আসে, তবে ফল ছিল মিশ্র। তাঁর ভাষায়, "তখন বিজ্ঞান সেই পর্যায়ে ছিল না যে বিনিয়োগের পুরো সুফল মিলবে। এখন তা বদলেছে।"
তাঁর প্রতিবেদন বলছে, এখন এমন প্রতিষ্ঠান আছে যাদের তৈরি চুল্লি নানা কাজের উপযোগী বায়োচার বড় পরিসরে, চাহিদামতো এবং নির্ভরযোগ্যভাবে তৈরি করে। বাজারও মাটির বাইরে ছড়িয়েছে: শহরের সবুজ এলাকা ও পার্ক, কংক্রিট, পিচ ও তাপনিরোধকের মতো নির্মাণসামগ্রী, ইস্পাত তৈরি, পানি পরিশোধন ও দূষিত জমি পুনরুদ্ধার।
চুল্লি থেকে যে সিনগ্যাস বের হয়, বিদ্যুতের দাম বেশি থাকায় তা জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগানো যায়। তবে বড় স্থাপনার জন্য সবচেয়ে বড় আয় আন্তর্জাতিক কার্বন ক্রেডিট বাজার, যেখানে বায়োচারকে কার্বন ধরে রাখার সবচেয়ে বিশ্বস্ত কৌশলগুলোর একটি ধরা হয়, বলেন তিনি।
গবেষণার জন্য তিনি চুল্লি নির্মাতা থেকে শুরু করে লাভজনকভাবে চুল্লি চালানো কৃষি খামার পর্যন্ত ঘুরে দেখেছেন। এই অভিজ্ঞতায় তিনি নিজের খামারও বদলেছেন: দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার ক্যাঙারু দ্বীপের মিশ্র ফসলের খামার বিক্রি করে মূল ভূখণ্ডে ফলবাগানভিত্তিক ব্যবসা গড়েছেন, যার ছাঁটা কাঠ বায়োচার তৈরির উপযোগী।
ছবি: Klaeren / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)