ঢাকার সদরঘাট ও বাবুবাজারের মাঝামাঝি বুড়িগঙ্গার তীরে বাদামতলী ফলের আড়ত রাজধানীর সবচেয়ে বড় ও পুরোনো ফলের পাইকারি বাজার। ১৯৩৫ সালে হাসান আলী ঢালী ও কয়েকজন সহকর্মী অল্প কিছু দেশি ফল নিয়ে যে কেনাবেচা শুরু করেছিলেন, তা এখন বাদামতলী থেকে ওয়াইজঘাট, শাহজাদা মিয়া লেন ও বুড়িগঙ্গা ভবন মার্কেট পর্যন্ত ছড়িয়েছে। প্রায় ২৫০টি বড় আড়তে প্রতিদিন ঢাকা ও আশপাশের খুচরা বিক্রেতারা আসেন।
বাজারের সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো দৃশ্য ট্রাক থেকে সরাসরি নিলাম। রাতে বিভিন্ন জেলা থেকে ছেড়ে আসা ট্রাক ঘাটে ভিড়লেই ব্যাপারী ও পাইকারেরা ঘিরে ধরেন। আড়তদারদের কেনার পর বাকি ফল ট্রাকের ওপর থেকে হাঁকডাক করে বিক্রি হয়; একসঙ্গে ৩০টির বেশি ট্রাকে নিলাম চলে ভোর থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত। দর মিললে কার্টন ছুড়ে দেওয়া হয় ক্রেতার হাতে, টাকা শোধ হয় সঙ্গে সঙ্গে।
জুরাইন থেকে আসা ভ্যানের খুচরা বিক্রেতা আবদুর রহমান জানান, তিনি ৩ হাজার ৯০০ টাকার আপেল ও ২ হাজার টাকার মাল্টা কিনেছেন। আমের মৌসুম শেষ হলেও বাজারে আছে বারোমাসি কাটিমন ও আশ্বিনা। প্রায় ২৫ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করা মুন্সিগঞ্জের রাসেল লাকুড়িয়া বলেন, ব্যাগিং করা আমে রোগপোকা কম লাগে, দাগ পড়ে না; বিক্রেতারা একে বলেন ‘টিস্যু করা আম’, আর দাগওয়ালা ব্যাগিং ছাড়া আমকে বলেন ‘নিয়ম আম’।
প্রতিবেদনের দর অনুযায়ী, ব্যাগিং করা ভালো মানের গাছপাকা কাটিমন কেজি ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, আশ্বিনা ১৮০ থেকে ২২০ টাকা। আম বিক্রি হয় ক্রেট হিসেবে: ক্রেটসহ ২৮ কেজি হলে ক্রেট ও কাগজের জন্য ২ কেজি বাদ দিয়ে ২৬ কেজির দাম ধরা হয়। দেশি ড্রাগন ফল কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, সবুজ বারি মাল্টা-১ কেজি ১০০ টাকা।
দেশি ফলের বাইরে বাজারের বড় অংশ আমদানি করা ফলের দখলে। দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, নিউজিল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, পোল্যান্ড ও চীন থেকে আসা আপেল, মাল্টা, কমলা ও আঙুরের চাহিদা সারা বছর থাকে। ফুজি, দক্ষিণ আফ্রিকান ও গালা আপেলের ১৮-১৯ কেজির এক কার্টনের দাম ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৬ হাজার ৩০০ টাকা।
জ্যৈষ্ঠ থেকে ভাদ্র মাসে বাদামতলী ভরে ওঠে আম, লিচু, লটকন, কাঁঠাল ও আনারসে। দেশি ফলচাষি থেকে শহরের খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত সরবরাহের যে পথ, তার বড় একটি মোড় এই ঘাট; ব্যাগিংয়ের মতো চাষের পদ্ধতি এখানে সরাসরি দামে প্রতিফলিত হয়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন এম এ হান্নান।
ছবি: বুড়িগঙ্গার বাদামতলী ঘাট, David Stanley / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)