বিদেশে জোরালো চাহিদা আর গবাদিপশুর সরবরাহ কমে আসায় আগামী দুই থেকে তিন বছর অস্ট্রেলিয়ার গরুর মাংস ও গবাদিপশুর দাম ভালো থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। কুইন্সল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমের ক্লনকারি শহরে এগফোর্স কুইন্সল্যান্ড ক্যাটল বোর্ড ও ক্যাটল অস্ট্রেলিয়ার যৌথ আয়োজন 'অল অ্যাবাউট বিফ' ফোরামে প্রায় ২০০ খামারি অংশ নেন।
বাজার বিশ্লেষক সাইমন কুইল্টি বলেন, তিন লাখ টন আমদানি করা গরুর মাংসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রে পশুসংখ্যা পুনর্গঠন প্রায় ১২ মাস পিছিয়ে যেতে পারে, কারণ খামারিদের গাভি ধরে রাখার দামের প্রণোদনা দুর্বল হয়েছে। তাঁর কথায়, 'আবার বাড়তে হলে পশুপালের দরকার বেশি দাম, কম নয়।' ফলে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রকে আরও দীর্ঘ সময় আমদানির ওপর নির্ভর করতে হবে।
মিট অ্যান্ড লাইভস্টক অস্ট্রেলিয়ার (এমএলএ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাইকেল ক্রাউলি জানান, একজন মার্কিন নাগরিক গড়ে সপ্তাহে তিনটি হ্যামবার্গার খান, সারা দেশে সপ্তাহে প্রায় ১০০ কোটি। কুইল্টির হিসাবে, জাপানে মার্কিন রপ্তানি ২৭ শতাংশ কমার সময় অস্ট্রেলিয়ার রপ্তানি ২৭ শতাংশ বেড়েছে; কোরিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার চালান বেড়েছে ৫০ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রের কমেছে ২১ শতাংশ। ৫৫ শতাংশ সুরক্ষা শুল্কের পরও চীনে মাসে প্রায় ৬,৫০০ থেকে ৭,০০০ টন যাচ্ছে।
দেশের ভেতরে দীর্ঘদিন বেশি সংখ্যায় গাভি জবাইয়ের ফলে, বিশেষ করে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায়, প্রজননযোগ্য পশু কমে গেছে। হাটে পশুর আমদানি কমছে, আর বাছুরের দাম বাড়ছে, যা পুনর্গঠনের আগাম লক্ষণ বলে মনে করেন কুইল্টি। ফিডলটের ধারণক্ষমতা প্রায় ১০ লাখ থেকে বেড়ে প্রায় ১৬ লাখ মাথা হয়েছে, ২০২৮ সালে তা প্রায় ২১ লাখ হবে বলে তাঁর ধারণা।
কুইল্টির পূর্বাভাস, দুই-তিন বছর দাম বাড়বে, তারপর ২০৩০-৩১ সালের দিকে পশুসংখ্যা বাড়লে দাম কিছুটা নামবে। প্রক্রিয়াকারীরা দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় দিনে প্রায় ২,০০০ ও উত্তরে ৬০০ বাড়তি পশু জবাইয়ের সক্ষমতা যোগ করেছেন; বিদেশি কর্মী কোভিডের সময়ের ৭৫ হাজার থেকে বেড়ে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার হয়েছে। ক্রাউলি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাড়তি চাহিদার কথাও বলেন, যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় জীবিত গরু রপ্তানি রয়েছে।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন বিফ সেন্ট্রালের জেমস নেসন।
সূত্র: Beef Central



মন্তব্য
(০)