আসামের দুর্যোগ পরিকল্পনা এখনো ব্রহ্মপুত্রের ধীরগতির বন্যা আর চেনা নিচু জেলাগুলো ঘিরে তৈরি; চার বছরে দুবার যে দ্রুতগতির পাহাড়ি বন্যা রাজ্যে আঘাত হেনেছে, তার জন্য এটি প্রস্তুত নয়। ডাউন টু আর্থে এক কলামে এ কথা লিখেছেন গুয়াহাটির কটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক মৃণাল শইকিয়া (Mrinal Saikia)। মতামত লেখকের নিজের।
তাঁর বর্ণনায়, এ ধরনের বন্যায় আকস্মিক বন্যার গতি আর ভূমিধসের চাপ একসঙ্গে থাকে। ২০২২ সালের মে মাসে ভারী বৃষ্টিতে ডিমা হাসাওয়ে বন্যা হয় এবং স্যাটেলাইট মানচিত্রে ৫,১৭৮টি ভূমিধস চিহ্নিত হয়; তিনজন মারা যান, প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হন, দুই শতাধিক বাড়ি ধ্বংস হয়। ২০২৫ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, মাটি দেবে যাওয়ায় বাসিন্দারা বসবাস ও চাষের জমিও হারিয়েছেন; তাঁরা এর জন্য আগের খননকে দায়ী করেন, যা মাটিতে আলগা বালু রেখে গেছে।
২০২৬ সালের জুলাইয়ে আরও বড় দুর্যোগ নামে উজান আসামে। লেখক উল্লেখ করেন, স্বাধীন বিবরণে এর জন্য নাগিনীমরার আশপাশের পাহাড়ে বন উজাড় ও খনন, দিখৌ নদীর তলা থেকে অনিয়ন্ত্রিত বালু-পাথর তোলা এবং আসাম-সংলগ্ন নাগাল্যান্ডের পাঁচ জেলায় র্যাটহোল ও উন্মুক্ত কয়লা খননকে দায়ী করা হয়েছে। শিবসাগর, চরাইদেও ও জোরহাটে ছয় দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় জলাবদ্ধতা হয়; ৬০ জনের বেশি মারা যান, প্রায় ৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন, সতর্কবার্তা প্রায় ছিলই না। দুই জায়গাতেই খনন পাহাড়ের গাছপালা ও মাটির গঠন সরিয়ে দিয়েছিল বলে তাঁর যুক্তি, ফলে সাধারণ বর্ষার বৃষ্টিই দুর্যোগ হয়ে ওঠে।
কলামে বলা হয়েছে, ঝুঁকি বাড়লেও সম্পদ সেদিকে যায়নি। ডিমা হাসাওয়ের এক দুর্যোগ কর্মকর্তা জানান, সরঞ্জাম, অর্থ ও প্রশিক্ষণ এখনো বন্যাকেন্দ্রিক; স্থায়ী পাহাড়ি উদ্ধারদলের জাতীয় পরিকল্পনায় নাম ছিল শুধু জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ ও সিকিমের; আর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে রাজ্য দুর্যোগ কর্তৃপক্ষের প্রধান কেনাকাটা ছিল বন্যা-উদ্ধারের নৌকা।
শইকিয়ার প্রস্তাব: পাহাড়ি ভূখণ্ড ও ধ্বংসাবশেষ-প্রবাহের জন্য প্রশিক্ষিত ও সজ্জিত রাজ্য দুর্যোগ সাড়াদান বাহিনী, বাঁধের মতোই অনুপাতে ঢাল স্থিতিশীল করা ও জলাধার-অঞ্চল পুনরুদ্ধারে অর্থ, আর উজানের খনন, বন উজাড় ও অপরিকল্পিত নির্মাণকে আলাদা দুর্যোগ-ঝুঁকি হিসেবে গণ্য করা।
সূত্র: ডাউন টু আর্থ




মন্তব্য
(০)