রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নের কাচালং সংরক্ষিত বনে গত জুলাই ও আগস্টে বিশেষ ক্যামেরা বসিয়ে দেশে অতি বিপন্ন মেঘলা চিতার (ক্লাউডেড লেপার্ড) টিকে থাকার প্রমাণ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। জাগো নিউজে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ড. মো. ফোরকান আলী জানিয়েছেন, একটি-দুটি নয়, বেশ কয়েকটি মেঘলা চিতা আছে এ বনে, আর গবেষকদের মতে সুন্দরবনের পর কাচালংই দেশের বিপন্ন প্রাণীর বড় আবাস।
দলের নেতৃত্ব দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম এ আজিজ। তিনি বলেন, বনের অল্প কিছু জায়গায় ১৭টি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল, সচল ছিল ১৩টি; তাতে মেঘলা চিতাসহ ১১টি বিপন্ন ও অতি বিপন্ন স্তন্যপায়ী এবং অসংখ্য সাধারণ বন্যপ্রাণী ধরা পড়েছে। তালিকায় আছে মার্বেল চিতা, বন কুকুর, এশীয় কালো ভালুক, সাম্বার হরিণ ও এশীয় হাতি। স্থানীয়দের দাবি, বনে বাঘ ও বেশ কিছু গয়ালও আছে।
আইইউসিএন মেঘলা চিতাকে বাংলাদেশে অতি বিপন্ন ঘোষণা করেছে, বৈশ্বিকভাবেও এটি ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায়। গাছে চড়া এ প্রাণীর প্রধান খাবার বানর, কাঠবিড়ালি, ইঁদুর ও পাখি; মাঝে মাঝে বন্য শূকর, হরিণ ও বন ছাগলও শিকার করে।
নিবন্ধে এ মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক সাময়িকী গ্লোবাল ইকোলজি অ্যান্ড কনজারভেশনে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণার কথাও এসেছে। ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ১৩ মাস ধরে কক্সবাজারের ৭ হাজার ৮৫ হেক্টরের ইনানী জাতীয় উদ্যানে ১৫টি ক্যামেরায় ৩২টি স্থান পর্যবেক্ষণ করেন বন অধিদপ্তর, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব গেটিনজেনের গবেষকেরা। এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রামের গভীর বন ছাড়া কক্সবাজারের কোনো সংরক্ষিত বনে মেঘলা চিতার ছবি ধরা পড়েনি; এবার উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, লজ্জাবতী বানর, উল্টোলেজি বানর ও চিতা বিড়ালসহ আরও ২১ প্রজাতির দেখা মিলেছে। উদ্যানের প্রায় ৩ হাজার হেক্টর, মোট আয়তনের প্রায় ৪৪ শতাংশ, মেঘলা চিতার বসবাসের উপযোগী।
বন্যপ্রাণী গবেষক রেজা খান বলেন, মেঘলা চিতা অত্যন্ত বিরল এবং ইনানীর বনে এটিই এখন শীর্ষ শিকারি; সরকারের উচিত এদের এলাকা চিহ্নিত করে বিশেষ সংরক্ষণ, কাঠ আহরণ বন্ধ এবং বসতি থাকলে তা সরানো। গবেষকেরা রোহিঙ্গা শিবিরের সম্প্রসারণ, মানুষের বসতি, জ্বালানির জন্য গাছ কাটা ও কৃষিজমির অবৈধ সম্প্রসারণকে উদ্যানের হুমকি বলেছেন।
সুপারিশের মধ্যে আছে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও বনভূমি দখল বন্ধ, পাহাড়ি ছড়া ও খাল সুরক্ষা এবং উদ্যানের চারপাশে বাফার জোন তৈরি করে স্থানীয় মানুষকে সংরক্ষণে যুক্ত করা। এখনই ব্যবস্থা না নিলে উপকূলীয় এ বনের বিরল স্তন্যপায়ী প্রাণী চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা লেখকের। লেখার মত লেখকের নিজের।
ছবি: frank wouters / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)