এশিয়ায় বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শের সবচেয়ে জরুরি উৎস কীটনাশক, বলছে নতুন একটি প্রতিবেদন; তবে এর ব্যবহার কমাতে গিয়ে কৃষকের ফলন ও আয় ঝুঁকিতে ফেলা যাবে না, এজিনেভিগেটরকে বলেছেন প্রতিবেদনের প্রণেতা। "সাইলেন্ট থ্রেটস, গ্লোবাল স্টেকস: রিজিওনাল সলিউশনস ফর টক্সিসিটি ইন এশিয়া" শিরোনামের প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে আইডি ক্যাপিটাল, সহায়তায় ছিল ডিপ সায়েন্স ভেঞ্চারস ও গ্র্যান্থাম ফাউন্ডেশন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়ায় কীটনাশকের প্রয়োগমাত্রা বেশি, পুরোনো বা অতি বিপজ্জনক সক্রিয় উপাদানের ওপর নির্ভরতা রয়েছে, আর আইনের প্রয়োগ অসম; এতে গবাদিপশু ও মাছচাষে অবশিষ্টাংশ জমার ঝুঁকি বাড়ে। আইডি ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা ইসাবেল দেসিত্রে (Isabelle Decitre) সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার দিকে যাওয়ার আহ্বান জানান, যেখানে জৈব বালাইনাশক হবে প্রধান হাতিয়ার। তবে তাঁর কথায়, এর কোনো জাদুকরী সমাধান নেই। নির্ভুল স্প্রে ও প্রিসিশন ফার্মিং প্রচলিত রাসায়নিক ব্যবহার করলেও অপ্রয়োজনীয় প্রয়োগ কমায়, বলেন তিনি।
দেসিত্রে বলেন, কৃষক সবচেয়ে বেশি চান নিশ্চয়তা; জৈব বালাইনাশক অনেক সময় ধীরে কাজ করে, নতুন পদ্ধতি শিখতে হয়, তাই বদলের ঝুঁকির প্রায় পুরোটাই কৃষকের ঘাড়ে। দুটি উপায়ের কথা বলেন তিনি: সরবরাহকারী টাকা পাবে মাপা ফলাফলে, যেমন ফলন বাড়া বা খরচ কমা; আর ধাপে ধাপে বদল, শুরুতে রাসায়নিকের সামান্য অংশ বদলে। বিকল্প ছাড়া নিষেধাজ্ঞা টেকে না, বলেন তিনি; উদাহরণ ইউরোপে নিওনিকোটিনয়েড নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়া। তাঁর ভাষায়, ভালো সমাধান না দিয়ে নিষিদ্ধ করলে কৃষক শুধু গরিবই হন।
তিনি চীনের "২০২০ সালের মধ্যে কীটনাশক ব্যবহারে শূন্য প্রবৃদ্ধি" কর্মপরিকল্পনাকে আদর্শ হিসেবে দেখিয়েছেন, যার ভিত্তি নিয়ন্ত্রণ, বিকল্প, নির্ভুলতা ও পেশাদারি: উপকারী পোকা ও ফেরোমন ফাঁদের মতো জৈব ও যান্ত্রিক দমনে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা, প্রশিক্ষিত পেশাদার স্প্রে সেবা, আর ছোট ও সমান ফোঁটা ছড়ানো নজলসহ ড্রোনে স্প্রে। চীন স্বয়ংক্রিয়, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) চালিত পোকার ফাঁদসহ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রেও বিনিয়োগ করেছে, যা মাঠে পোকা চোখে পড়ার আগেই কৃষককে সতর্ক করে।
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ধানপ্রধান দেশগুলোতে কীটনাশকের ব্যবহার বেশি। প্রতিবেদনের বার্তা সেখানে বাস্তব: পূর্বাভাস, নির্ভুল প্রয়োগ আর ধীরে ধীরে জৈব বালাইনাশক গ্রহণ কৃষককে এক মৌসুমের ঝুঁকি না নিয়েই রাসায়নিকের বোঝা কমাতে পারে।
ছবি: Christopher Hedreyd, PIA 4A CALABARZON / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: এজিনেভিগেটর





মন্তব্য
(০)