খুলনা জেলার সরকারি তালিকাভুক্ত ৫৭২টি প্রবহমান খালের মধ্যে চলতি বছর ৩২টি খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, খালগুলোতে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরলে বর্ষায় কৃষিজমির পানি সহজে নামবে, আর শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য পানির একটি বিকল্প উৎস তৈরি হবে।
একসময় খুলনার নদ-নদীর সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য খাল বর্ষার বাড়তি পানি সরাত, শুকনো মৌসুমে সেচের পানি জোগাত এবং দেশি মাছের চলাচল ও প্রজননের জায়গা ছিল। পলি জমা, দখল, অপরিকল্পিত স্থাপনা ও প্রবাহে বাধার কারণে এর অনেকগুলো সরু হয়ে গেছে বা প্রবাহ হারিয়েছে। ফলে বর্ষায় জমিতে জলাবদ্ধতা আর শুষ্ক মৌসুমে সেচসংকট দেখা দিচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসল ও কৃষকের আয়।
খুলনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম জানান, জেলায় বিআরডিসি, বিভিএম, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) খাল খননের কাজ করেছে। ভারী বৃষ্টির কারণে তালিকাভুক্ত কয়েকটি খালে খননকাজ করা সম্ভব হয়নি।
খালের পানি সেচে ব্যবহার করা গেলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে; পাম্প চালানো ও জ্বালানি কেনার খরচ কমলে কমবে উৎপাদন খরচও। পানি ব্যবস্থাপনা ভালো হলে কৃষকেরা ধানের পাশাপাশি সবজিসহ উচ্চমূল্যের ফসলে আগ্রহী হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ সুফল নির্ভর করবে সারা বছর খালে প্রয়োজনমতো পানি থাকার ওপর।
খাল সচল হলে দেশি মাছের চলাচল ও প্রজননের পরিবেশ ফিরতে পারে, রক্ষা পেতে পারে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসও। খালকেন্দ্রিক পরিকল্পিত মাছ চাষ স্থানীয় মানুষের বিকল্প আয়ের পথ খুলতে পারে।
কৃষক সংগঠনের নেতা মো. রফিকুল ইসলাম খনন করা খাল দখলমুক্ত রাখা, নতুন দখল ঠেকানো, নদী ও খালের সংযোগমুখ সচল রাখা, জোয়ার-ভাটার সঙ্গে মিলিয়ে পানি ব্যবস্থাপনা এবং পরিকল্পিতভাবে পলি সরানোর ওপর জোর দিয়েছেন। কোন খাল আগে খনন হবে আর কীভাবে রক্ষণাবেক্ষণ হবে, সে পরিকল্পনায় কৃষক, জনপ্রতিনিধি, কৃষি বিভাগ, পানি উন্নয়ন দপ্তর ও পরিবেশকর্মীদের যুক্ত করার কথাও বলছেন সংশ্লিষ্টরা; নইলে পলি আর দখলে খালগুলো আবার আগের দশায় ফিরতে পারে। এগ্রিকেয়ার২৪ প্রতিবেদনটি দৈনিক ইনকিলাবের সূত্রে প্রকাশ করেছে।
ছবি: Ashikul Islam Anik / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪





মন্তব্য
(০)