কক্সবাজারে লবণ উৎপাদনের মৌসুম শেষে যে মাঠ একসময় পড়ে থাকত, সেখানে এখন লবণসহিষ্ণু জাতের ধান ফলাচ্ছেন কৃষকেরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রমাণিক জানান, চলতি খরিফ-২ মৌসুমে (১৬ জুলাই থেকে ১৫ অক্টোবর) জেলার ৩,৬০৭ হেক্টর লবণাক্ত জমিতে ধান চাষ হয়েছে, যা আগের মৌসুমের চেয়ে ৫৫ হেক্টর বেশি।
অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের হিসাবে জেলার কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া, ঈদগাঁও, রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও সদরে লবণ জমি আছে ৩০,৬৮০ হেক্টর। রবি, খরিফ-১ ও খরিফ-২ তিন মৌসুম মিলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে লবণ জমিতে ধান হয়েছে ৫,৮৯১ হেক্টরে, আগের অর্থবছরে ছিল ৫,৮০২ হেক্টর। এর মধ্যে পেকুয়ায় ৩,৫০৯ হেক্টর, চকরিয়ায় ১,৩৯২, মহেশখালীতে ৫৫০, টেকনাফে ৩০০, উখিয়ায় ৬০ এবং রামু ও কুতুবদিয়ায় ৪০ হেক্টর করে।
চাষিরা জানান, লবণাক্ত হাওয়া আর লবণপানির ছোঁয়া লাগা বিলে আগে ঘাসও ঠিকমতো জন্মাত না; লবণ মৌসুমের পর মাঠ অনাবাদি পড়ে থাকত। প্রথমে ব্রি ধান৪৭ এলেও অনেক এলাকায় তার ফলন কম ছিল। এখন এলাকাভেদে উপযোগী একাধিক জাত আছে। কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে লবণ মাঠে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে উচ্চফলনশীল ব্রি ধান৭৫; সঙ্গে আছে ব্রি ধান৩৩, ব্রি ধান৪৯, বিনা ধান৭ এবং স্থানীয় বিন্নি ও পাইজাম। স্বল্পমেয়াদি এসব জাত ১০০ থেকে ১২০ দিনে পাকে, ফলে ধান তুলে সময়মতো আবার লবণ চাষে নামা যায়।
টেকনাফ উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১১,০৭০ হেক্টরে ধান চাষ হচ্ছে; এর মধ্যে খরিফ-২ মৌসুমে লবণাক্ত জমিতে আবাদ হয়েছে ২০২ হেক্টরে: হোয়াইক্যংয়ে ৫০, হ্নীলায় ৯০, সাবরাংয়ে ৪৫, সদরে ১৫ ও বাহারছড়ায় ২ হেক্টর। শাহপরীর দ্বীপের কৃষক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, দশকের পর দশক মাঠে লবণাক্ততা বাড়ায় বর্ষায় স্বাভাবিক ফসল হচ্ছিল না; লবণসহিষ্ণু জাত আসার পর লবণ মৌসুম বাদে বছরে দুই থেকে তিনবার ধান করা যাচ্ছে।
ড. বিমল কুমার প্রমাণিক বলেন, লবণাক্ততা বাড়ছে এমন এলাকায় এসব জাত জনপ্রিয় হচ্ছে, উপজেলা কৃষি অফিসগুলো কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে, আর আগ্রহী কৃষকদের বীজ ও সার দেওয়ার কার্যক্রম চলবে। চাষিরা চান ইউনিয়নভিত্তিক বীজ ডিলার, যাতে লবণসহিষ্ণু জাতের বীজ হাতের কাছে মেলে। তাঁদের মতে, প্রণোদনায় বীজ-সার মিললে জেলার প্রায় সব লবণ মাঠ ধীরে ধীরে ধান চাষের আওতায় আসতে পারে, যদিও টেকনাফের বিপুল লবণ মাঠ এখনো মৌসুম শেষে পড়ে থাকে।
প্রতিবেদনটি জাগো নিউজের সায়ীদ আলমগীরের।
ছবি: Muntasir du / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)