ইসলামে বিশেষ পরিস্থিতিতে দাম্পত্য বিচ্ছেদের পথ খোলা থাকলেও তালাককে সবসময় নিরুৎসাহিত করা হয়েছে; শরিয়তে একে ‘সর্বনিকৃষ্ট হালাল’ বলা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহর কাছে হালাল বিষয়ের মধ্যে তালাকের চেয়ে অধিক ঘৃণিত আর কিছু নেই (আবু দাউদ, হাদিস: ২১৭৭)।
ইত্তেফাক এ বিষয়ে এক পাঠকের প্রশ্ন তুলে ধরেছে। তাঁর স্ত্রী বাবার বাড়িতে, শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে মনোমালিন্য চলছে এবং তাঁরা স্ত্রীকে ফেরত পাঠাবেন না বলেছেন। এক শুভাকাঙ্ক্ষীর সঙ্গে আলাপে তিনি বলেছিলেন, স্ত্রী তাঁর কাছে এলে আলহামদুলিল্লাহ, আর বাবা-মায়ের দিকে গেলে তিনি ‘যাও’ বা এমন কিছু বলবেন; ঠিক কী বলেছিলেন এখন মনে নেই। এতে কি তালাক হয়ে গেছে, সেই দুশ্চিন্তা তাঁর।
ফকিহদের মত হলো, বর্ণিত ঘটনায় তিনি স্ত্রীকে উদ্দেশ করে সরাসরি কিছু বলেননি, অন্য একজনের সঙ্গে আলাপে ভবিষ্যতের একটি কথা বলেছেন, আর শব্দটিও নিশ্চিতভাবে মনে নেই। এমন অস্পষ্ট কথায় তালাক সংঘটিত হয়েছে বলে গণ্য হবে না।
কারণ, তালাক হতে হলে তালাকবাচক স্পষ্ট শব্দ, অথবা তালাকের নিয়তে স্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলা কেনায়া (রূপক) শব্দ দরকার। সন্দেহ, অনুমান বা স্মৃতির অস্পষ্টতার ভিত্তিতে তালাক সাব্যস্ত হয় না।
হানাফি ফিকহের সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি হলো, নিশ্চিত বিষয় সন্দেহ দ্বারা দূর হয় না। দাম্পত্য সম্পর্ক নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত, তাই কেবল সন্দেহ, স্মৃতির অস্পষ্টতা বা ওয়াসওয়াসার কারণে তা ভেঙে গেছে বলে ধরা যাবে না। প্রশ্নে বর্ণিত তথ্যের ভিত্তিতে তাই তাঁর স্ত্রীর ওপর কোনো তালাক হয়নি।
তবে ফকিহরা পরামর্শ দিয়েছেন, ভবিষ্যতে তালাক-সংক্রান্ত শব্দ বা ইঙ্গিতপূর্ণ বাক্য এড়িয়ে চলা উচিত। রাগ বা আবেগের মুহূর্তে এমন কথা অনেক সময় অকারণ দুশ্চিন্তার কারণ হয়।
ছবি: কোরআন শরিফ, Habib M'henni / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ইত্তেফাক





মন্তব্য
(০)