১৯৪৮ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের খামারে উৎপাদন হয়েছে প্রায় তিন গুণ, অথচ মোট উপকরণের ব্যবহার বেড়েছে সামান্যই। মার্কিন কৃষি বিভাগের অর্থনৈতিক গবেষণা শাখা ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিসের (ইআরএস) নতুন এক চার্টে এই চিত্র উঠে এসেছে। এখানে উৎপাদন বলতে এক বছরে পশুসম্পদ, ফসল ও খামারসংশ্লিষ্ট অন্য পণ্য বোঝানো হয়েছে।
৭৫ বছরে মোট উপকরণ বেড়েছে বছরে গড়ে মাত্র ০.১২ শতাংশ। তবে এই ছোট সংখ্যার আড়ালে উপকরণের ধরনে বড় বদল ঘটে গেছে।
এই সময়ে খামারের শ্রম কমেছে ৭৩ শতাংশ, জমির ব্যবহার কমেছে ২৮ শতাংশ। উল্টো দিকে সার, বালাইনাশক, জ্বালানি, পশুখাদ্য ও কেনা সেবার মতো মধ্যবর্তী উপকরণ বেড়েছে ১৪৪ শতাংশ। যন্ত্রপাতি ও খামারের স্থাপনাসহ মূলধনী উপকরণ বেড়েছে ১০৬ শতাংশ।
ইআরএসের ব্যাখ্যা, প্রযুক্তিই এই বদলের পেছনে। প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে যন্ত্র ও কৃষি রাসায়নিক সস্তা ও বেশি কার্যকর হয়েছে, তাই কৃষকেরা কম শ্রম ও কম জমিতে এগুলো বেশি ব্যবহার করতে পেরেছেন।
আসল কথাটি লুকিয়ে আছে উপকরণ আর উৎপাদনের ব্যবধানে। কৃষি উৎপাদন বছরে বেড়েছে ১.৫২ শতাংশ পয়েন্ট, উপকরণ বেড়েছে ০.১২ পয়েন্ট। বাকি ১.৪ শতাংশ পয়েন্টকে বলা হয় মোট উপাদান উৎপাদনশীলতা, আর ইআরএস একেই যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি বলছে।
সহজ কথায়, দীর্ঘ এই সময়ে মার্কিন খামারের উৎপাদন বৃদ্ধির প্রায় পুরোটাই এসেছে প্রতিটি উপকরণ থেকে বেশি ফল পাওয়ার মধ্য দিয়ে, মোট সম্পদ বাড়িয়ে নয়।
চার্টটি তৈরি করেছেন এরিক এনজুকি (Eric Njuki)। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ইআরএসের ‘এগ্রিকালচারাল প্রোডাক্টিভিটি ইন দ্য ইউনাইটেড স্টেটস’ তথ্যভান্ডার, যা ২০২৬ সালের জুলাইয়ে হালনাগাদ হয়েছে।
সূত্র: ইউএসডিএ ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস





মন্তব্য
(০)