প্রতি শনিবার ও বুধবার ভোর থেকে রাঙামাটি শহরের কলেজ গেট থেকে সদর হাসপাতাল পর্যন্ত আধা কিলোমিটার সড়ক জুড়ে বসে পাহাড়ি হাট। পাহাড়ের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় নিজেদের উৎপাদিত শাকসবজি, ফলমূল ও নানা কৃষিপণ্য নিয়ে আসেন বিক্রেতারা। হাটের ব্যবসায়ীদের হিসাবে, প্রতি হাটের দিনে এখানে প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার পণ্য কেনাবেচা হয়।
কাপ্তাই হ্রদের তীরের কাইন্দ্যা, বন্দুকভাঙ্গা, বালুখালী, বসন্তপাড়া, মাইসছড়ি, নানিয়ারচর ও বুড়িঘাটসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাটের দিনে ২০ থেকে ৩০টি করে নৌকা আসে, একেকটিতে ১৫ থেকে ২০ জন। বিক্রেতাদের মধ্যে নারীর সংখ্যাই বেশি। মৌসুম অনুযায়ী জুমের ফসল তুলে তাঁরা বাজারে আনেন।
বাজারে মেলে সাবারাং পাতা, বাঁশকোঁড়ল, মারফা, ধাইন্যা মরিচ, কচুর ছড়া, কলার থোড় ও মোচা, জুমের কুমড়া, বেগুন ও কচু, তিত বেগুন, নানা রকম শাক। ফলের মধ্যে আছে ড্রাগন, পাহাড়ি মাল্টা, জলপাই, তেঁতুল, জাম্বুরা ও আনারস। কলার আলাদা পসরা বসে, যেখানে বাংলা কলার প্রাধান্য। কাপ্তাই হ্রদের মাছ, বাঁশের দই ও গ্রাম থেকে বোতলে আনা গরুর দুধেরও চাহিদা আছে।
দামও চোখে পড়ার মতো। জুমের লাউ বিক্রি হচ্ছে পিস ৩০ টাকায়, বড় কচু কেজি ৭০ টাকা, মূলা ও লাল শাক আঁটি ৩০ টাকা, কলার মোচা পিস ২০ টাকা, ধাইন্যা মরিচ কেজি ২০০ টাকায়। বিক্রেতা ননীবালা চাকমা শামুক বিক্রি করছেন কেজি ২৫০ টাকায়, ক্ষীরা ৮০ টাকায়।
চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বাঙালিরাও এখানে নিয়মিত আসেন। ক্রেতা আব্দুল খালেক ও নুরুল আবছার বলেন, তরতাজা ও বিষমুক্ত মনে করেই তাঁরা পরিবারের জন্য জুমের সবজি কিনতে আসেন। জুমের ফসল সরাসরি শহরের ক্রেতার হাতে পৌঁছে দেওয়ার এই হাটই পাহাড়ের বহু পরিবারের নগদ আয়ের পথ।
প্রতিবেদনটি করেছেন বাংলানিউজের ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট মঈন উদ্দীন বাপ্পী।
ছবি: MOHAMMAD SHAJAHAN Bangladesh / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)