খুচরা বিক্রেতাদের কড়া মান, জ্ঞানের ঘাটতি ও নীতির অনিশ্চয়তায় যুক্তরাজ্যের তাজা ফল ও সবজি খাতে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) এগোচ্ছে না। ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার বরাতে এ কথা জানিয়েছে এগনেভিগেটর। কৃষক, কৃষিবিদ, খুচরা বিক্রেতা, নীতিনির্ধারক, গবেষক ও ফসল সুরক্ষা কোম্পানি মিলিয়ে ২৪ জনের সাক্ষাৎকার থেকে ১০টি পরস্পর জড়িত বাধা পাওয়া গেছে।
আইপিএমে ফসল ও আবাসস্থল ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, জৈব নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে লক্ষ্যভিত্তিক বালাইনাশক একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়। লক্ষ্য বালাইনাশকের ওপর নির্ভরতা কমানো।
সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি ফসলের চেহারা। বাজারে দাগহীন ফল-সবজির প্রত্যাশা থাকায় আগ্রহ থাকলেও কৃষকেরা নিয়মিত স্প্রে ছাড়তে দ্বিধা করেন। মান সামান্য পড়লেই বাজার হারানোর ভয় থাকে বলে পদ্ধতি বদলানোকে তাঁরা ব্যবসায়িক ঝুঁকি মনে করেন।
ফসলভেদে আইপিএমের মানে আলাদা হওয়ায় একক কৌশল ঠিক করা কঠিন। বালাইনাশক কমানোর লক্ষ্য, বাণিজ্য চুক্তি ও সরকারি নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তাও বিনিয়োগে বাধা দেয়। গ্রহণের মাত্রা মাপার বা উৎসাহ দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থাও নেই।
অংশগ্রহণকারীরা জানান, ফসল পর্যবেক্ষণ, বালাইয়ের সীমা, ক্যাচ ক্রপ ও জৈব বালাইনাশক নিয়ে হাতে-কলমে জ্ঞানের অভাব আছে। গবেষণায় বিনিয়োগ কম, কৃষক ও গবেষকের যোগাযোগও দুর্বল। প্রতিযোগিতার কারণে কৃষকেরা অভিজ্ঞতা ভাগ করতে চান না। ২০২২ সালে এএইচডিবি হর্টিকালচার বন্ধ হওয়াকে তাঁরা বড় ধাক্কা বলছেন।
প্রধান গবেষক অধ্যাপক রোজমেরি কলিয়ার (Rosemary Collier) বলেন, প্রতিটি ফসল ও উৎপাদনব্যবস্থার বাস্তবতার ভেতরেই আইপিএমকে কাজ করতে হবে। কী কাজ করে তার নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং ফসলের মান ঝুঁকিতে না ফেলে নতুন পদ্ধতি পরখ করার সহায়তা কৃষকের দরকার।
ছবি: Dietrich Krieger / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)