বন্যার পানির সঙ্গে আসা কচুরিপানা চলনবিলের মাঠে মাঠে আটকে থেকে রবি মৌসুমের চাষ নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে। সহজে ও কম খরচে এই কচুরিপানা সরাতে কৃষকদের একাংশ এখন আগাছানাশক ও বালাইনাশক দিচ্ছেন। এতে বিলের পানি ও মাটি দূষণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ঝুঁকিতে পড়ছে মাছ, ব্যাঙ, শামুক, পাখি ও জলজ কীটপতঙ্গ।
বন্যায় ভেসে আসা ছোট কচুরিপানার পানি নামার সঙ্গে সরে যাওয়ার কথা। কিন্তু পানি প্রবাহের মুখে বাঁধ, পুকুর খনন ও মাছ ধরার ধেয়ার কারণে তা বের হতে না পেরে বংশ বাড়িয়ে পুরো বিলে ছড়িয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে একই পরিস্থিতি হচ্ছে। সরিষা চাষ নিয়েই এবার সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা।
সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, এ বছরও উপজেলার ৫ থেকে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে কচুরিপানা রয়েছে এবং কিছু জমি অনাবাদি থাকায় কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে। তিনি কৃষকদের বিষ না দিয়ে কচুরিপানা তুলে জৈব সার হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁর মতে, খাল ও নদীর মুখে জাল-বানার অবৈধ প্রতিবন্ধকতা এবং জমিতে অপরিকল্পিত পুকুর খননই মূল কারণ।
কৃষকদের ভাষ্য, রবি ফসল ও বোরোর আগে জমি পরিষ্কারে বিঘাপ্রতি বাড়তি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা লাগছে। সিংড়ার ইন্দ্রাসন গ্রামের আব্দুল করিম বলেন, একবার পরিষ্কার করলেও আবার কচুরিপানা জমেছে, মজুরি বেড়েছে, শ্রমিকেরও সংকট। ডাহিয়া গ্রামের রুহুল আমিনের ১৫ বিঘা জমি লিজ দিতে চাইলেও আগ্রহী কাউকে পাচ্ছেন না।
চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, অবাধে আগাছানাশক দেওয়ায় মাছ ও পাখিসহ জলজ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হচ্ছে, এমন চললে খাদ্য উৎপাদনও ব্যাহত হতে পারে। পরিবেশবিদদের মতে, এসব রাসায়নিক বৃষ্টি ও বিলের পানিতে মিশে পুরো জলজ পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। নদী ও খালের সংযোগ বন্ধ থাকা এবং নিষিদ্ধ চায়না জাল দেশি মাছের প্রজননের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: কৃষি সময়


মন্তব্য
(০)