সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩০°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬৯%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় বুনো শূকরের আক্রমণে আহত চারজন

২০২৬ সালের ২ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পৃথক দুটি ঘটনায় বুনো শূকরের আক্রমণে চারজন আহত হন। স্থানীয়দের ভাষ্য, শূকরটি ভারত থেকে এসেছে; উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, রাতে সীমান্ত পেরিয়ে আসা শূকর ফসলের ক্ষতি করছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় বুনো শূকরের আক্রমণে আহত চারজন
পরিবেশ

ভারত সীমান্তঘেঁষা দেশের উত্তর-পশ্চিমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় বুনো শূকরের আক্রমণে চারজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে। জাগো নিউজ জানায়, উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নে এবং শ্যামপুর ইউনিয়নের কামাত গ্রামে এসব আক্রমণ হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, শূকরটি ভারত থেকে এসেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, সন্ধ্যার পর ভারতের দিক থেকে আসা বুনো শূকর সীমান্ত এলাকায় ফসলের ক্ষতি করছে এবং কৃষকেরা রাত জেগে জমি পাহারা দিচ্ছেন।

যেভাবে ঘটে দুটি আক্রমণ


শ্যামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা শহিদুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুরে বড় হাদিনগর গ্রামের নাসির উদ্দিন বিনোদপুর বাজার থেকে ছাগলের জন্য ঘাস নিয়ে সাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। একটি আমবাগানের ভেতরের পথ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি বুনো শূকর তার ওপর আক্রমণ করে এবং তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন; প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। একই দিন সন্ধ্যায় আগেভাগে খবরটি প্রকাশ করা দৈনিক ইত্তেফাকের শিবগঞ্জ সংবাদদাতা হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল হিসেবে উল্লেখ করেন।

দ্বিতীয় ঘটনায় বিনোদপুর ইউনিয়নের একটি বাগানে কয়েকজন শ্রমিক আমে স্প্রে করার কাজ করছিলেন। এ সময় বুনো শূকরটি তাদের ওপর আক্রমণ করলে তিনজন আহত হন। ইত্তেফাক লিখেছে, একই দিনে ওই এলাকার আরেকটি আমবাগানে স্প্রে করার সময় এই তিন শ্রমিক আক্রমণের শিকার হন। দুই প্রতিবেদনেই আহতদের নাম এসেছে: শ্যামপুর ইউনিয়নের কামাত গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে জনি, মফিজুদ্দিনের ছেলে ডালিম ও আব্দুল হাকিমের ছেলে মুলি এবং হাদিনগর গ্রামের নাসির উদ্দিন।

স্থানীয়রা জাগো নিউজকে জানান, বুনো শূকরটির দেহ দেখতে বিড়ালজাতীয় প্রাণীর মতো বৈশিষ্ট্যের এবং এটি ভারত থেকে আসে। গ্রামবাসী ধাওয়া দিলে সেটি দ্রুত পালিয়ে যায় এবং পরে আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। প্রাণীটিকে ধরা হয়েছে বা বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা পরীক্ষা করেছেন, এমন কোনো তথ্য দুই প্রতিবেদনের কোনোটিতেই নেই; তাই প্রাণীটির বর্ণনা গ্রামবাসীর দেখার ওপরই নির্ভর করছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীতে চিকিৎসা


শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল উদ্দিন জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ইত্তেফাকও জানায়, চারজনের একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আঘাতের ধরন নিয়ে কোনো প্রতিবেদনেই বিস্তারিত বর্ণনা নেই।

এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ার তালিকা অনুযায়ী, উপজেলার নিজস্ব স্বাস্থ্যসেবার মধ্যে রয়েছে একটি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, আটটি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র, দুটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, একটি মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পাঁচটি পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ১২৮টি স্যাটেলাইট ক্লিনিক এবং ১৮টি ক্লিনিক। এর বাইরে রোগীরা যান জেলা হাসপাতালে, যেখানে নাসির উদ্দিনকে ভর্তি করা হয়, এবং রাজশাহীতে, যেখানে চারজনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর আহত ব্যক্তিকে পাঠানো হয়।

সীমান্তে ফসলের ক্ষতি: কৃষি কর্মকর্তার ভাষ্য


শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন ফসলি জমিতে বুনো শূকর আক্রমণ করছে এবং নানা ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। তার বর্ণনায়, যে শূকরগুলোকে তিনি ভারতীয় বুনো শূকর বলে উল্লেখ করেন, সেগুলো সন্ধ্যার পর অন্ধকার ঘনিয়ে এলে দেশে ঢোকে এবং ভোর হওয়ার আগেই আবার ভারতের জঙ্গলে ফিরে যায়। এ অবস্থায় কৃষকেরা রাত জেগে জমি পাহারা দিচ্ছেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

কোন কোন ফসলের ক্ষতি হয়েছে বা ক্ষতির পরিমাণ কত, কর্মকর্তা তা জানাননি; দুই প্রতিবেদনের কোনোটিতেই কোনো হিসাব নেই। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০০১ ও ২০১১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে তৈরি বাংলাপিডিয়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিচিতিতে প্রধান ফসল হিসেবে ধান, আখ, গম, ভুট্টা, আলু, পান ও শাকসবজি এবং প্রধান ফল হিসেবে আম, কাঁঠাল ও লিচুর নাম রয়েছে। সেখানে আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে কৃষির হার ৫৯.২৫ শতাংশ, এরপর ব্যবসা ১৮.৮৯ শতাংশ; আর ৪৮.৭১ শতাংশ মানুষের কোনো কৃষিজমি নেই বলে উল্লেখ আছে।

অন্ধকার নামার পর প্রাণীগুলোর বেরিয়ে আসার যে চিত্র কর্মকর্তা দিয়েছেন, তা প্রাণীবিজ্ঞানীদের নথিভুক্ত আচরণের সঙ্গে মেলে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের প্রাণী তথ্যভান্ডার অ্যানিমাল ডাইভারসিটি ওয়েব জানায়, আবাসস্থলভেদে বুনো শূকর দিনে বা রাতে সক্রিয় থাকতে পারে। গরম আবহাওয়ায় এরা দিনে মোটামুটি নিষ্ক্রিয় থাকে, ছায়ায় বিশ্রাম নেয় এবং শরীর ঠান্ডা রাখতে পানি-কাদায় গড়াগড়ি দেয়; আর খাবার খোঁজা সাধারণত বাড়ে সন্ধ্যার শেষভাগে, যখন এরা খাবারের সন্ধানে খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসে। দিনের আলোয় খেলেও এরা সাধারণত খোলা জায়গা এড়িয়ে চলে, যেখানে বিপদের ঝুঁকি বেশি।

পদ্মা ও মহানন্দার সীমান্ত উপজেলা শিবগঞ্জ


বাংলাপিডিয়ায় রাজশাহী বিভাগের নবাবগঞ্জ জেলা নামে তালিকাভুক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের আয়তন ১ হাজার ৭০২.৫৫ বর্গকিলোমিটার। জেলাটির উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য এবং পূর্বে রাজশাহী ও নওগাঁ জেলা; জেলার ভূমি বরেন্দ্র অঞ্চল, দিয়ারা ও চরভূমি নিয়ে গঠিত। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত নবাবগঞ্জ ছিল মালদহ জেলার একটি থানা; দেশভাগের সময় এটি রাজশাহী জেলার একটি মহকুমায় উন্নীত হয় এবং ১৯৮৪ সালে জেলার মর্যাদা পায়। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জেলার জনসংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৪৭ হাজার ৫২১।

জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে শিবগঞ্জই সবচেয়ে বড়, আয়তন ৫২৫.৪২ বর্গকিলোমিটার, যা জেলার মোট আয়তনের ৩০.৮৬ শতাংশ। উপজেলার উত্তরে ভোলাহাট উপজেলা ও পশ্চিমবঙ্গ, দক্ষিণে নবাবগঞ্জ সদর ও পশ্চিমবঙ্গ, পূর্বে ভোলাহাট, গোমস্তাপুর, নাচোল ও নবাবগঞ্জ সদর উপজেলা এবং পশ্চিমে পশ্চিমবঙ্গ। প্রধান নদী পদ্মা, মহানন্দা, পাগলা ও মরা গঙ্গা। বাংলাপিডিয়া জানায়, শিবগঞ্জের মনাকষা ও দুর্লভপুর ইউনিয়নে যেখানে গঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, সেখান থেকেই নদীটি এ দেশে পদ্মা নামে পরিচিত। শিবগঞ্জ থানা গঠিত হয় ১৯১৩ সালে, পরে তা উপজেলা হয়; ২০১১ সালের আদমশুমারিতে উপজেলার জনসংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৯১ হাজার ১৭৮।

ভারত থেকে বাংলাদেশে ঢোকা একটি খাল; চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সবচেয়ে পশ্চিমের ইউনিয়ন মনাকষার সীমান্তের দিক থেকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে তোলা। ছবি: Tosikul Alam / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ভারত থেকে বাংলাদেশে ঢোকা একটি খাল; চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সবচেয়ে পশ্চিমের ইউনিয়ন মনাকষার সীমান্তের দিক থেকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে তোলা। ছবি: Tosikul Alam / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন রয়েছে; এর মধ্যে বিনোদপুর ও শ্যামপুর, যে দুই ইউনিয়নে আক্রমণের ঘটনা ঘটে। বাংলাপিডিয়ার ইউনিয়ন তালিকায় বিনোদপুরের আয়তন ৭ হাজার ২৪৩ একর এবং শ্যামপুরের ৭ হাজার ৪২৬ একর। শিবগঞ্জ প্রাচীন স্থাপনার জন্যও পরিচিত; এর মধ্যে রয়েছে ছোট সোনা মসজিদ, ১৪৭৯ সালের দারসবাড়ি মসজিদ ও মাদ্রাসা, তোহাখানা নামে পরিচিত শাহ সুজার কাছারিবাড়ি এবং ১৬৬৮-১৬৬৯ সালের শাহ নিয়ামতুল্লাহর সমাধি। বাংলাপিডিয়ার তথ্যে উপজেলার প্রধান রপ্তানিপণ্য আম, গুড়, রেশমি শাড়ি, সুতি কাপড় ও লাক্ষা রং; আর উল্লেখযোগ্য হাটের মধ্যে রয়েছে কানসাট, শিবগঞ্জ, রানীহাটি ও মনাকষা হাট।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ১৭৫ নম্বর সীমান্ত পিলার; ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে তোলা। ছবি: Tosikul bd / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ১৭৫ নম্বর সীমান্ত পিলার; ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে তোলা। ছবি: Tosikul bd / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

এপ্রিলের শুরুতে আমবাগানের কাজ


বিনোদপুরে যে শ্রমিকেরা আক্রান্ত হন, তারা আমে স্প্রে করছিলেন; মৌসুমের এই সময়ে বাগানে এটি নিয়মিত কাজ। বাংলাপিডিয়া জানায়, বাংলাদেশে আমগাছে জানুয়ারি থেকে মার্চে মুকুল আসে, আর মুকুলের সময় কুয়াশা, বৃষ্টি বা মেঘলা আবহাওয়া গুটি ধরায় ক্ষতি করে। গুটি বড় হওয়ার সময় হালকা বৃষ্টি উপকারী, কিন্তু ঝড়, বিশেষ করে শিলাবৃষ্টিতে প্রায়ই কাঁচা আম ঝরে পড়ে।

আমের ফলন কম হওয়ার প্রধান কারণগুলোর একটি পোকামাকড় ও রোগবালাই। বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, বাংলাদেশে চারা অবস্থা থেকে পূর্ণবয়স্ক গাছ পর্যন্ত প্রায় তিন ডজন প্রজাতির পোকা আমগাছ আক্রমণ করে; প্রধানগুলো হলো আমের হপার বা শোষক পোকা, আমের ফলের উইভিল, কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা, ডগা ছিদ্রকারী পোকা ও ফলের মাছি। অ্যানথ্রাকনোজ, শুটি মোল্ড, পাতা ঝলসানো, আগামরা ও পাউডারি মিলডিউর মতো ছত্রাকজনিত রোগ এবং ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতার দাগ রোগেও যথেষ্ট ক্ষতি হয়। আক্রান্ত মুকুলে খুব কম বা কোনো ফলই ধরে না, আর আক্রান্ত ফল আগেভাগে ঝরে পড়ে বা খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে যায়; এ কারণেই বাগানমালিকেরা মুকুল ও গুটির সময় ফসল রক্ষায় ব্যবস্থা নেন।

বাংলাদেশের উন্নত জাতের আম মূলত রাজশাহী, নবাবগঞ্জ ও দিনাজপুরে চাষ হয়। দেশে প্রায় ১০০টি জাতের মধ্যে উন্নত জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হিমসাগর, ক্ষীরশাপাতি, আশ্বিনা, কোহিতুর, লক্ষ্মণভোগ ও মোহনভোগ। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে ২০০৫-০৬ সালে দেশে প্রায় ৬ লাখ ৪১ হাজার ৫২৫ একর জমি থেকে প্রায় ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৮২০ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়। কম উৎপাদনের কারণ হিসেবে সেখানে পুরোনো ও অনুৎপাদনশীল গাছ, পরিচর্যার অভাব, পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনের ব্যবস্থা না থাকা, বীজ থেকে চারা করা এবং ফলদ গাছ কেটে ফেলার কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) তাদের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধীনে ১৯৮৫ সালে নবাবগঞ্জে আম গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে; আমের চাষাবাদ, জাত উন্নয়ন ও উৎপাদনের সব দিক নিয়ে গবেষণা করাই এর লক্ষ্য। কেন্দ্রটির আয়তন প্রায় ১২.৪০ হেক্টর এবং সেখানে প্রায় ৬৫টি জাতের ৩০০টির বেশি আমগাছ রয়েছে। এ ছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সারা দেশে তাদের বাগান, হর্টিকালচার সেন্টার ও নার্সারি থেকে উন্নত জাতের আমের কলম উৎপাদন ও বিতরণ করে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি আমগাছ। ছবি: Mahmudul Karim Farsad / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি আমগাছ। ছবি: Mahmudul Karim Farsad / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

বুনো শূকর কেমন প্রাণী


বুনো শূকর (Sus scrofa) আর গৃহপালিত শূকর একই প্রজাতির; গৃহপালিত শূকরকে এর উপপ্রজাতি Sus scrofa domesticus হিসেবে ধরা হয়। অ্যানিমাল ডাইভারসিটি ওয়েবের বর্ণনায়, বুনো শূকর বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত একটি প্রজাতি, যার উৎপত্তি ইউরোপ ও এশিয়ায় এবং ইউরেশিয়াজুড়ে এটি সাধারণ প্রাণী; অন্যত্রও ব্যাপকভাবে ছড়ানো হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও ক্যালিফোর্নিয়ায় এটি আগ্রাসী প্রজাতি হিসেবে বিবেচিত। ঘাসভূমি, বনাঞ্চল, কৃষিএলাকা, ঝোপঝাড় ও জলাভূমিতে এরা বাস করে। কাছাকাছি পানির উৎস এবং আশ্রয়ের জন্য ঘন ঝোপঝাড় এদের দরকার হয়, আর অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা এরা সাধারণত এড়িয়ে চলে।

প্রাপ্তবয়স্ক বুনো শূকরের মোট দৈর্ঘ্য ১৫৩ থেকে ২৪০ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৬৬ থেকে ২৭২ কিলোগ্রাম; একই বয়সের পুরুষের চেয়ে স্ত্রী শূকর ছোট হয়। ভারী কাঁধের কাছে এদের উচ্চতা ০.৯ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। মোটা ও খসখসে লোমের রং কালো থেকে লালচে-বাদামি, এমনকি সাদা পর্যন্ত হয় এবং কারও কারও পিঠের মাঝ বরাবর লম্বা শক্ত লোম থাকে। বাচ্চারা পিঠে হলদে-বাদামি ডোরা নিয়ে জন্মায়, যা প্রায় চার মাসের মধ্যে মিলিয়ে যায়। ওপরের চোয়ালের শ্বদন্ত বা দাঁতাল সাধারণত ৫ থেকে ১০ সেন্টিমিটার লম্বা হয় এবং মুখ বন্ধ থাকলেও সাধারণত দেখা যায়।

স্ত্রী শূকরেরা 'সাউন্ডার' নামের দলে থাকে, যা সাধারণত ৬ থেকে ২০টি ঘনিষ্ঠ আত্মীয় স্ত্রী শূকর নিয়ে গঠিত, তবে কোনো দলে ১০০টির বেশি প্রাণীও থাকতে পারে। পুরুষ শূকর এক থেকে দুই বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের সঙ্গে থাকে, তারপর দল ছেড়ে যায় এবং সাধারণত কেবল প্রজননকালেই কোনো দলে যোগ দেয়; তখন প্রজননের সুযোগ পেতে এরা খুবই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। বছরের যেকোনো সময় এরা প্রজনন করতে পারে; স্ত্রী শূকর প্রায় ১০ মাস বয়স থেকে প্রজননক্ষম হয়, গর্ভকাল ১০৮ থেকে ১২০ দিন, প্রতিবার গড়ে পাঁচ থেকে ছয়টি বাচ্চা হয় এবং বছরে সর্বোচ্চ দুবার বাচ্চা দিতে পারে।

বুনো শূকর মূলত তার তীক্ষ্ণ ঘ্রাণশক্তি ও শ্রবণশক্তির ওপর নির্ভর করে; মাথার দুই পাশে চোখ থাকায় পাশের দিকেও এরা ভালো দেখতে পায়। আক্রমণাত্মক মনোভাব বোঝাতে এরা গরগর শব্দ করে। এরা সর্বভুক, তবে প্রধানত উদ্ভিজ্জ খাবার খায়, বিশেষ করে ফসল, ফল, বাদাম, শিকড় ও সবুজ উদ্ভিদ; পাশাপাশি পাখির ডিম, মৃত প্রাণী, ছোট ইঁদুরজাতীয় প্রাণী, পোকামাকড় ও কেঁচোও খায় এবং ঋতু ও আবহাওয়াভেদে যা পাওয়া যায় সে অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস বদলায়। এদের বিচরণ এলাকা গড়ে ১.১ থেকে ৩.৯ বর্গকিলোমিটার, আর বন্য অবস্থায় জানা সর্বোচ্চ আয়ু ৯ থেকে ১০ বছর।

অ্যানিমাল ডাইভারসিটি ওয়েব জানায়, আইইউসিএনের লাল তালিকায় প্রজাতিটি 'ন্যূনতম উদ্বেগ' শ্রেণিতে রয়েছে; এ জন্য তারা অলিভার ও লিউসের ২০০৮ সালের মূল্যায়নের উল্লেখ করেছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী নিয়ে বাংলাপিডিয়ার নিবন্ধে দেশের প্রায় ১২০ প্রজাতির স্থলজ স্তন্যপায়ীর মধ্যে জোড়-খুরবিশিষ্ট প্রাণীদের তালিকায় এক প্রজাতির বুনো শূকর (Sus scrofa), তিন প্রজাতির হরিণ ও এক প্রজাতির সেরোর নাম রয়েছে। একই নিবন্ধে বলা হয়েছে, বেশির ভাগ বন্যপ্রাণী বনের ওপর নির্ভরশীল; ১৯৭০-এর দশকের পর থেকে দেশের বনভূমি ৫০ শতাংশের বেশি কমে গেছে বলে অনুমান করা হয় এবং দেশের ৮ শতাংশেরও কম এলাকা বনভূমি।

শূকর ও কৃষিজমি


অ্যানিমাল ডাইভারসিটি ওয়েবের মতে, বুনো শূকর কৃষকের জন্য বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। যেখানে শূকর বেশি, সেখানে প্রায়ই ফসলের ক্ষতি হয়, কারণ খাবার ও আশ্রয় খুঁজতে গিয়ে এরা মাঠ মাড়িয়ে যায়; তা ছাড়া এরা এমন রোগ ও পরজীবী বহন করতে পারে, যা গবাদিপশু ও মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। শূকর ঠেকাতে কৃষকদের ভালো বেড়াও দিতে হতে পারে। তথ্যভান্ডারটি আরও জানায়, গবেষণায় শূকরের সংখ্যা স্থিতিশীল রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে শিকারকে পাওয়া গেছে; অন্য উপায়ের মধ্যে রয়েছে বেড়া, ফাঁদ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত এলাকা থেকে প্রাণীগুলোকে সরিয়ে নিতে নির্দিষ্ট জায়গায় খাবার রাখা।

ভারত সীমান্তবর্তী নেপালের নিম্নভূমিতে করা গবেষণা দেখায়, দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিগ্রামে এই সমস্যা কেমন রূপ নেয়। ২০২৩ সালের এপ্রিলে বিজ্ঞান সাময়িকী প্লস ওয়ানে প্রকাশিত এক গবেষণায় শুক্লাফান্টা জাতীয় উদ্যানের বাফার জোনে ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাতের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়; উদ্যানটির দক্ষিণে ভারতের তৃণভূমি ও বন। সেখানে বন্যপ্রাণীর আক্রমণের শিকার হন ১৯ জন, যার বেশির ভাগই বুনো শূকরের আক্রমণ; শূকরের আক্রমণে ৯ জন আহত ও একজন নিহত হন। বেশির ভাগ আক্রমণ ঘটে গ্রীষ্মে, বসতবাড়ির কাছে বা কৃষিজমিতে, এবং রাতের চেয়ে দিনের বেলাতেই বেশি।

একই গবেষণায় ফসলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে এশীয় হাতি, এরপর বুনো শূকর; শূকরের কারণে নথিভুক্ত ক্ষতির মধ্যে ছিল ১১ হাজার ৯৬ মার্কিন ডলারের ধান ও ৯ হাজার ৩২৪ ডলারের গম। উত্তরদাতারা জানান, আবাদি জমি থেকে তাড়াতে গেলে বুনো শূকর আক্রমণাত্মক আচরণ করে। গবেষকেরা দেখেছেন, হাতি ও গন্ডারের মতো বড় প্রাণীর ক্ষেত্রে যে প্রতিরোধব্যবস্থা কাজে দেয়, বুনো শূকর, হরিণ ও অন্যান্য ছোট স্তন্যপায়ীর ক্ষেত্রে তা কম কার্যকর বলে মনে হয়।

২০১৮ সালের এপ্রিলে প্লস ওয়ানে প্রকাশিত আগের একটি গবেষণায় ১৯৯৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নেপালের চিতওয়ান জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো বন্যপ্রাণীজনিত ক্ষয়ক্ষতি পরীক্ষা করা হয়। মানুষের ওপর ৭৩২টি আক্রমণের মধ্যে বুনো শূকরের কারণে দুজন নিহত ও ৪১ জন আহত হন। গবেষকেরা উল্লেখ করেন, হরিণ ও বুনো শূকরের ফসল নষ্ট করা ব্যাপক হলেও তা জানানো হয় না, কারণ সরকারের ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থায় কেবল হাতি, গন্ডার ও বুনো মহিষের ফসল নষ্ট করার ক্ষতি ধরা হতো।

মানুষের ওপর শূকরের আক্রমণ নিয়ে গবেষণা


মানুষের ওপর বুনো শূকরের আক্রমণের কথা প্রাচীনকাল থেকেই নথিভুক্ত, তবে এ নিয়ে গবেষণা কম। যুক্তরাষ্ট্রের সাভানা রিভার ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির জন জে. মেয়ারের একটি গবেষণাপত্র ২০১৩ সালে পঞ্চদশ ওয়াইল্ডলাইফ ড্যামেজ ম্যানেজমেন্ট কনফারেন্সের কার্যবিবরণীতে প্রকাশিত হয়; এতে সাতটি প্রাণিভৌগোলিক অঞ্চলের ৪১২টি আক্রমণের তথ্য সংকলিত হয়। বেশির ভাগ আক্রমণ ঘটেছে প্রজাতিটির নিজস্ব বিচরণ এলাকায় ও গ্রামীণ এলাকায়, সবচেয়ে বেশি শীতের মাসগুলোতে এবং দিনের আলোয়। বেশির ভাগ ঘটনা শিকারের বাইরে ঘটেছে এবং উসকানি ছাড়াই হয়েছে বলে মনে হয়েছে; আক্রমণকারী প্রাণীগুলো সাধারণত ছিল একাকী, পুরুষ ও আকারে বড়, এবং বেশির ভাগ প্রাণীই অক্ষত অবস্থায় পালিয়ে যায়।

ওই সংকলনে আক্রান্ত মানুষের বেশির ভাগ ছিলেন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ, যারা একা পায়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন; সবচেয়ে সাধারণ পরিণতি ছিল সরাসরি সংঘর্ষ বা ক্ষতবিক্ষত হওয়া। আঘাতের মাত্রা সামান্য থেকে প্রাণঘাতী পর্যন্ত ছিল। ক্ষতবিক্ষত হওয়া বেশির ভাগ মানুষের শরীরের কেবল একটি অংশে আঘাত লেগেছিল, সবচেয়ে বেশি পা ও পায়ের পাতায়, প্রধানত চিরে যাওয়া ও বিদ্ধ হওয়ার ক্ষত; মৃত্যু সাধারণত হয়েছে রক্তক্ষরণে, আর কিছু ক্ষেত্রে আঘাতের পর গুরুতর সংক্রমণ বা বিষক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনার সাভানা রিভার সাইটের তথ্যে দেখা গেছে, এমন ঘটনা বিরল।

২০১১ সালে জার্নাল অব ম্যাক্সিলোফেসিয়াল অ্যান্ড ওরাল সার্জারিতে প্রকাশিত ভারতের নাগপুরের একটি কেস রিপোর্টে বলা হয়, আবাসস্থল নিয়ে প্রতিযোগিতার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মানুষ ও প্রাণীর সংস্পর্শ বেড়েছে। লেখকেরা উল্লেখ করেন, প্রাণীর আক্রমণে হওয়া আঘাত বেশির ভাগই নরম টিস্যুর আঘাত ও মুখমণ্ডলের হাড় ভাঙা, এবং গবেষণা সাহিত্য অনুযায়ী এগুলো সবচেয়ে বেশি দেখা যায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে। তারা যে রোগীর কথা বর্ণনা করেন, তার নরম টিস্যুর আঘাতের সঙ্গে নিচের চোয়ালের হাড় ভেঙেছিল এবং ঘাড়ের মেরুদণ্ডে স্থানচ্যুতিহীন ফাটল ছিল।

শিবগঞ্জের আক্রমণগুলোর সঙ্গে এসব নথির কয়েকটি মিল রয়েছে: ঘটনাগুলো ঘটেছে গ্রামের আমবাগানে, ভরদুপুরে, আর আক্রান্ত হয়েছেন খেতের কাজে ব্যস্ত বা সাইকেলে বাড়ি ফেরা পুরুষেরা।

বাংলাদেশে আগের একটি আক্রমণ এবং প্রযোজ্য আইন


বাংলাদেশে আগেও কৃষকদের ওপর বুনো শূকরের আক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ বাংলা ট্রিবিউন জানায়, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বলেশ্বর নদতীরবর্তী পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের গাববাড়িয়া ও টেংরা গ্রামে বেলা ১২টার দিকে বন্য শূকরের আক্রমণে এক নারীসহ পাঁচ কৃষক আহত হন। শূকরটি বাড়ির পেছন থেকে এসে ও রাস্তায় মানুষের ওপর আক্রমণ করে এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে লোকজন জড়ো হলে বনের ভেতর চলে যায়। আহতদের শরীরে শূকরের দাঁতের আঘাতে বড় ক্ষত হয়; হাতের রগ ছিঁড়ে যাওয়া একজনকে বরিশালের শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, শূকরগুলো টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বাস করে এবং বনে খাদ্যসংকটের কারণে লোকালয়ে এসে কৃষিজমির ফসলের ক্ষতি করে। বন বিভাগের পটুয়াখালী বিভাগীয় কর্মকর্তা বলেন, সংরক্ষিত বনের ওই শূকর হত্যা করার বিধান নেই; মানুষকে সচেতন করে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাপিডিয়া জানায়, বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনের সূচনা ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আদেশ থেকে, যা ওই বছরই আইনে পরিণত হয় এবং ১৯৭৪ সালে সংশোধিত ও পুনর্বিধিবদ্ধ হয়। এর তফসিলে ছিল অনুমতি নিয়ে শিকারযোগ্য প্রাণীর তালিকা, যেসব প্রাণীর ট্রফি বা মাংস রাখতে বৈধ দখলের সনদ লাগে তাদের তালিকা, এবং যেসব সংরক্ষিত প্রাণী শিকার, হত্যা বা ধরা যায় না তাদের তালিকা। ২০১২ সালের ১০ জুলাইয়ের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন আগের আইন রহিত করে দেশের জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার বিধান করে।

আক্রমণের দিন দেশে কার্যকর বন্যপ্রাণী আইন ছিল বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬, যা ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে ২০১২ সালের আইনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল। শিবগঞ্জে গ্রামবাসী প্রাণীটির ক্ষতি না করে তাড়িয়ে দেন, আর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

ছবি: JP Bennett / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪; দৈনিক ইত্তেফাক; বাংলা ট্রিবিউন; বাংলাপিডিয়া (নবাবগঞ্জ জেলা; শিবগঞ্জ উপজেলা; পদ্মা নদী; আম; আম গবেষণা কেন্দ্র; বন্যপ্রাণী); অ্যানিমাল ডাইভারসিটি ওয়েব, ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান (Sus scrofa); প্লস ওয়ান (পান্ত ও সহযোগী ২০২৩; লামিছানে ও সহযোগী ২০১৮); মেয়ার, ওয়াইল্ড পিগ অ্যাটাকস অন হিউম্যানস, ওয়াইল্ডলাইফ ড্যামেজ ম্যানেজমেন্ট কনফারেন্স কার্যবিবরণী, ২০১৩; জার্নাল অব ম্যাক্সিলোফেসিয়াল অ্যান্ড ওরাল সার্জারি (২০১১); বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২।

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের পর ওড়িশার বানভাসি গ্রামে নিরাপদ পানির সংকট

গঞ্জাম, গজপতি ও কন্ধমাল জেলায় নলকূপ বন্যার পানিতে ডুবে থাকায় পানিবাহিত রোগের ভয়; ট্যাংকারে পানি, হ্যালোজেন ট্যাবলেট ও হেলিকপ্টারে খাবার পাঠাচ্ছে রাজ্য সরকার।

ডাউন টু আর্থ১ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

অলিভ রিডলি কচ্ছপের মৌসুমে ওড়িশার উপকূলে সাত মাস মাছ ধরা বন্ধ

১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত ওড়িশার কচ্ছপ প্রজনন এলাকায় মাছ ধরা নিষেধ; বন্য চিংড়ির মার্কিন বাজার ফেরাতে ট্রলারে বিনা মূল্যে কচ্ছপ রক্ষার যন্ত্র দিচ্ছে এমপেডা।

ডাউন টু আর্থ১ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

বাঁকা কাণ্ড সোজা করতে গাছ দুই দিকে টান দেওয়া কাঠ গড়ে, ফরাসি গবেষণা

ফ্রান্সের গবেষকেরা দেখেছেন, কচি পপলার গাছ কাণ্ডের উল্টো দিকে টেনশন উড নামের বিশেষ কাঠ গড়ে নিজের বাঁক ঠিক করে; এ জ্ঞান সোজা গাছ ও হেলে না পড়া দানাশস্যের জাত তৈরিতে কাজে লাগতে পারে।

সায়েন্সডেইলি১ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)