বাঁকা কাণ্ড সোজা করতে গাছ প্রথমে এক দিকে, পরে উল্টো দিকে টান তৈরি করা এক ধরনের কাঠ গড়ে, অনেকটা প্রাণীর পরস্পরবিরোধী পেশির মতো। ফ্রান্সের কৃষি, খাদ্য ও পরিবেশ বিষয়ক জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনরের (INRAE) সঙ্গে কাজ করা গবেষকেরা এ তথ্য পেয়েছেন। গবেষণাটি নিউ ফাইটোলজিস্ট (New Phytologist) সাময়িকীতে ছাপা হয়েছে, প্রকাশ করা হয় ৩১ অক্টোবর।
২০১২ সালে ইনরের গবেষকেরা দেখিয়েছিলেন, প্রাণীর মতো উদ্ভিদও নিজের দেহের আকার টের পায়; এই ক্ষমতার নাম প্রোপ্রিওসেপশন। কিন্তু সেই অনুভূতি কীভাবে নড়াচড়ায় রূপ নেয়, তা জানা ছিল না। উদ্ভিদ মাধ্যাকর্ষণ ও আলোর দিকেও সাড়া দেয়, তাই দলটি এই দুই সংকেত সরিয়ে দিতে একটি যন্ত্র বানায়: কচি গাছগুলো রাখা হয় নিজের অক্ষে ঘুরতে থাকা একটি আনুভূমিক পাটাতনে, চারদিক থেকে সমান আলো পড়া একটি গোলকের ভেতরে।
পরীক্ষার শুরুতে কচি পপলার গাছ শুইয়ে রাখা হয়। বাড়তে বাড়তে কাণ্ডগুলো ওপরের দিকে বেঁকে ওঠে টেনশন উড নামের বিশেষ কাঠের জোরে, যা গড়ে ওঠার সময় টান দেয় এবং কাণ্ডের ওপরের দিকে জন্মায়। প্রায় দশ দিন পর, স্পষ্ট বাঁক তৈরি হলে গাছগুলো যন্ত্রে নেওয়া হয়। পরের কয়েক সপ্তাহে বাঁকা কাণ্ড ধীরে ধীরে সোজা হয়ে প্রায় আগের মতো হয়ে যায়।
কাঠ পরীক্ষা করে গবেষকেরা দেখেন, যন্ত্র চালুর পর প্রথম টেনশন উড গড়া থেমে গেছে, আর একই কাঠ জন্মাতে শুরু করেছে উল্টো দিকে, যা টান দিচ্ছে বিপরীত দিকে। এতদিন ধারণা ছিল, টেনশন উড কেবল কাণ্ডের ওপরের দিকেই জন্মায়। ফল বলছে, নিজের আকারের অনুভূতিই ঠিক করে দেয় গাছ কোথায় এই কাঠ গড়বে।
লেখকদের মতে, ঝড় ও ভূমিধসে বাঁকা বা সরে যাওয়া গাছের বনের জন্য এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ। নিজের আকার ভালো টের পায় এমন গাছ বেছে নিলে আরও সোজা গাছ ও ভালো কাঠ মিলতে পারে। কৃষিতে একই জ্ঞান দিয়ে এমন দানাশস্যের জাত তৈরি করা যেতে পারে যা পাকার আগে হেলে পড়ে না; মৌসুমের শেষে ফসল হেলে পড়ায় ফলনে বড় ক্ষতি হতে পারে।
ইনরের গবেষণা পরিচালক ব্রুনো মুলিয়া (Bruno Moulia) বলেন, গাছের কাঠের অংশে তাঁরা সত্যিকারের এক অনুভূতি-ও-নড়াচড়ার চক্র খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর মতে, টেনশন উড এলোমেলোভাবে গড়ে উঠলে ভেতরে অতিরিক্ত টান থেকে যায়, যা কাঠের মান নষ্ট করতে পারে। গবেষণাপত্রের লেখকদের মধ্যে আছেন আলেক্সান্দ্র কলুস (Alexandre Caulus), ফেলিক্স হার্টমান (Félix P. Hartmann) ও ব্রুনো মুলিয়া।
ছবি: Bahar Ahmad Khan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: সায়েন্সডেইলি





মন্তব্য
(০)