ভারতের ওড়িশার উপকূলে অলিভ রিডলি কচ্ছপের ডিম পাড়ার এলাকায় ১ নভেম্বর থেকে সাত মাসের বার্ষিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু করেছে রাজ্যের বন বিভাগ, চলবে ২০২৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত। ডাউন টু আর্থ জানায়, নভেম্বরের দিকে কচ্ছপেরা উপকূলের পানিতে মিলনের জন্য আসে, আর মাদি কচ্ছপ সাধারণত মার্চে কেন্দ্রাপাড়া জেলার গহিরমাথা (Gahirmatha) ও গঞ্জাম জেলার রুশিকুল্যা (Rushikulya) সৈকতে উঠে ডিম পাড়ে।
১৯৯৭ সালে গহিরমাথাকে সামুদ্রিক অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়। হুকিতোলা থেকে ধামারা পর্যন্ত ১,৪৩৫ বর্গকিলোমিটার সাগরজুড়ে এই অভয়ারণ্যে উপকূলের ২০ কিলোমিটারের মধ্যে মাছ ধরা নিষেধ; ২০২৩ সালে ১৪টি বয়া বসিয়ে সীমানা চিহ্নিত করা হয়। ২০২৫ সালের ৫ থেকে ১০ মার্চ সেখানে আনুমানিক ৬,০৬,৯৩৩টি কচ্ছপ ডিম পেড়েছিল, কিন্তু ২০২৬ সালে ওড়িশার উপকূলে দলবদ্ধ ডিম পাড়া, যাকে আরিবাদা বলে, হয়নি।
অভয়ারণ্যের ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার চিত্রসেন জেনা বলেন, আরিবাদা না হওয়া প্রাকৃতিক ঘটনা, এতে কচ্ছপের সংখ্যা কমেছে বলা যায় না; ১৯৮২, ১৯৮৮, ১৯৯৭ ও ২০০২ সালেও তা হয়নি। অসময়ের বৃষ্টি ও ডিম পাড়ার জায়গার ক্ষয়কে তিনি কারণের মধ্যে ধরেছেন। বন বিভাগ ১৪টি কচ্ছপ সুরক্ষা ক্যাম্প বসিয়েছে, তার চারটি মাদালি, সাসানিপাদা, একাকুলা ও বাবুবালি দ্বীপে; চারটি টহল নৌকা নেমেছে, সঙ্গে আছে সামুদ্রিক পুলিশ ও কোস্টগার্ড।
বিশ্বের আনুমানিক ৫০ শতাংশ এবং ভারতের প্রায় ৯০ শতাংশ অলিভ রিডলি কচ্ছপ ওড়িশায় আসে। সেখানে ট্রলারের জালে টার্টল এক্সক্লুডার ডিভাইস (টিইডি) লাগানো বাধ্যতামূলক: জালের ভেতরের একটি ঝাঁঝরি, যা দিয়ে চিংড়ি ঢুকে যায় কিন্তু কচ্ছপ বেরোনোর পথে চলে যায়। অক্টোবরে সামুদ্রিক পণ্য রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এমপেডা) রাজ্যের ট্রলারমালিকদের বিনা মূল্যে ১,২০০টি টিইডি দিয়েছে।
যন্ত্রটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে মাছের অর্থনীতি। ২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র তার পাবলিক ল ১০১-১৬২-এর ৬০৯ ধারায় ভারতের সাগরে ধরা চিংড়ি নিচ্ছে না; এই আইনে কেবল সামুদ্রিক কচ্ছপ রক্ষায় স্বীকৃত দেশের চিংড়ি ঢুকতে পারে। এমপেডার হিসাবে এতে ভারতের ক্ষতি প্রায় ৪,৫০০ কোটি রুপি (৫৫ কোটি মার্কিন ডলার)। সাগরে ধরা চিংড়ির রপ্তানি ২০১৮-১৯ সালের ১,৫৩,২৮৬ টন থেকে ২০২৩-২৪ সালে ৬৫,৮৮২ টনে নেমেছে; গড় দাম মার্কিন বাজারে কেজিপ্রতি ৯.৮৭ ডলার থেকে নেমে ২০২৩-২৪ সালে সার্বিকভাবে দাঁড়িয়েছে ৫.২৬ ডলারে।
এমপেডার ভুবনেশ্বরের রাজ্য সমন্বয়ক শুভ্রকান্ত মহাপাত্র জানান, নিষেধাজ্ঞার পর ব্ল্যাক টাইগার, হোয়াইট, ফ্লাওয়ার, কারিকাডি ও পুভালান চিংড়ির ঘাটের দাম কেজিপ্রতি ১০০-২০০ রুপি কমেছে। প্রতিটি টিইডির দাম ২৮,০০০ রুপি, কেনা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনার টাকায়। অনেক জেলে ভয় পান এতে ধরা ১০-২০ শতাংশ কমবে, কিন্তু এমপেডার পরীক্ষায় কমেছে মাত্র ১-৫ শতাংশ। প্রতিবেদনটি আশিস সেনাপতির।
ছবি: Nandita Madhu / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)