শিল্পবর্জ্য, অপরিশোধিত গৃহস্থালি বর্জ্য আর কৃষির রাসায়নিকে বিপন্ন দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক কার্পজাতীয় মাছের প্রজননক্ষেত্র হালদা নদী। গবেষকেরা বলছেন, দুটি বড় উৎসের বর্জ্য সামলানো গেলে নদীর প্রায় ৮০ শতাংশ দূষণ কমানো সম্ভব। পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির যৌথ মাঠ পরিদর্শনের পর এ তথ্য জানানো হয়।
হালদা গবেষক অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস অনন্যা আবাসিক এলাকা হয়ে আসা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার বর্জ্য এবং বাহির সিগন্যাল শিল্প এলাকার বর্জ্য; এ দুটির কার্যকর সমাধান হলে প্রায় ৮০ শতাংশ দূষণ কমবে। তবে দূষণমুক্তির সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো ঠিক হয়নি।
তাঁর মূল্যায়নে, আগের পদক্ষেপে প্রায় ৬০ শতাংশ দূষণ ঠেকানো গেছে। নির্দিষ্ট উৎসের মধ্যে এশিয়ান পেপার মিল ও হাটহাজারী পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট পুরো বন্ধ হয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় তামাক চাষও ঠেকানো গেছে। তবু ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ দূষণ রয়ে গেছে, যার বড় অংশ আসে দূরের নানা উৎস থেকে।
কৃষ্ণখালী, খন্দকিয়া, কাটাখালী, মাদারী ও বোয়ালিয়া খালসহ বিভিন্ন খাল দিয়ে কারখানা, আবাসিক এলাকা ও বাজারের বর্জ্য হালদায় মিশছে; বামনশাহী ও কুয়েশ খাল দিয়ে আসছে ক্যান্টনমেন্ট, চৌধুরী হাট ও বড়দীঘির পাড় এলাকার বর্জ্য। অক্সিজেন থেকে কুলগাঁও পর্যন্ত কারখানা ও বহুতল ভবনের অপরিশোধিত বর্জ্য, রাউজানের একটি বিনোদনকেন্দ্রের বর্জ্য, ফটিকছড়ির বর্জ্য আর উজানে তামাক চাষের কীটনাশকও নদীতে পড়ছে বলে জানান গবেষকেরা।
দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশের প্রজনন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এপ্রিল থেকে জুলাইয়ে পাহাড়ি ঢল, বজ্রসহ বৃষ্টি ও অনুকূল স্রোতে মা-মাছ ডিম ছাড়ে। প্রকাশিত হিসাবে, ২০২০ সালে রেকর্ড প্রায় ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম সংগ্রহ হয়েছিল; ২০২৩ সালে প্রায় ১৪ হাজার ৬৬৪ কেজি, ২০২৪ সালে প্রায় ১ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০২৫ সালে প্রায় ১৪ হাজার কেজি। সময়মতো বৃষ্টি না হওয়া ও পরিবেশগত সংকটে সর্বশেষ মৌসুমে তা নেমেছে প্রায় ৬ হাজার কেজিতে।
গবেষকদের মতে, শুধু দুই উৎস নয়, বর্জ্যের উৎপত্তিস্থল শনাক্ত, শোধন এবং দূষিত পানি নদীতে ঢোকার পথ বন্ধ করা জরুরি; কার্যকর বাস্তবায়ন, নজরদারি ও সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রতিবেদন: দৈনিক বাংলা।
ছবি: Syed Nur Kamal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: দৈনিক বাংলা





মন্তব্য
(০)