বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া, ভূ-উপরিস্থ পানির উৎস শুকিয়ে আসা ও তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বাড়তে থাকা পানিসংকট মোকাবিলায় একটি সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা নীতির দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টরা। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজশাহীতে ‘প্রটেক্টিং দ্য বরেন্দ্র রিজিয়ন’ শীর্ষক দিনব্যাপী নীতি সংলাপে এ দাবি ওঠে, জানিয়েছে বাসস।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা জানান, বরেন্দ্রে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বছরে শূন্য দশমিক ১ থেকে শূন্য দশমিক ৬ মিটার নামছে। বছরে প্রায় ১ হাজার ৫৪ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি তোলা হয়, সেচের প্রায় ৯০ শতাংশ পানি আসে মাটির নিচ থেকে, চলছে প্রায় ১৫ হাজার গভীর নলকূপ। তাপমাত্রা ২০২৪ সালে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছিল; হিটস্ট্রোকে রাজশাহী বিভাগে ২০২৪ সালে ৬৭ জন ও ২০২৫ সালে ৩১ জন মারা যান।
নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দশকের পর দশক সেচনির্ভর কৃষির প্রসারে মাত্রাতিরিক্ত পানি তোলা হয়েছে; বিভিন্ন সংস্থার কাজের সমন্বয়ে একটি নীতি দরকার, সঙ্গে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং পুকুর ও খাল খনন।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জানান, পদ্মা থেকে নিয়ামতপুর, তানোর ও নাচোলে পানি নেওয়ার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বিএমডিএর খনন করা সরকারি পুকুর সেচ ও পানির স্তর পুনর্ভরণে কর্তৃপক্ষের হাতে থাকা উচিত, কিন্তু অন্য কাজে ইজারা দেওয়ার প্রবণতা আছে; এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হলেও সিদ্ধান্ত হয়নি। ব্যক্তিগত পাম্পে পানি তোলায় নজরদারির ঘাটতি আর অদক্ষ বিতরণে অপচয়ের কথাও বলেন তিনি।
প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার পুরো বরেন্দ্রের জন্য সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা, শুকিয়ে যাওয়া খাল-বিল সংস্কার এবং পদ্মার সঙ্গে যুক্ত জলাধার নির্মাণ করে বর্ষার বাড়তি পানি শুকনো মৌসুমের জন্য ধরে রাখার পরামর্শ দেন। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা বলেন, ফারাক্কা, তিস্তা ও মহানন্দায় উজানের বাঁধে ভাটিতে পানি কমেছে।
ইয়ুথ ইন রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ, জাতিসংঘ মানবাধিকার, ওয়াটারএইড, সুইসকন্ট্যাক্ট এবং সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ যৌথভাবে সংলাপটির আয়োজন করে।
প্রতিবেদন: বাসস, রাজশাহী।
ছবি: S.H. Tanim / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাসস





মন্তব্য
(০)