ভুটানের গাসা জেলায় ২৯ অক্টোবর হিমবাহ হ্রদ ভেঙে বন্যা হয়েছে। ওয়াকিলা পর্বতের কাছে প্রায় ৪,৪৮০ মিটার উচ্চতায় গ্রাবরেখায় (মোরেইন) আটকে থাকা সিনতাফু ৎসো (Sintaphu Tsho) হ্রদ ভেঙে পড়লে পানির তোড়ে গাসা ৎশাচু উষ্ণ প্রস্রবণ এলাকা ধ্বংস হয় এবং উঁচু পাহাড়ি জনপদ লায়ায় যাওয়ার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মো ছু উপত্যকার মানুষের চলাচল ও জীবিকা ব্যাহত হয়েছে। প্রাথমিক খবরে কোনো প্রাণহানি হয়নি; ভাটিতে ভারতের আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে সতর্কতা জারি করা হয়।
বন্যার কারণ ও কতটা পানি নেমেছে, তা এখনো জানা যায়নি। ৩০ অক্টোবর ভুটানের ন্যাশনাল সেন্টার ফর হাইড্রোলজি অ্যান্ড মেটিওরোলজি (এনসিএইচএম) জানায়, সিনতাফু ছু ও লুঙ্গু ছু নদীর সংগমের কাছে তাকৎসেমাখাংয়ে আরেকটি কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হয়েছে। মো ছু ও পুনাৎসাংছু উপত্যকার বাসিন্দাদের নদীর পাড় ও বন্যাপ্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।
হ্রদটি অজানা ছিল না। ২০২১ সালে অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় এর আয়তন প্রায় ২,৩৮,৩১৪ বর্গমিটার ও পানি প্রায় ৬২ লাখ ঘনমিটার মাপা হয়, এবং হ্রদের ৪০, ৭০ ও ৯০ শতাংশ পানি নেমে আসার নয়টি সম্ভাব্য বন্যার চিত্র কষে জনপদ, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঝুঁকি দেখানো হয়। ২০২৩ সালের ৮ মে থেকে ৮ জুন এনসিএইচএম মাঠপর্যায়ে মূল্যায়ন চালায়। ২০২৬ সালের এক গবেষণায় ভুটানের ২৭৮টি হিমবাহ হ্রদ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১১ হাজারের বেশি মানুষ, আড়াই হাজারের বেশি ভবন, ২৫০ কিলোমিটারের বেশি সড়ক, ৪০০-র বেশি সেতু এবং প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার কৃষিজমি এমন বন্যার ঝুঁকিতে আছে।
ডাউন টু আর্থে লেখা বিশ্লেষণে দেবস্মিতা মজুমদার (Debasmita Majumder) বলেছেন, গবেষণা নিজে ঝুঁকি কমায় না। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে তৈরি ভুটানের ২০২৫ সালের জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে দেখা গিয়েছিল, ২০২৪ সালের আগস্টে ফো ছু ও মো ছু অববাহিকার ১৮টি হিমবাহ-বন্যা সাইরেনের ছয়টিই অচল ছিল; সঙ্গে ছিল পুরোনো যন্ত্রপাতি, অববাহিকাগুলোর ব্যবস্থার মধ্যে দুর্বল সমন্বয় আর তাৎক্ষণিক তথ্যের ঘাটতি। এনসিএইচএম ও বিশ্বব্যাংকের ২০২৪-২০৩৪ রোডম্যাপেও হ্রদ ভাঙার মডেল উন্নত করা, বিপজ্জনক হ্রদের জিআইএস তালিকা এবং আলাদা সতর্কসেবার সুপারিশ করা হয়েছে।
বিশ্লেষণে পর্যালোচনা করা প্রকাশ্য তথ্যে দেখা যায় না, সিনতাফু ৎসোতে ভাঙনের আগে ঝুঁকি কমানোর কোন ব্যবস্থা চালু ছিল। লেখকের মতে, এখন জানা দরকার ঘটনা কীভাবে ঘটল, কর্তৃপক্ষের হাতে কী তথ্য ছিল এবং সতর্কবার্তা কীভাবে পৌঁছানো ও মানা হলো।
ঝুঁকি সীমান্ত মানে না। পুনাখার কাছে মো ছু ফো ছু নদীর সঙ্গে মিলে পুনাৎসাংছু হয়েছে, যা ভারতে ঢুকেছে সংকোশ নদী নামে; তাই ভুটানে শুরু হওয়া বন্যা ভারতের জনপদেও পৌঁছাতে পারে। বিশ্লেষণে জলতথ্য ভাগাভাগি, স্পষ্ট যোগাযোগ নিয়ম এবং ভাটির মানুষের হাতে কতটা সময় থাকে তা মাথায় রেখে পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে, কারণ বরফ ও পাথরধস, ভূমিধস আর নদী আটকে যাওয়াও হিমবাহ-বন্যাকে আরও ভয়াবহ করতে পারে।
ছবি: Taxidesign / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)