ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের (Arnab) কারণে কয়েক দিন ধরে পানিবন্দী থাকার পর ভারতের দক্ষিণ ওড়িশার গঞ্জাম, গজপতি ও কন্ধমাল জেলার হাজারো মানুষ নিরাপদ খাবার পানি পাচ্ছেন না, জানিয়েছে ডাউন টু আর্থ। খাবার, পয়োনিষ্কাশন ও চিকিৎসাসেবারও ঘাটতি রয়েছে।
হাতকল বা নলকূপ জমে থাকা বন্যার পানিতে ডুবে আছে; বাসিন্দারা বলছেন, যে কয়েকটি নলকূপ চালু আছে সেগুলোর পানিও দূষিত হতে পারে, তাই পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর ভয় বাড়ছে। গঞ্জাম জেলার রাজাপুর গ্রামের ৪৩ বছর বয়সী সান্তি বেহেরা বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা খাবার পানি, প্রধান সড়কে পৌঁছানোর একমাত্র উপায় উদ্ধারকারী নৌকা।
একই জেলার বিরিপুর গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী বলভদ্র সাহু জানান, বন্যায় তাঁর পরিবার ঘর ও ফসল দুটোই হারিয়েছে, এখন খাবার পানি জোগাড়ই কঠিন। ছত্রপুর ব্লকের বড়মাধবপুর গ্রামের ৬৩ বছর বয়সী রঞ্জন সাহু বলেন, দূষিত বন্যার পানির কারণে গ্রামবাসীরা রান্না করা খাবার এড়িয়ে চলতে বাধ্য হচ্ছেন।
রাজ্যের আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগ খাবার পানি ও পয়োনিষ্কাশন দেখভালে ওয়াটার করপোরেশন অব ওড়িশা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল সংস্থার দল পাঠিয়েছে। রাজ্যের তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের আনিশা কর জানান, কমিউনিটির পানির ব্যবস্থাসহ সব পানির উৎস পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা হবে।
রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী সুরেশ পূজারী জানান, বিচ্ছিন্ন এলাকায় চারটি হেলিকপ্টারে খাবারের প্যাকেট পাঠানো হচ্ছে, ২১টি জায়গায় আকাশ থেকে ফেলার পরিকল্পনা আছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা খাবার পানি, হ্যালোজেন ট্যাবলেট ও ওষুধ বিতরণ করছেন, আর গ্রামীণ পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন বিভাগকে ট্যাংকারে আরও পানি পাঠাতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনটি আশিস সেনাপতির।
ছবি: Raka / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)