দেশের সাফারি পার্কগুলোতে, বিশেষ করে গাজীপুর সাফারি পার্কে, একের পর এক পশুপাখি মারা যাচ্ছে। কারণ খুঁজেছেন ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র, আজকের পত্রিকার উপসম্পাদকীয়তে। সাফারি পার্কে খাঁচার বদলে বিশাল প্রাকৃতিক পরিবেশে বন্য প্রাণী রাখা হয়; লক্ষ্য বিপন্ন প্রজাতি সংরক্ষণ, প্রজনন, গবেষণা ও সচেতনতা।
লেখক জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের আগস্টে গাজীপুর সাফারি পার্কে এক দিনের ব্যবধানে দুটি হাতি মারা যায়। পার্ক কর্তৃপক্ষের ধারণা, অন্য হাতির সঙ্গে মারামারিতে রাজু বাহাদুর নামের হাতির পা মারাত্মক জখম হয়; থাইল্যান্ড থেকে বিশেষজ্ঞ এনে স্থানীয় পশুচিকিৎসকদের সঙ্গে চিকিৎসা করেও বাঁচানো যায়নি, প্রাথমিক প্রতিবেদনে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কথা এসেছে।
২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের জানুয়ারির মধ্যে এখানে ১১টি জেব্রা মারা যায়; তদন্তে দেখা যায়, দলের আধিপত্য নিয়ে মারামারিতে চারটি এবং পরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে বাকিগুলো মারা যায়। মৃত্যুর তথ্য গোপন ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে তখন প্রকল্প পরিচালক, ভেটেরিনারি অফিসারসহ কয়েকজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর একটি বাঘ এবং ২০২২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি একটি সিংহী মারা যায়।
কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কেও ২০২২ সালে জনপ্রিয় সিংহ 'সোহেল' বার্ধক্যে, ২০২৩ সালে আরেকটি সিংহ অ্যানাপ্লাজমা ও বেবিসিয়া সংক্রমণসহ বার্ধক্যে মারা যায়; মায়ের দুধ না পাওয়া চার মাসের একটি হাতিশাবক ভাইরাস সংক্রমণে এবং পঞ্চগড় থেকে উদ্ধার করা একটি নীলগাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
লেখকের মতে, প্রধান কারণ তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় অবহেলা, সময়মতো রোগ নির্ণয় না হওয়া, উন্নত চিকিৎসা ও অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি সার্জনের অভাব, পুষ্টিকর খাবার সরবরাহে অনিয়ম, সঠিক কোয়ারেন্টিনের অভাব এবং কৃত্রিম পরিবেশে খাপ খাওয়াতে না পারা। তিনি নিয়মিত প্রশাসনিক জবাবদিহি ও পশুপাখির স্বাস্থ্য পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন। এ লেখার মত লেখকের নিজের।
লেখা: ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র, আজকের পত্রিকা
ছবি: Muminur Rahman / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0); গাজীপুর সাফারি পার্কের বাঘ-সিংহ সাফারির ফটক
সূত্র: আজকের পত্রিকা





মন্তব্য
(০)