উদ্ভিজ্জ মাংস, গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি প্রোটিন আর গবেষণাগারে কোষ থেকে জন্মানো কালচার্ড মাংসের মতো বিকল্প প্রোটিন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জনস্বাস্থ্য নীতিতে কীভাবে জায়গা পেতে পারে, তা খতিয়ে দেখতে বহু বছরের অংশীদারত্বে সই করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও গুড ফুড ইনস্টিটিউট (জিএফআই) এপ্যাক। খবরটি দিয়েছে গ্রিন কুইন। বিশ্বের প্রায় ৬০% মানুষ এই অঞ্চলে বাস করেন।
ডব্লিউএইচওর পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এশিয়া-প্যাসিফিক সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হেলথের (এসিই) সঙ্গে চুক্তিটি সিউলের এক অনুষ্ঠানে অনুমোদিত হয় এবং রোমে এফএও সদর দপ্তরে ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামে ঘোষণা করা হয়। এর আওতায় খাদ্যতালিকায় বিকল্প প্রোটিনের ভূমিকা নিয়ে ডব্লিউএইচও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করবে, যাকে তারা এ ধরনের প্রথম বলছে; এরপর নীতিগত ঐকমত্য গড়তে সেমিনার ও কারিগরি নথি হবে। চুক্তির অর্থে ডব্লিউএইচওতে দুজন কারিগরি কর্মী ও একজন বাইরের গবেষক নিয়োগ হবে, সবাই থাকবেন দক্ষিণ কোরিয়ায়।
এসিইর পরিচালক স্যান্ড্রো দেমাইও (Sandro Demaio) বলেন, ডব্লিউএইচওর পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এখন প্রতি ১০টি মৃত্যুর ৯টির কারণ অসংক্রামক রোগ, যার অনেকগুলো খাদ্যাভ্যাসজনিত; একই সঙ্গে খাদ্যব্যবস্থা পরিবেশের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। তিনি জানান, অংশীদারেরা বিকল্প প্রোটিন নিয়ে প্রমাণ জোরদার করবে এবং নীতি সংলাপ ও সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে এর স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জলবায়ু দিক খতিয়ে দেখবে।
জিএফআই এপ্যাকের হিসাবে, বিশ্বের কৃষি-খাদ্য খাতের নিঃসরণের ৪৫% আসে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে; আর আবদ্ধ ঘন খামারের কারণে এশিয়ায় পশুপালনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা ওষুধ-প্রতিরোধী সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। সংস্থাটির দাবি, বিকল্প প্রোটিন উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন পড়ে না এবং প্রক্রিয়াজাত মাংসের তুলনায় এতে আঁশ বেশি ও সম্পৃক্ত চর্বি কম থাকতে পারে। এগুলো প্রচারণাকারী সংস্থাটির দাবি; ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদনের কাজই হবে এসব যাচাই করা।
এই অঞ্চলের পশুপালক ও পশুখাদ্য ব্যবসায়ীদের জন্য অংশীদারত্বটি ইঙ্গিত দেয়, স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো এখন প্রোটিনের জোগানকে খাদ্যনীতির অংশ হিসেবে দেখতে শুরু করেছে, আর এসব খাবারের ভবিষ্যৎ শুধু বাজার নয়, প্রমাণও ঠিক করবে।
ছবি: World Economic Forum / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: গ্রিন কুইন





মন্তব্য
(০)