আলো দিয়ে বীজের বৈশিষ্ট্য জাগানোর প্রযুক্তি সরাসরি বোনা ধানে পরীক্ষা করতে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ইরি) সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান বায়োলুমিক (BioLumic)। প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে আনতে প্রতিষ্ঠানটি এখন নতুন দফা তহবিল সংগ্রহ শেষ করছে।
২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বায়োলুমিক এক্সট্রেইটস প্ল্যাটফর্মে অতিবেগুনি আলো ব্যবহার করে। আলোক-জীববিজ্ঞান, জিনোম ও গাছের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের তথ্য মিলিয়ে তৈরি হয় আলোর সংকেতের একটি রেসিপি, যা গাছের ভেতরে থাকা জিন চালু বা বন্ধ করে, ক্রিসপার বা রাসায়নিক ছাড়াই।
১৫ মাসের এই পরীক্ষা চলবে ফিলিপাইনে, ২০২৬ সালের বর্ষা মৌসুম ও ২০২৬/২৭ সালের শুষ্ক মৌসুমে, ইরির উদ্ভাবিত সরাসরি বপনের ছয়টি ধানের জাত দিয়ে। লক্ষ্য এমন বৈশিষ্ট্য যাচাই করা, যা পানি কম লাগাবে ও মিথেন নিঃসরণ কমাবে, এবং ভারত ও গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক বীজ প্রকল্পের পথ তৈরি করা। ইরি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য সরাসরি বপনের ধানের প্রজনন কর্মসূচি চালায়।
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান বিজ্ঞান কর্মকর্তা জেসন ওয়ারজেন্ট (Jason Wargent) বলেন, সরাসরি বপনে চারা রোপণের বদলে বীজ সোজা মাঠে বোনা হয়, তাতে শ্রম ও পানি বাঁচে, মিথেনও কমে। বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের ২১ লাখ ডলার অনুদানে আগের কাজে ১১টি ধানের জাতে চারার বৃদ্ধি ও প্রতিষ্ঠায় বারবার একই রকম উন্নতি দেখিয়েছে বায়োলুমিক।
ওয়ারজেন্টের ব্যাখ্যা, শুধু মাতৃ-পিতৃ বীজে আলো দিলেই চলে, কারণ বৈশিষ্ট্য পরের প্রজন্মে যায়; এতে যত বীজ সরাসরি শোধন করতে হয়, তা ৫০ থেকে ১০০ গুণ কমে। যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টাবীজ নিয়ে গ্রো অ্যালায়েন্স এবং দক্ষিণ আমেরিকায় জিডিএম ও ট্রপিক্যাল মেলহোরামেন্তো অ্যান্ড জেনেতিকার সঙ্গে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিবেদনটি করেছেন রায়ান ডেইলি।
ছবি: Africa Rice Center / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)