দেশেই সার উৎপাদন বাড়াতে আটটি কারখানা প্রকল্প বেছে নিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)। ফিল্ডস (FIELDS) নামের কর্মসূচির আওতায় এগুলো অর্থ পাবে। ২২ অক্টোবর নেব্রাস্কায় এ ঘোষণা দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ও কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রোলিন্স।
আটটি প্রকল্পে মোট প্রস্তাবিত বিনিয়োগ ১৩৪ কোটি ডলারের বেশি, যার মধ্যে ইউএসডিএর প্রস্তাবিত অর্থ প্রায় ৫৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার। প্রকল্পগুলো নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও সালফার সারের নতুন বা বাড়তি উৎপাদন সক্ষমতা গড়বে; বছরে প্রায় ১০ লাখ ৮০ হাজার টন দেশি সার উৎপাদন ও সক্ষমতায় সহায়তা করবে বলে আশা। বিজ্ঞপ্তির লেখায় প্রকল্পগুলোর নাম দেওয়া হয়নি।
ইউএসডিএ ৫০ কোটি ডলারের কর্মসূচি হিসেবে ফিল্ডস চালু করেছিল। আগের সার উৎপাদন সম্প্রসারণ কর্মসূচির (এফপিইপি) যে প্রকল্পগুলো সফল হয়নি, সেখান থেকে ফেরত পাওয়া অর্থও এতে যোগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিভাগটি। ফিল্ডসে অগ্রাধিকার পাচ্ছে আর্থিকভাবে টেকসই, দ্রুত কাজ শুরু করতে পারে এমন প্রকল্প, যেখানে বেসরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত আর উৎপাদন মাপা যায়।
বিভাগটি দেখিয়েছে, এ শিল্প কতটা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত। উত্তর আমেরিকার নাইট্রোজেন সার উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৭৭ শতাংশ চারটি কোম্পানির হাতে, ফসফেটের ৯০ শতাংশের বেশি দুটি কোম্পানির, আর পটাশের প্রায় ৯০ শতাংশ উৎপাদন করে দুটি কোম্পানি। ইউএসডিএর অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ বলছে, নতুন কারখানাগুলো চালু হলে নাইট্রোজেন সারের দাম ৪.৪ শতাংশ ও পটাশের দাম ৫.৩ শতাংশ কমতে পারে, আর দেশে নাইট্রোজেন উৎপাদন ৩.৭ শতাংশ ও পটাশ উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়তে পারে।
কৃষিমন্ত্রী রোলিন্স বলেন, খামারের নিরাপত্তাই জাতীয় নিরাপত্তা; খাদ্য ফলাতে যে সার লাগে, তার জন্য বিদেশের ওপর নির্ভর করা চলে না। ভ্যান্সের ভাষায়, এ বিনিয়োগে কৃষকেরা দেশে তৈরি কম দামের সার পাবেন।
কর্মসূচিটি চালায় ইউএসডিএ রুরাল ডেভেলপমেন্টের রুরাল বিজনেস-কো-অপারেটিভ সার্ভিস, কমোডিটি ক্রেডিট করপোরেশনের ক্ষমতাবলে। ইউএসডিএ বলছে, সরবরাহকারী কমে যাওয়ায় কৃষকেরা প্রতিযোগিতার সুবিধা হারিয়েছেন, নতুন সক্ষমতা সেই ধারা উল্টে দিতেই।
সূত্র: ইউএসডিএ





মন্তব্য
(০)