দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত এক কলামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা কেন্দ্রের ট্রেইনি এডুকেশনাল সাইকোলজিস্ট কাশফিয়া কাওসার মীম লিখেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন স্বপ্নপূরণের সময় হলেও এ সময়েই পড়াশোনার চাপ, পরীক্ষার উদ্বেগ, ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা, সম্পর্ক ও পরিবারের টানাপোড়েন শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতায় প্রভাব ফেলে। অনিয়মিত ঘুম, পুষ্টির অভাব আর রাত জেগে পড়া ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি ও আবেগ সামলানোয় সমস্যা বাড়ায়।
তাঁর মূল কথা, শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপকে ব্যক্তিগত দুর্বলতা হিসেবে না দেখে তাদের অভিজ্ঞতা ও পরিবেশ বিবেচনা করতে হবে। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য ‘Lived Experiences Heard: Real Voices, Real Change’ সেটিই মনে করিয়ে দেয়: যাঁদের জীবনে এ অভিজ্ঞতা বাস্তব, সেবার পরিকল্পনা, নীতি ও মূল্যায়নে তাঁদের অর্থবহ অংশগ্রহণ দরকার।
লেখক উল্লেখ করেছেন, ২০২৫ সালে ইন্টারন্যাশনাল হেলথ জার্নালে প্রকাশিত বাংলাদেশের শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে একটি গুণগত গবেষণায় ৩৮ জনের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়; তাতে উদ্বেগ, বিষণ্নতা, আত্মহত্যার চিন্তা, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, সেবার সীমাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত জ্ঞান ও সামাজিক কলঙ্ক উঠে আসে।
করণীয় হিসেবে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহজলভ্য ও গোপনীয়তা রক্ষাকারী কাউন্সেলিং, আগাম জানানো একাডেমিক সূচি, কার্যকর ক্যারিয়ার নির্দেশনা, নবীনদের জন্য ওরিয়েন্টেশন ও সিনিয়রদের মেন্টরশিপ, হলে আসন বণ্টনে স্বচ্ছতা, ক্যাফেটেরিয়ায় পুষ্টিকর খাবার এবং বৃত্তি, স্টাইপেন্ড ও স্বল্পসুদের শিক্ষাঋণ বাড়ানোর কথা বলেছেন। শিক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ: ফাস্টফুড কমানো, পর্যাপ্ত ঘুম, সময় ব্যবস্থাপনা, পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলিং নেওয়া।
লেখকের প্রশ্ন, কোনো শিক্ষার্থী খারাপ ফল করলে আমরা ফল নিয়ে প্রশ্ন করি, কিন্তু সে ঠিকমতো ঘুমাচ্ছে কি না বা একা বোধ করছে কি না, তা কি জানতে চাই? ‘ও খুব দুর্বল’ বা ‘বেশি চিন্তা করে’ বলার বদলে জানতে হবে মানুষটি কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর মতে, দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে হবে। মতামত লেখকের নিজস্ব।
ছবি: Biswarup Ganguly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)