ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে ব্যবহার নিষিদ্ধ, এমন প্রায় ১৫ হাজার টন কীটনাশক ২০২৪ সালে আমদানি করেছে ব্রাজিল। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পর এসব পণ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য দেশটি। ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত অক্সফাম নোভিবের (Oxfam Novib) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য এসেছে।
আনুক ফ্রাঙ্ক, এলিনে আখটারবার্গ ও জ্যাকলিন শুইলিংয়ের লেখা ৪০ পৃষ্ঠার 'টক্সিক ট্রেড' শীর্ষক প্রতিবেদনটি বলছে, ২০২৪ সালে ইইউভুক্ত দেশগুলো জোটের ভেতরে নিষিদ্ধ প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার টন কীটনাশক রপ্তানি করেছে, যা ২০১৮ সালের দ্বিগুণের বেশি। সে বছর ৯৩টি দেশ এসব কীটনাশক পেয়েছে, অক্সফামের হিসাবে তার ৭৫ শতাংশ নিম্ন বা মধ্যম আয়ের দেশ। গন্তব্যের তালিকায় দক্ষিণ আফ্রিকা, উগান্ডা ও পেরুর নামও আছে।
ব্রাজিলের নিজস্ব হিসাব, যা আজেন্সিয়া ব্রাজিল ও ভিসাও আগ্রো প্রকাশ করেছে, দেখায় দেশটির কৃষিতে এসব রাসায়নিক কতটা গভীরে ঢুকে আছে। মারাত্মক তাৎক্ষণিক বিষাক্ততা, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি বা পরিবেশে দীর্ঘস্থায়িত্বের কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও এফএও যেগুলোকে অতি বিপজ্জনক কীটনাশক বলে, ব্রাজিলে মোট কীটনাশক বিক্রির ৪৯ শতাংশই সেগুলো; জার্মানিতে এই হার ১২ শতাংশ। ব্রাজিলের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ১০টি কীটনাশকের ছয়টিই ইইউতে নিষিদ্ধ। অক্সফাম এর ব্যবহারকে রপ্তানিমুখী বড় একফসলি চাষ, বিশেষ করে সয়াবিন, কফি ও আখের সঙ্গে যুক্ত করেছে, যেখানে ট্রাক্টর, উড়োজাহাজ এবং ক্রমবর্ধমান হারে ড্রোন দিয়ে এগুলো ছিটানো হয়, কখনো বনের কাছেও।
অক্সফামের হিসাবে বিশ্বে চারটি কোম্পানি কীটনাশক বাজারের ৬১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে এবং অতি বিপজ্জনক কীটনাশক বিক্রি করে তারা মিলিতভাবে ২৭০ কোটি ইউরো আয় করেছে। প্রতিবেদনের যে অংশ পর্যালোচনার জন্য পাওয়া গেছে, তাতে কোম্পানিগুলোর নাম নেই।
অক্সফাম ব্রাজিলের পরিচালক ভিভিয়ানা সান্তিয়াগো বলেন, নিজের জনগণকে রক্ষায় ইইউ কিছু কীটনাশক নিষিদ্ধ করবে, অথচ একই রাসায়নিক তৈরি করে অন্য দেশে রপ্তানির সুযোগ দেবে, এটা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এ ধরনের রপ্তানি বন্ধ এবং বাণিজ্যিক স্বার্থের চেয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবেশকে প্রাধান্য দেয় এমন বাণিজ্যনীতির দাবি জানান। আজেন্সিয়া ব্রাজিলের অনুরোধে ব্রাজিলের কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও সরবরাহ মন্ত্রণালয় মন্তব্য করেনি।
বিতর্ক সত্ত্বেও ব্রাজিলের বাজার বাড়ছে: ২০২৪ সালে ৬৬৩টি নতুন কীটনাশক পণ্যের অনুমোদনের পর ২০২৫ সালে অনুমোদন পেয়েছে ৭২৫টি। দেশটির কৃষি, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় পণ্য মূল্যায়নের জন্য একটি অভিন্ন ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্মে যাচ্ছে, কোম্পানিগুলোকে ২০২৭ সালের মাঝামাঝির মধ্যে পুরোপুরি এতে যেতে হবে।
ছবি: Jarbas Yurasseck Jr / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)