যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত ই-সিগারেট বা ভেপ ব্যবহারে কিশোরীরা সমবয়সী ছেলেদের ছাড়িয়ে গেছে। মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলাইনার (এমইউএসসি) গবেষকদের এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে জামা পেডিয়াট্রিকস সাময়িকীতে। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশটির ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের তামাক ও নিকোটিন ব্যবহারের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণা অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে নিয়মিত ভেপিংয়ের হার ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের মধ্যে বেশি। ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোরীদের মধ্যে এই হার ২০২১ সালে ছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ, ২০২৪ সালে তা দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশে। একই বছরে সমবয়সী ছেলেদের মধ্যে হার ছিল ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। কৌতূহলবশত এক-দুবার ভেপ করাদের এই হিসাবে ধরা হয়নি, শুধু নিয়মিত ব্যবহারকারীদের তথ্য নেওয়া হয়েছে।
২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নিকোটিন ব্যবহারে ছেলেরা এগিয়ে ছিল। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে দুই দলেই ভেপিং উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে এবং ব্যবধান কমে আসে। ২০২১ সালে হার কমলেও পরে আবার বাড়তে শুরু করে। ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের চেয়ে ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে ভেপিং বেশি।
এমইউএসসির টোব্যাকো ট্রিটমেন্ট প্রোগ্রামের পরিচালক বেঞ্জামিন টোল বলেছেন, তরুণদের মধ্যে ভেপিংয়ের সমস্যা এখনো রয়ে গেছে এবং নতুন পরিসংখ্যান সেই উদ্বেগ আবার সামনে এনেছে। গবেষণার সহলেখক ও বায়োস্ট্যাটিসটিশিয়ান নাওমি ব্রাউনস্টেইন সতর্ক করেছেন, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালে সামগ্রিক হার কিছুটা কমলেও মধ্যবিদ্যালয়ের অনেক মেয়ে এখনো ভেপ করছে। গবেষণার প্রধান লেখক ব্র্যান্ডন স্যানফোর্ড।
গবেষকদের ধারণা, নানা স্বাদের ই-সিগারেটের জনপ্রিয়তা, সহজে ব্যবহার আর লুকিয়ে ব্যবহারের সুযোগ এই প্রবণতায় ভূমিকা রাখতে পারে, তবে তা বুঝতে আরও গবেষণা দরকার। ভেপের মাধ্যমে শরীরে নিকোটিন ঢোকে, যা আসক্তি তৈরি করতে পারে এবং কিশোর বয়সে মস্তিষ্কের বিকাশে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের কিশোর-কিশোরীদের তথ্যের ভিত্তিতে, তাই এর ফল সরাসরি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধরে নেওয়া যায় না। জাগো নিউজের লাইফস্টাইল ডেস্কের প্রতিবেদনটির তথ্যসূত্র মেডিকেল এক্সপ্রেস ও নিউজ এইটিন।
ছবি: TBEC Review / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)