সমাজে মানুষকে প্রায়ই তার সম্পদ দিয়ে বিচার করা হয়: ধনীর কথা গুরুত্ব পায়, ভুলও চোখ এড়িয়ে যায়, আর কম সম্পদের মানুষ জ্ঞান ও যোগ্যতা থাকলেও অবহেলিত হন। দেশ রূপান্তরের ধর্ম পাতায় এক ইমাম, খতিব ও মাদ্রাসাশিক্ষক এই প্রবণতা নিয়ে লিখেছেন; লেখার মতামত লেখকের নিজের।
লেখক হজরত আলী (রা.)-এর একটি কবিতা উদ্ধৃত করেছেন: অধিক সম্পদ মানুষের দোষত্রুটি ঢেকে দেয়, সে মিথ্যাবাদী হলেও লোকে তাকে বিশ্বাস করে; আর অল্প সম্পদ বুদ্ধিমত্তাকে খাটো করে, জ্ঞানী হলেও লোকে তাকে নির্বোধ ভাবে (দিওয়ানে আলী)।
লেখকের ব্যাখ্যায়, সম্পদ জীবনকে সচ্ছল করে, প্রয়োজন মেটায়, কল্যাণের সুযোগ তৈরি করে, কিন্তু তা চরিত্র, সত্যবাদিতা বা জ্ঞানের প্রমাণ নয়। ধনীর পোশাক, জীবনযাপন ও সামাজিক অবস্থান মানুষের বিচারবোধকে প্রভাবিত করে, অথচ একই কথা গরিব মানুষ বললে তা গুরুত্ব পায় না। সম্পদ আজ আছে, কাল না-ও থাকতে পারে; তাই পরিবর্তনশীল সম্পদকে মর্যাদার মাপকাঠি বানানো যুক্তিসংগত নয়।
ইসলাম এ ক্ষেত্রে স্পষ্ট মাপকাঠি দিয়েছে বলে লেখক মনে করিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান সে, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত ১৩) বংশ, জাতি, গোত্র, সম্পদ বা সামাজিক অবস্থান শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি নয়; তাকওয়া মানে আল্লাহকে ভয় করে তাঁর নির্দেশ মানা, গুনাহ থেকে বাঁচা এবং জীবনের সব ক্ষেত্রে তাঁর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
লেখকের মতে, ধনী হওয়া দোষের নয়, দরিদ্র হওয়াও অপমানের নয়; ইসলাম বৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন নিষেধ করেনি, বরং সম্পদ একটি পরীক্ষা: তা কীভাবে অর্জিত হচ্ছে, কোথায় ব্যয় হচ্ছে, আর অন্তরে অহংকার জন্মাচ্ছে কি না। তাকওয়াবান ধনী তাঁর সম্পদে দরিদ্রের অধিকার আদায়, আত্মীয়ের সহায়তা ও অসহায়ের পাশে দাঁড়াতে পারেন, আর একজন দরিদ্র মানুষও তাকওয়া, জ্ঞান, সততা ও উত্তম চরিত্রে আল্লাহর কাছে মর্যাদাবান হতে পারেন।
ছবি: Shaeekh Shuvro / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)