পবিত্র কুরআনের সুরা দোহায় ব্যক্তি ও সমাজজীবনের জন্য তিনটি স্পষ্ট নির্দেশনা আছে: এতিমের প্রতি সদাচরণ, সাহায্যপ্রার্থীকে অপমান না করা এবং আল্লাহর নেয়ামতের স্বীকৃতি। দেশ রূপান্তরের ধর্ম পাতায় এ তিন শিক্ষা নিয়ে একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে।
প্রথম শিক্ষা এতিমকে নিয়ে। আল্লাহ বলেন, ‘এতিমের প্রতি কঠোর হয়ো না।’ (সুরা দোহা, আয়াত ৯) লেখায় বলা হয়েছে, অভিভাবক না থাকা এতিম শিশুর জীবনে বড় শূন্যতা তৈরি করে; তাই তাদের প্রতি অবহেলা, কঠোরতা বা অন্যায় ইসলাম সমর্থন করে না, বরং তাদের নিরাপত্তা, অধিকার, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সমাজের দায়িত্ব।
দ্বিতীয় শিক্ষা সাহায্যপ্রার্থীকে নিয়ে। আল্লাহ বলেন, ‘সাহায্যপ্রার্থীকে ধমক দিয়ো না।’ (সুরা দোহা, আয়াত ১০) কেউ অর্থের জন্য, কেউ জ্ঞান বা পরামর্শের জন্য, কেউ নিজের প্রয়োজনের কথা নিয়ে আসতে পারেন। প্রয়োজন মেটানো সম্ভব না হলেও তাঁকে অপমান করা যাবে না; সুন্দর কথা বলে সম্মানের সঙ্গে ফিরিয়ে দেওয়াই ইসলামের শিক্ষা।
তৃতীয় শিক্ষা নেয়ামতের স্বীকৃতি। আল্লাহ বলেন, ‘তোমার প্রতিপালকের নেয়ামতের কথা প্রকাশ করো।’ (সুরা দোহা, আয়াত ১১) লেখার ব্যাখ্যায়, নেয়ামত স্বীকার করা, শুকরিয়া আদায় করা এবং তা কল্যাণে ব্যবহার করা জরুরি: সম্পদ পেলে অভাবীর পাশে দাঁড়ানো, জ্ঞান পেলে মানুষকে উপকৃত করা, মর্যাদা পেলে দুর্বলের অধিকার রক্ষা করা।
লেখকের ভাষ্যে, সুরাটি মানুষকে মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হতে শেখায়, আর এ তিন শিক্ষা সুন্দর সমাজ গঠনের ভিত্তি। একজন মুমিন নিজের জীবনে আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করবেন এবং সেই অনুগ্রহের প্রভাব অন্যের জীবনেও পৌঁছে দেবেন।
ছবি: Sultan Ahmed Niloy / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)