মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি গল্প, যার কেন্দ্রে স্থপতি ও প্রকৌশলী ড. মুহাম্মদ কামাল ইসমাইল। আওয়ার ইসলাম গল্পটি তুলে ধরেছে, যা একসময় শুনিয়েছিলেন মিসরের ইসলামি চিন্তাবিদ ড. জাগলুল আল-নাজ্জার।
১৯০৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া ড. কামাল ইসমাইল মারা যান ২০০৮ সালের ২ আগস্ট। মিসরের মসজিদ নিয়ে তাঁর লেখা ‘এনসাইক্লোপিডিয়া অব দ্য মস্কস অব ইজিপ্ট’ দেখে সৌদি বাদশাহ ফাহদ বিন আবদুল আজিজ তাঁকে দুই পবিত্র মসজিদের বৃহৎ সম্প্রসারণের নকশার দায়িত্ব দেন।
আশির দশকের শুরুতে প্রচণ্ড গরমে হাজিদের তাওয়াফ সহজ করতে মসজিদুল হারামের প্রাঙ্গণে তাপ শোষণকারী ‘থাসোস’ মার্বেল বসানো হয়, যা আনা হয়েছিল গ্রিসের একটি পাহাড়ের প্রায় অর্ধেক অংশ থেকে। প্রায় ১০ বছর পর মসজিদে নববীর সম্প্রসারণে একই মার্বেলের দরকার পড়লে ড. কামাল নিজেই গ্রিসে যান। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান জানান, প্রথম চালানের পরপরই বাকি মার্বেলও বিক্রি হয়ে গেছে।
হাল না ছেড়ে তিনি পুরোনো নথি খুঁজতে অনুরোধ করে হোটেলের ঠিকানা রেখে আসেন। পরদিন ফোন আসে: ক্রেতার সন্ধান মিলেছে, আর তিনি থাকেন সৌদি আরবেই। দেশে ফিরে ড. কামাল ওই ব্যক্তির কাছে গিয়ে দেখেন, প্রায় ১০ বছর আগে কেনা পুরো মার্বেল গুদামে অব্যবহৃত পড়ে আছে।
ড. কামাল ফাঁকা চেক দিতে চাইলেও মালিক মসজিদে নববীর কাজে লাগবে শুনে কোনো অর্থ নিতে রাজি হননি। তাঁর কথা ছিল, আল্লাহই তাঁকে দিয়ে এগুলো কিনিয়ে গুদামে ভুলিয়ে রেখেছিলেন, এগুলো নবীজি (সা.)-এর মসজিদের জন্যই নির্ধারিত ছিল। এভাবে গ্রিসের সেই পাহাড়ের বাকি অর্ধেকের মার্বেল জায়গা পায় মসজিদে নববীর প্রাঙ্গণে।
প্রতিবেদনটি আওয়ার ইসলামের প্রতিবেদন অবলম্বনে, যার সূত্র হারামাইন আর্কাইভ।
ছবি: Mondephile / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: আওয়ার ইসলাম





মন্তব্য
(০)