পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে দিনের শুরুতে ফজরের ওয়াক্তে চার রাকাত নামাজ পড়তে হয়, এর দুই রাকাত ফরজ আর দুই রাকাত সুন্নত। ইত্তেফাকের ধর্ম পাতার একটি লেখায় বলা হয়েছে, এই সুন্নতকে রাসুলুল্লাহ (সা.) অন্য যেকোনো নফল নামাজের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন, আর কারও তা ছুটে গেলে পরে আদায় করার সুযোগও হাদিসে রয়েছে।
লেখাটি শুরু হয়েছে নামাজের গুরুত্ব দিয়ে। সালাত ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের দ্বিতীয় এবং অন্যতম ফরজ ইবাদত; লেখায় বলা হয়েছে, পবিত্র কুরআনে ৮২ বার নামাজের কথা এসেছে। উবাদাহ ইবনুস সামিত (রা.) বর্ণিত হাদিসে আছে, যে ব্যক্তি ভালোভাবে অজু করে, সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করে এবং রুকু ও খুশু পূর্ণ করে, তার জন্য আল্লাহর ক্ষমার প্রতিশ্রুতি রয়েছে (মেশকাত, হাদিস ৫৭০)।
ফজরের সুন্নতের বিশেষ মর্যাদা নিয়ে আয়েশা (রা.) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে ফজরের দুই রাকাত সুন্নতের মতো অন্য কোনো নফল নামাজের প্রতি এত যত্নশীল দেখেননি (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৫৫৯)। হাফসা (রা.) জানিয়েছেন, ফজরের সময় হলে নবীজি সংক্ষিপ্ত দুই রাকাত ছাড়া আর কোনো নামাজ পড়তেন না (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৫৫১)।
কেউ যদি সুন্নত পড়ার আগেই দেখেন ফরজের জামাত দাঁড়িয়ে গেছে, তাহলে লেখার ভাষ্য অনুযায়ী পরে সুন্নত পড়ে নেওয়া যায়। এমনকি সূর্যোদয়ের পরও ফজরের দুই রাকাত সুন্নত আদায় করা যায়। এর পক্ষে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস উদ্ধৃত হয়েছে: যে ব্যক্তি ফরজের আগে ফজরের দুই রাকাত পড়েনি, সে যেন সূর্যোদয়ের পর তা আদায় করে (সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস ৪২৩)।
লেখার মূল বার্তা হলো, ফজরের সুন্নত ছুটে গেলে তা একেবারে বাদ না দিয়ে সুযোগমতো আদায় করে নেওয়া, কারণ নবীজি এ নামাজকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। মাসআলার খুঁটিনাটি জানতে স্থানীয় আলেমের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
ছবি: Masumcity / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ইত্তেফাক





মন্তব্য
(০)