গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের জরমনদী গ্রামে একসময় হাতে গোনা কয়েকটি বাড়িতে শিম চাষ হতো। এখন অন্তত ২০টি পরিবার প্রায় ৩৫ বিঘা জমিতে শিম চাষ করে সংসার চালাচ্ছে। সমকালের সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি এ মান্নান আকন্দ গ্রামটির এই বদলের খবর দিয়েছেন।
প্রায় ১৬ বছর আগে মো. নাছির উদ্দিন শ্বশুরবাড়ি নাটোর থেকে পুঁটি জাতের শিমের বীজ এনে উঠানে মাচা করে চাষ শুরু করেন। পরের বছর প্রতিবেশী আবু তালেব মিয়া তাঁর কাছ থেকে বীজ নিয়ে ১০ শতকে বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেন; প্রথম বছর লাভ না হলেও পরের বছর ২০ শতকে চাষ করে খরচ বাদে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ করেন। এরপর তাঁর ভাই ও চাচাতো ভাইয়েরা, ধীরে ধীরে গ্রামের অন্যরাও যুক্ত হন।
আবু তালেব জানান, শুরুতে মাচার জন্য প্রায় পাঁচ হাজার টাকার বাঁশ কিনতে হয়েছিল; এখন বাঁশের খুঁটির সঙ্গে জিআই তার ব্যবহার করায় খরচ কমেছে, মাচাও টেকসই হচ্ছে। এবার ২০ শতকে পুঁটি শিমে তাঁর খরচ প্রায় ১২ হাজার টাকা, বিক্রির আশা প্রায় এক লাখ টাকার। সাইদুজ্জামান মিয়া প্রায় দুই বিঘায় সাটিয়া জাতের শিমে খরচ করেছেন প্রায় ৫০ হাজার টাকা, আশা প্রায় তিন লাখ টাকার বিক্রি; আগামী পাঁচ-ছয় মাস বিক্রি চলবে। তিন বিঘায় পুঁটি ও সাটিয়া শিম চাষ করা বিধান চন্দ্র আশা করছেন প্রায় চার লাখ টাকার।
তবে বাঁশ, সুতলি, জিআই তার, বীজ, সার, কীটনাশক ও মজুরির দাম বাড়ায় এবং ঘন ঘন বৃষ্টিতে লাভ কমছে বলে জানান চাষিরা। সাইদুজ্জামান কৃষি বিভাগের পরামর্শ না পাওয়ার অভিযোগও করেন। এখন পাইকারিতে শিমের কেজি ৫০ টাকা, আর সুন্দরগঞ্জ বাজারে খুচরা ৬০ থেকে ৬৫ টাকা বলে জানান কাঁচামাল ব্যবসায়ী হামিদুর রহমান।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে সুন্দরগঞ্জের ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ৮০০ হেক্টরে শাকসবজির আবাদ হয়েছে, যার বড় অংশ তিস্তার চরে। সাধারণত শ্রাবণ-ভাদ্র (আগস্ট-সেপ্টেম্বর) শিম লাগানোর সময়, বীজ বোনার ৪৫ থেকে ৫৫ দিনে ফলন শুরু হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, শাকসবজি উঁচু জমির উপযোগী এবং তুলনামূলক কম খরচে ভালো মুনাফা দেয়, তবে নিয়মিত সময় ও নিবিড় পরিচর্যা লাগে। জরমনদীর চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)