ধাতুদূষিত কৃষিজমি পরিষ্কারে ঝাল মরিচ কাজে আসতে পারে, আবার ফসলও খাওয়ার অযোগ্য হয় না, এমন ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা। খবরটি দিয়েছে ফার্মস ডটকম। গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন স্নাতকোত্তর গবেষক বসন্ত নেউপানে (Basanta Neupane), কৃষির অধ্যাপক জর্জ এফ. অ্যান্টোনিয়াসের তত্ত্বাবধানে।
ভারী ধাতু পরিবেশে ভাঙে না, প্রাকৃতিক কারণ ও মানুষের কর্মকাণ্ডে ধীরে ধীরে মাটিতে জমে। এগুলো সামলানোর একটি উপায় ফাইটোরেমিডিয়েশন, অর্থাৎ গাছ দিয়ে দূষক শুষে নেওয়া বা আটকে রাখা। নেউপানে বলেন, মাটিতে ভিন্ন ভিন্ন উপকরণ দিলে মরিচ গাছে ধাতু কীভাবে ঢোকে, গাছ কতটা শোষে আর মানুষ যে অংশ খায় তাতে কতটা জমে, তা-ই তাঁরা দেখতে চেয়েছেন।
কেনটাকির মাঠে জর্জিয়া ফ্লেম জাতের ঝাল মরিচ লাগানো হয় বিভিন্ন মাটিতে: বাণিজ্যিক সার, কেঁচো সার, পয়োবর্জ্যের কাদা, মুরগির বিষ্ঠা, ঘোড়ার গোবর, আর কিছুই না দেওয়া মাটি। কোনো কোনোটিতে মেশানো হয় বায়োচার, কম অক্সিজেনে জৈব বস্তু পুড়িয়ে তৈরি কার্বনসমৃদ্ধ উপাদান। গাছগুলো ক্যাডমিয়াম, নিকেল, তামা ও দস্তা শোষণ করেছে, আর অন্য উপকরণের সঙ্গে বায়োচার মেশালে কিছু ধাতুর শোষণ বেড়েছে।
মূল ফল হলো, তোলা মরিচে ধাতুর মাত্রা গবেষণায় ব্যবহৃত অনুমোদিত সীমার নিচে ছিল। তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, এ ফল কেবল এই ফসল, এই মাটি-উপকরণ আর এই পরিবেশের জন্য প্রযোজ্য, আর গবেষণা এক মৌসুমের। বদলাতে থাকা আবহাওয়া, গাছের বৃদ্ধি ও ফলনের ওপর প্রভাব জানতে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা দরকার বলে তাঁরা মনে করেন।
অধ্যাপক অ্যান্টোনিয়াস বলেন, প্রতিটি গবেষণা মাটি ব্যবস্থাপনা, ফসলের ফলন আর পরিবেশের মানের সম্পর্ক বুঝতে সাহায্য করে। প্রকল্পে অর্থ দিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগের জাতীয় খাদ্য ও কৃষি ইনস্টিটিউট।
ছবি: Sreeni.kaki / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Farms.com





মন্তব্য
(০)