পৃথিবীর বরফে ঢাকা অঞ্চলগুলো বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে; এতে ভয়াবহ বন্যা, বরফের অপূরণীয় ক্ষয় আর আটকে থাকা বিপুল কার্বন বেরিয়ে আসার ঝুঁকি বাড়ছে। তুরস্কের আন্তালিয়ায় কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলন শুরুর প্রায় এক সপ্তাহ আগে, ২ নভেম্বর প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনে এ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডাউন টু আর্থ। প্রতিবেদন দুটি তৈরি করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রায়োস্ফিয়ার ক্লাইমেট ইনিশিয়েটিভ (আইসিসিআই) ও জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি)।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যারিস চুক্তির ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা সাময়িকভাবে পেরোলেও হিমবাহ, বরফের চাদর ও চিরহিমায়িত মাটির (পারমাফ্রস্ট) ওপর স্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে। গত এক দশকে আর্কটিক গরম হয়েছে বৈশ্বিক গড়ের চার গুণ পর্যন্ত দ্রুত; হিন্দুকুশ হিমালয়ে বিশ্বের তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি বাড়লে আঞ্চলিক উষ্ণতা হতে পারে ১.৮ থেকে ২.২ ডিগ্রি; গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলছে নব্বইয়ের দশকের প্রায় ছয় গুণ হারে। উত্তর গোলার্ধের প্রায় ১৫ শতাংশ, অর্থাৎ ১ কোটি ৪০ লাখ বর্গকিলোমিটার জমির নিচের পারমাফ্রস্টে জমা আছে অন্তত ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টন কার্বন।
জাতিসংঘের নেতৃত্বে আরেকটি গবেষণা, যা এখনো প্রকাশের অপেক্ষায়, ১৮৩৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত হিন্দুকুশ হিমালয়ের ৪২ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকায় হিমবাহ হ্রদ ফেটে সৃষ্ট বন্যা (জিএলওএফ) পরীক্ষা করেছে। এলাকাটির মধ্যে আছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত, চীন, নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। চীনে এমন বন্যা হয়েছে ১৯৯টি, পাকিস্তানে ১৫২টি, ভারতে ৬২টি, নেপালে ৫৮টি; কিন্তু মৃত্যু সবচেয়ে বেশি ভারতে, ৬ হাজার ১১৯ জন, যেখানে পাকিস্তানে ১ হাজার ৯৯১ এবং চীনে ৬২৫ জন। বাস্তুচ্যুতিও সবচেয়ে বেশি ভারতে, তারপর নেপাল ও পাকিস্তানে।
গবেষণার প্রধান লেখক, বনে জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও মানব নিরাপত্তা ইনস্টিটিউটের হিমবাহবিজ্ঞানী দীপেশ চাপাগাইন বলেন, মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাম্প্রতিক দশকগুলোতে এ ধরনের বন্যা দ্রুত বেড়েছে। ১৯৫০ সালের পর দশকে প্রায় ৩৪টি, আগের তুলনায় পাঁচ গুণ। অর্ধেক ঘটনার সূত্রপাত বরফধসে, এক-চতুর্থাংশ ভারী বৃষ্টিতে; আর প্রায় ৭০ শতাংশ ঘটেছে গ্রীষ্মের বর্ষাকালে, যখন তাপ ও বৃষ্টি দুটোই সর্বোচ্চ।
আইসিসিআইয়ের প্রধান বিজ্ঞানী ও প্রতিবেদনের সমন্বয়ক প্রধান লেখক জেমস কার্কহ্যাম বলেন, ছবিটা খুবই হতাশার ও ভীতিকর। তিনি অভিযোজনে বেশি অর্থ এবং সর্বোচ্চ উষ্ণতা যতটা সম্ভব ১.৫ ডিগ্রির কাছে ও স্বল্পস্থায়ী রাখার আহ্বান জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভারতীয় জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ফলাফলকে "চোখ খুলে দেওয়ার মতো" বলে হিমালয় অঞ্চলের মানুষ, অবকাঠামো ও প্রতিবেশ রক্ষায় দ্রুত অভিযোজনের তাগিদ দেন।
ছবি: Kapilkhatri19 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)