সাগরের ভাঙনে গত ১৬ বছরে কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যানসহ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের এক হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি বিলীন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। ঠেকাতে এবার বাঁশ, কাঠের খুঁটি আর গাছের ডালপালা দিয়ে পরিবেশবান্ধব বেষ্টনী বানানো হচ্ছে, জানিয়েছেন চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদক এনায়েতুর রহমান।
জাপান সরকারের আর্থিক সহায়তায় পরীক্ষামূলকভাবে কাজ চলছে কুয়াকাটার গঙ্গামতি সৈকতের ৬০ মিটার আর বরগুনার টেংরাগিরী সৈকতের ৮০ মিটার এলাকায়। ভাঙনকবলিত জায়গায় সারি সারি বাঁশের খুঁটি পুঁতে আড়াআড়ি বাঁশে ফাঁকযুক্ত বেষ্টনী তৈরি হচ্ছে। লক্ষ্য, ঢেউ ও জোয়ারের গতি কমিয়ে ভেতরে পলি জমানো; পরে সেখানে ম্যানগ্রোভসহ স্থানীয় গাছ লাগিয়ে শিকড় দিয়ে মাটি ধরে রাখা।
কাজটি চলছে প্রকৃতিনির্ভর বন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের সহনশীলতা বৃদ্ধিকরণ শীর্ষক পাইলট প্রকল্পে, যা জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং মেয়াদ ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, গাছ বড় হলে মাছ, কাঁকড়া ও অন্য জলজ প্রাণীর আবাস তৈরি হবে, আর কংক্রিটের স্থায়ী কাঠামোর চেয়ে খরচও কম হতে পারে।
উপকূলীয় বন বিভাগের পটুয়াখালী কার্যালয়ের তথ্যে, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে সৈকতসংলগ্ন প্রায় এক হাজার একরে ঝাউবাগান করা হয়, ২০১০ সালে কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান ঘোষিত হয়। ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর থেকে ভাঙন বাড়ে; ফয়েজ কোকোনাট ফার্মের বড় নারকেলবাগানসহ কয়েক কিলোমিটারের গাছ ও বালুচর সাগরে গেছে। এখন বনভূমি প্রায় ৬০০ হেক্টর। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নানা প্রকল্পেও পরিস্থিতির বড় উন্নতি হয়নি।
পাউবোর কলাপাড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, এই পরীক্ষামূলক বেষ্টনীর কার্যকারিতা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। অন্যদিকে পটুয়াখালীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মো. জাহিদুর রহমান বলেন, স্থানীয় উপকরণে স্বল্প ব্যয়ে বানানো বেষ্টনীর সুফল এরই মধ্যে দেখা যাচ্ছে।
তাঁর আশা, প্রযুক্তিটি সফল হলে উপকূলীয় বন রক্ষা, ভাঙন কমানো, নতুন জেগে ওঠা চর উঁচু করা আর মানুষের জানমাল সুরক্ষায় কাজে আসবে এবং উপকূল রক্ষার কর্মসূচিতে সরকারের বিপুল অর্থ সাশ্রয় হতে পারে। উপকূলের কৃষি আর বসতির জন্য বনই প্রথম ঢাল, তাই ৬০ আর ৮০ মিটারের এই পরীক্ষার ফল বড় পরিসরে কাজে লাগতে পারে।
ছবি: Salahuddin66 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: চ্যানেল আই অনলাইন





মন্তব্য
(০)