হাওরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেঘনা নদী ক্রমে দূষিত হচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, সচেতনতার অভাব আর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় ময়লা, প্লাস্টিক ও অপচনশীল বর্জ্য নদীতে পড়ছে, নষ্ট হচ্ছে পানির গুণাগুণ; হুমকিতে জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য। খবরটি দিয়েছে দৈনিক বাংলা।
ঘনবসতির ছোট শহরটিতে জনসংখ্যার সঙ্গে বর্জ্য বাড়লেও আধুনিক ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। নদীর তীর ঘেঁষে ময়লার স্তূপ, কোথাও সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে পৌরসভার বর্জ্য। তীরে জমা প্লাস্টিক বৃষ্টি আর স্রোতে মিশে পানিতে যাচ্ছে, অপরিকল্পিত পয়োনিষ্কাশনের দূষিত পানিও নামছে নদীতে।
স্থানীয় বাসিন্দা এহসানুল হক পিন্টু বলেন, নদী ঘিরেই ভৈরব শহর গড়ে উঠেছে, অথচ আবাসনের জন্য একটি চক্র নদীর সঙ্গে যুক্ত খাল-বিল ভরাট করছে, এতে পানিপ্রবাহ বাধা পাচ্ছে। পৌরসভার পয়োনিষ্কাশন লাইনের পানি সরাসরি নদীতে মিশে জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত করছে বলেও জানান তিনি।
স্কুলশিক্ষক নজরুল ইসলাম রিপনের মতে, মাঝেমধ্যে পরিচ্ছন্নতা অভিযান যথেষ্ট নয়; দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রশাসনের নজরদারি আর নদীর তীরে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা দরকার।
ভৈরব পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, পৌরসভা নিয়মিত ময়লা সংগ্রহের চেষ্টা করে, কিন্তু নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় বিপুল বর্জ্য সামলাতে সমস্যা হচ্ছে। নদীতীরের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের অনেকে আশপাশে ময়লা ফেলেন; সচেতনতা বাড়ানো আর নজরদারির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
পরিবেশসংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন, পয়োনিষ্কাশন উন্নয়ন, তীর দখল ও দূষণ রোধ এবং খাল-বিলের প্রবাহ ফেরানো জরুরি। হাওর আর মেঘনার সংযোগস্থলে এই দূষণ শুধু শহরের সমস্যা নয়, নদীর মাছ আর তার ওপর নির্ভর করা জেলেদের জীবিকারও প্রশ্ন।
ছবি: Moheen Reeyad / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: দৈনিক বাংলা





মন্তব্য
(০)