ভারত ও বাংলাদেশজুড়ে বিস্তৃত পৃথিবীর বৃহত্তম অবিচ্ছিন্ন ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন দাঁড়িয়ে আছে সংরক্ষণ আর এখানকার লাখো মানুষের টিকে থাকার মধ্যে এক সন্ধিক্ষণে। মংগাবে ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত মন্তব্য-নিবন্ধে এ কথা লিখেছেন বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজের অ্যাডজাংক্ট অধ্যাপক অদিতি ট্যান্ডন (Aditi Tandon)। মতামত লেখকের নিজস্ব।
তিনি বর্ণনা করেছেন গঙ্গা (বাংলাদেশে পদ্মা), ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার গড়া এক ব-দ্বীপের কথা, যেখানে প্রায় পাঁচ হাজার থেকে দুই হাজার বছর আগে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির গতি কমায় পলি জমে কাদার চর তৈরি হয় এবং সুন্দরী (Heritiera fomes) গাছের মতো ম্যানগ্রোভ সেখানে শিকড় গাড়ে। মিঠা ও লোনা পানির মিশ্রণের কারণে অঞ্চলটির প্রায় ৯০ শতাংশ জলজ প্রাণীর প্রজনন ও বেড়ে ওঠার জায়গা এটি, এর মধ্যে গাঙ্গেয় শুশুক ও ইরাবতী ডলফিনও আছে।
লেখকের মতে, সেই ভারসাম্য এখন ভাঙছে। নাসার ল্যান্ডস্যাট উপগ্রহচিত্রভিত্তিক তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি লিখেছেন, গত দুই দশকে সুন্দরবনে সমুদ্রপৃষ্ঠ বছরে গড়ে প্রায় ৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে, যা বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে অনেক বেশি; ৪০ বছরে ভাঙনে উপকূলরেখার প্রায় ১২ শতাংশ হারিয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি চারটি বিষয় বলেছেন: দ্রুত সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি, ভূমি দেবে যাওয়া, উজানের বাঁধে পলি কমে যাওয়া এবং ফারাক্কা ব্যারাজের মতো স্থাপনার কারণে গঙ্গা-পদ্মা থেকে মিঠাপানির প্রবাহ কমে যাওয়া।
তিনি লিখেছেন, লোনাপানির অনুপ্রবেশে কৃষিজমি ও মিঠাপানির উৎস দূষিত হয়ে স্থানীয় পরিবারগুলোর ভরসা চাষাবাদ আর মাছ ধরা মুখ থুবড়ে পড়েছে; বর্ষায় লবণাক্ততা কমে, গ্রীষ্মে বিপজ্জনক মাত্রায় বাড়ে। অঞ্চলটিতে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ লাখ মানুষের বাস, এর মধ্যে ভারতে প্রায় ৪৪ থেকে ৪৫ লাখ এবং বাংলাদেশে প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লাখ। কয়েকটি দ্বীপ এর মধ্যে তলিয়ে গেছে; অথচ আন্তর্জাতিক চুক্তি-আইনে পরিবেশগত অভিবাসনের কোনো স্বীকৃতি নেই, আর ভারতের দুর্যোগনীতি চরম আবহাওয়ার পর ত্রাণ দেয়, ধীর পরিবেশগত পরিবর্তনে ঘরছাড়াদের নয়।
অমিতাভ ঘোষের উপন্যাস দ্য হাংরি টাইডের প্রসঙ্গ টেনে লেখক বন রক্ষা আর বন থেকে মানুষের জীবিকার মধ্যে স্থায়ী টানাপোড়েন দেখেছেন। সামনে এগোনোর পথ হিসেবে তিনি সীমান্তের দুই পাশের গবেষক ও জনগোষ্ঠীর বিবেচনায় থাকা "উভচর জীবনযাপনের সুযোগ" (অ্যাম্ফিবিয়াস লিভিং অপরচুনিটিজ) ধারণার কথা বলেছেন: দুর্যোগসহনশীল ঘর, দুর্যোগসহনশীল কৃষি ও মৎস্য, আর পুঁজি, প্রযুক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় সমবায়ী উদ্যোগ। তাঁর মতে, এর সাফল্য নির্ভর করবে টেকসই বিনিয়োগ এবং সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর।
ছবি: Amartyabag (mangroves in the Sundarbans) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Mongabay India





মন্তব্য
(০)