ডিএনএ বারকোডিং পদ্ধতিতে সুন্দরবনের নদী-খালে পাঁচ প্রজাতির মাছ ও দুই প্রজাতির চিংড়িকে বাংলাদেশের উপকূলীয় জলসীমায় নতুন রেকর্ড হিসেবে শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। প্রাণীগুলো আগে থেকেই ছিল, কিন্তু চেহারায় মিল থাকায় এত দিন সঠিকভাবে আলাদা করা যায়নি।
সরকারের সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় গবেষণাটি করেছে সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) ও আরণ্যক ফাউন্ডেশন। ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ১৬ মাস ধরে সুন্দরবনের ৬৫টি নদী ও খাল এবং কয়রা, শ্যামনগর, মোংলা ও শরণখোলার মাছ অবতরণকেন্দ্র থেকে তথ্য নেওয়া হয়। জরিপে ২৫১ প্রজাতির মাছ ও ৫১ প্রজাতির ক্রাস্টেশিয়ান নথিভুক্ত হয়েছে। খসড়া প্রতিবেদন ১৩ আগস্ট খুলনায় উপস্থাপন করা হয়।
নতুন রেকর্ডের মাছ পাঁচটি হলো বড় আঁইশ পারশে (Planiliza macrolepis), ফোঁটা বাটা (Crenimugil seheli), বার্মিজ এক ঠুঁইটা (Dermogenys burmanica), কুলি বেলে বা চ্যাপ্টা মাথা বেলে (Butis humeralis) এবং সবুজ ফোঁটা বেলে (Acentrogobius viridipunctatus)। চিংড়ি দুটি মাকড়সা চিংড়ি (Cloridos scorpio) ও ফোঁটা চিংড়ি (Nematopalaemon tenuipes)।
গবেষক দলের প্রধান, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক এম এনামুল হক বলেন, ডিএনএ বারকোডিং অনেকটা জীবের আঙুলের ছাপের মতো; ডিএনএর নির্দিষ্ট অংশের বিন্যাস পরিচিত প্রজাতির তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে প্রায় একই রকম মাছকেও আলাদা করা যায়। গবেষণায় ৮৩টি মাছ ও ২৮টি ক্রাস্টেশিয়ানের নমুনা সিকোয়েন্স করা হয়েছে। সাতটি প্রজাতির সিকোয়েন্স চূড়ান্ত কর্মশালার পর বন বিভাগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশনের আন্তর্জাতিক জিন ব্যাংকে জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
গবেষণা আবার সতর্ক করছে: ভেটকি, পোয়া ও পাঙাশের মতো বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অন্তত আট প্রজাতির মাছ অতিরিক্ত আহরণের চাপে। ছোট মাছ ও পোনা ধরা এবং নদী-খালে বিষ দেওয়াও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
বন বিভাগ জানায়, ২০২০ সালের শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা আর এবারের তথ্য মিলিয়ে সুন্দরবনে ৩৮২ প্রজাতির মাছ নথিবদ্ধ হয়েছে; শেলফিশ ৮৮ প্রজাতি, যার মধ্যে ২৭ প্রজাতির চিংড়ি ও ২৪ প্রজাতির কাঁকড়া। সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের পরিচালক ও খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, সুপারিশের ভিত্তিতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন প্রথম আলোর ইমতিয়াজ উদ্দীন।
ছবি: সুন্দরবনের নদী, Amartyabag / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)