দক্ষিণ আফ্রিকার আখচাষিদের সংগঠন এসএ কেইনগ্রোয়ার্স (SA Canegrowers) অর্থমন্ত্রী এনোক গোডংওয়ানার কাছে স্বাস্থ্য উন্নয়ন লেভি, যা চিনি কর নামে পরিচিত, বাতিলের দাবি জানিয়েছে। আগামী বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২৬ সংসদে মধ্যমেয়াদি বাজেট নীতি বিবৃতি পেশ হওয়ার কথা, সেখানেই এই সিদ্ধান্ত চায় তারা।
সংগঠনটির দাবি, ২০১৮ সালের এপ্রিলে চালু হওয়া এই কর চিনিশিল্পের মারাত্মক ক্ষতি করেছে। নেডল্যাকের করানো এক সমীক্ষার বরাতে তারা বলছে, ২০১৯ সালের মধ্যেই আখ চাষ ও চিনিকল মিলিয়ে ১৬ হাজার চাকরি গেছে, আর করের প্রথম বছরেই চিনি বিক্রি কমেছে আড়াই লাখ টন। শত শত কোটি র্যান্ডের রাজস্ব ক্ষতি এবং কোয়াজুলু-নাটালে দুটি চিনিকল স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার পেছনেও এই করের ভূমিকা দেখছে তারা।
চাষিরা বলছেন, তাঁরা এখন একসঙ্গে কয়েকটি সংকটে। এ মৌসুমে কলে পৌঁছানো আখ আগের মৌসুমের চেয়ে ১৮ শতাংশ কম, আর সেই আখ থেকে পাওয়া মূল্য কমেছে ১৭ শতাংশ। আখমাড়াইয়ের মৌসুম স্বাভাবিকের চেয়ে দীর্ঘ হতে পারে, কিন্তু মাড়াইয়ের পরিমাণ না বাড়লে ছোট ফলনে চাষিদের লোকসান হবে। দুর্বল শুল্ক কাঠামো ও তদারকির ফাঁকে দুই বছর ধরে বিদেশি চিনি ঢুকছে, টোঙ্গাট হুলেট কোম্পানি দেউলিয়াত্ব এড়ানোর প্রক্রিয়ায় আছে, আর এই কর পানীয় প্রস্তুতকারকদের দেশি চিনি থেকে দূরে সরাচ্ছে বলে অভিযোগ সংগঠনটির।
এসএ কেইনগ্রোয়ার্সের চেয়ারম্যান হিগিন্স এমডলুলি বলেন, কলে আখ কম যাচ্ছে, আর কলে তৈরি দেশি চিনিকে দোকানের তাক থেকে সরিয়ে দিচ্ছে বিদেশি চিনি। তাঁর ভাষ্য, চাষি ও চিনিকল মালিকেরা আখ খাতের মহাপরিকল্পনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সরকারের নীতিতেও একই অঙ্গীকার দরকার; কর থাকলে বৈচিত্র্য আনার জন্য প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আসবে না।
সংগঠনটির হিসাবে দেশটির চিনিশিল্পের ওপর ১০ লাখের বেশি মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল, যার মধ্যে ২৭ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র আখচাষি, খামার শ্রমিক, আখ কাটার শ্রমিক, চিনিকলের কর্মী এবং পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসা আছে। এমডলুলি প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার সরকারকে কর পুরোপুরি তুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে শিল্পটি সবুজ শিল্পায়নের মতো নতুন উদ্যোগে মন দিতে পারে।
ছবি: Helena Hugo / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Food for Mzansi





মন্তব্য
(০)