বৃষ্টি, কুয়াশা আর ঠান্ডা রাতের জন্য পরিচিত ভারতের কেরালার পশ্চিমঘাট পর্বতমালার পাহাড়ি জেলা ওয়েনাড় গরম হয়ে উঠছে। দেশটির সবচেয়ে খুঁটিনাটি স্থানীয় আবহাওয়া রেকর্ডের একটিতে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
২০১৮ ও ২০১৯ সালের বন্যা ও ভূমিধসের পর জেলা সদর কালপেট্টার হিউম সেন্টার ফর ইকোলজি অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ বায়োলজি স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে একটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। ২০২৪ সাল থেকে স্থানীয়দের রক্ষণাবেক্ষণ করা বৃষ্টিমাপক ও থার্মোমিটারে ২০০টির বেশি জায়গা থেকে বৃষ্টি ও তাপমাত্রার তথ্য নেওয়া হচ্ছে।
সর্বশেষ হিসাব উদ্বেগজনক। ২০২৬ সালের ১ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর গড় তাপমাত্রা ছিল ২৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যেখানে ২০২৩ সালে ২৭.৩, ২০২৪ সালে ২৭.২ ও ২০২৫ সালে ২৭.৩ ডিগ্রি; অর্থাৎ তিন বছরের গড়ের চেয়ে প্রায় ১.৯ ডিগ্রি বেশি। ১১ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর টানা সাত দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রির ওপরে ছিল, খোলা মাটির তাপমাত্রা উঠেছে ৩৯ ডিগ্রিতে। বৃষ্টি হয়েছে মাত্র চার দফা, বিচ্ছিন্নভাবে।
কৃষির জন্য এটি বড় খবর। জেলার কফি, গোলমরিচ, সুপারি ও ধানের চাষ গড়ে উঠেছে বৃষ্টি, রোদ আর ঠান্ডা রাতের একটি নির্দিষ্ট ছন্দে। হিউম সেন্টারের পরিচালক সি কে বিষ্ণুদাস ডাউন টু আর্থকে বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নামতে পারে, আর জলাভূমির ফসল, বিশেষ করে ধান, পানির চাপে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সম্প্রতি একটি কফিগাছে সেপ্টেম্বরেই ফুল দেখা গেছে, যদিও সেখানে সাধারণত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারিতে ফুল আসে; একটি ঘটনা দিয়ে প্রবণতা প্রমাণ হয় না, তবে খতিয়ে দেখা দরকার বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
গবেষণাও ঝুঁকির কথা বলছে। ভাইত্রি, আম্বালাভায়াল ও নুলপুঝার ১২০টি কফিচাষি পরিবারের ওপর এক সমীক্ষায় বৃষ্টি ও তাপমাত্রার বদলে বড় ঝুঁকি পাওয়া গেছে, সবচেয়ে বেশি ভাইত্রিতে। ৩১৪টি রোবাস্টা কফি খামারের আরেক গবেষণা বলছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি বাড়লে ওয়েনাড়ে রোবাস্টার ফলন মাঝারি হিসাবে প্রায় ১২ শতাংশ কমতে পারে। অন্যদিকে ২০২৪ সালের মুন্ডাক্কাই-চুরালমালা ভূমিধস ঘটানো বৃষ্টি মানবসৃষ্ট উষ্ণায়নের কারণে প্রায় ১০.৮ শতাংশ বেশি ভারী ছিল বলে অনুমান; ফলে একই মৌসুমে খরা আর বিধ্বংসী বৃষ্টি দুটোই সামলাতে হতে পারে কৃষককে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গরমে কৃষিশ্রমিক ও গবাদিপশুরও চাপ বাড়বে, আর স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে নির্মাণ এলাকা বাড়ছে, কমছে কৃষি ও ধানের জমি, যা স্থানীয় উষ্ণতা আরও বাড়ায়। পরের ধাপ হিসেবে আবহাওয়ার তথ্যকে মাটির আর্দ্রতা, ভূগর্ভস্থ পানি, ফসলের ফুল আসা ও ফলনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন কে এ শাজি।
ছবি: Ms Sarah Welch / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)