খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কাইনমারা ওয়াটারশেড এলাকায় একটি খাল পুনর্খননের পর বদলে গেছে চাষের ধরন। আগে বর্ষার পানি সরত না, আবার শুকনো মৌসুমে সেচের পানি মিলত না; ফলে কৃষকেরা বছরে একবারই ধান করতে পারতেন।
নেদারল্যান্ডস ও বাংলাদেশের যৌথ সহযোগিতায় সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে ছোট খালটি পুনর্খনন করা হয়েছে। এখন প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে কৃষকেরা শ্যালো টিউবওয়েল বাদ দিয়ে খালের পানিতে সেচ দিচ্ছেন, তাতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমেছে।
ধানের পাশাপাশি এলাকায় এখন হচ্ছে শসা, মিষ্টিকুমড়া, লাউ, তরমুজ, শিম, বরবটি আর করলার মতো উচ্চমূল্যের ফসল, যা স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে দেশের বড় বাজারেও যাচ্ছে। খালের পানি সহজে মেলায় নারীরাও মাঠে কাজ করছেন; অনেকে ঘেরের আইল আর জমির পাশে শাকসবজি ও লতানো ফসল করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। পানি ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নারীদের ৩০ শতাংশ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে, উঠান বৈঠকে শেখানো হচ্ছে আধুনিক চাষ।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নড়াইল ও যশোরের ৭১টি ইউনিয়নে মোট ৯২টি খাল আর ৭১টি পানি সংরক্ষণ জলাধার তৈরি করা হয়েছে, এতে সরাসরি উপকৃত প্রায় এক লাখ পরিবার। খালগুলো সেচের পাশাপাশি মাছ চাষ আর সহজ নৌযোগাযোগের সুযোগও তৈরি করেছে।
ছবি: Kazi Asadullah Al Emran / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: দিনাজপুর টিভি





মন্তব্য
(০)