বাবার চার বিঘা জমির এক বিঘা বেচে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের মালগাড়া গ্রামের বশির আহমেদ। ভিসা হারিয়ে দুই মাস জেল খেটে ছয় বছর আগে খালি হাতে ফেরেন। এলাকার একজনের শসাখেতে দিনমজুরি করতে গিয়ে শসার প্রতি আগ্রহ জন্মায়; চার বছর আগে তিন বিঘায় শুরু করেন নিজের আবাদ। এখন প্রতিবছর কয়েক লাখ টাকার শসা বিক্রি করেন, কিনেছেন দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাও। মালগাড়ার শতাধিক কৃষকের ভাগ্য ফিরেছে শসায়।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, পেকুয়ায় প্রায় ২৪ হেক্টরে শসা চাষ হয়, এর ১৫ হেক্টরই মালগাড়ায়। একসময় এসব জমিতে ধান হতো, কিন্তু আশানুরূপ ফলন না পেয়ে কৃষকেরা ধান থেকে আগ্রহ হারান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন চৌধুরী জানান, মাঠ পরিদর্শন আর মাটি পরীক্ষার পর কৃষকদের শসা চাষের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে চলতি মৌসুমে কক্সবাজারে ১২৬ হেক্টরে শসা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি চকরিয়ায় ৩০ হেক্টর; এ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ১৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকার শসা।
কৃষকেরা জানান, মৌসুম শুরু হয় জুলাইয়ের মাঝামাঝি, বিক্রি চলে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত। এক কানি (সোয়া এক বিঘা) জমিতে প্রায় পাঁচ হাজার বীজ বোনা যায়। চারা গজানোর ৫০ থেকে ৫৫ দিনে ফুল আসে, তারপর ৩০ থেকে ৪০ দিন দুই-তিন দিন পরপর শসা তোলা যায়, একটি গাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ বার। প্রতিটি শসার ওজন গড়ে ৮০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ২০০ গ্রাম; এখন কেজি ৩০ টাকা, মণ ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত।
কৃষকদের হিসাবে এক কানিতে মৌসুমে খরচ ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা, আয় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা। মালগাড়ায় মূলত স্থানীয় জাতের শসা হয়, যার ফলন বেশি আর আকারও বড়। কৃষক কামাল হোছাইন পাঁচ কানিতে শসা করেছেন; প্রতিবার তোলার দিনে কানিপ্রতি ৩৫ থেকে ৫০ মণ পান, বিক্রি হয় ৪২ থেকে ৬০ হাজার টাকায়। কৃষি কার্যালয়ের হিসাবে মালগাড়ায় দিনে গড়ে প্রায় ১৫ টন শসা ওঠে।
ভোরে শসা তুলে কাঁধে ভার নিয়ে দুই-তিন কিলোমিটার হেঁটে কৃষকেরা যান জুমপাড়া বাজারে, যেখানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চকরিয়া ও পেকুয়ার পাইকারেরা আগে থেকেই অপেক্ষায় থাকেন। চট্টগ্রামের পাইকার রফিক মিয়া বলেন, আকার ও স্বাদের কারণে এখানকার শসার চাহিদা বেশি, তবে পরিবহনব্যবস্থা ভালো হলে আরও পাইকার আসতেন। শসাখেতে কাজ করেন কয়েক শ নারী-পুরুষ শ্রমিক; সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী হারানো খদিজা বেগম শুরুতে দিনে ৩০০ টাকা পেতেন, এখন কাজভেদে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা পান।
প্রতিবেদনটি করেছেন সমকালের কক্সবাজার প্রতিনিধি ইব্রাহিম খলিল মামুন ও পেকুয়া প্রতিনিধি হিরু আলম।
ছবি: H. Zell / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)