ভরা বর্ষায় যে বৃষ্টি মেলেনি, আশ্বিনের শেষ সপ্তাহে এসে তা-ই দিনভর ঝরেছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে। উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাবে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, তাতে তলিয়ে গেছে আগাম সবজি আর আলুর অনেক জমি। জ্বালানি তেল আর সারের সংকট সামলে ওঠার আগেই এই ক্ষতিতে চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।
উপজেলায় আবাদযোগ্য জমি ৩২ হাজার ৮৯৬ হেক্টর, যার ২৯ হাজার ৫৯২ হেক্টরে আমন। আগাম আলু হয়েছে ৪০ হেক্টরে, ফুলকপি ৩১২, বাঁধাকপি ৫৫, বেগুন ২০০, শসা ৩০, লাউ ৮৩, শিম ১২ আর করলা ২ হেক্টরে। পানি জমে থাকায় সবজির গোড়া পচার ঝুঁকি বেড়েছে; হাবলু হাট এলাকায় চারা নুয়ে পড়েছে, ঝড়ো বাতাসে কলাগাছও হেলে পড়েছে।
নিজপাড়া ইউনিয়নের দামাইক্ষেত্র গ্রামের শরিফুল ইসলাম প্রায় এক একরে আগাম ফুলকপির চারা লাগিয়েছিলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই বিক্রির উপযোগী হতো। জমিতে পানি আটকে চারার গোড়া পচতে শুরু করেছে; পানি দ্রুত না নামলে পুরো মৌসুমের পরিশ্রম বৃথা যাবে বলে আশঙ্কা তাঁর।
সুজালপুর ইউনিয়নের চাকাই গ্রামের মহবুল ইসলাম বাড়তি খরচ করে প্রায় সাত একরে আগাম আলুর বীজ বুনেছিলেন। বৃষ্টিতে বীজের ওপরের মাটি ধুয়ে গেছে, জমে থাকা পানিতে বীজ পচে যাওয়ার ঝুঁকি; আবার বুনতে হলে আগের পুরো বিনিয়োগই লোকসান।
উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. কাশেম আলী বলেন, আকস্মিক দুর্যোগের ধাক্কা সবচেয়ে বেশি লাগে আগাম সবজি ও আলুতে; খেত থেকে দ্রুত পানি নেমে গেলে ক্ষতি অনেকটা কম হবে। কৃষকদের পরামর্শ দিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
ছবি: USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন) (প্রতীকী: ফুলকপি)
সূত্র: দিনাজপুর টিভি





মন্তব্য
(০)