ফসলের স্বাস্থ্য, ফলনের অনুমান, খরা আর বন্যার বিস্তার মহাকাশ থেকে দেখতে নিজস্ব ভূ-পর্যবেক্ষণ কৃত্রিম উপগ্রহ (আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট) ব্যবস্থার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল)। বঙ্গোপসাগরের নৌযানে সার্বক্ষণিক নজর রাখতে আরেকটি প্রকল্পসহ দুই প্রকল্পে মোট ছয়টি কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সমস্যাটা নির্ভরতার। বিএসসিএল জানায়, জরুরি তথ্য ও ছবির জন্য এখন বিদেশি স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভর করতে হয়; সেই তথ্য কিনতে খরচ বেশি, জরুরি সময়ে সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না, আর স্পর্শকাতর এলাকার তথ্য বাইরে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
প্রস্তাবিত স্যাটেলাইটে দুই ধরনের প্রযুক্তি থাকবে: সূর্যের আলোয় দিনের বেলা ছবি তোলা অপটিক্যাল সেন্সর, আর নিজস্ব রাডার সংকেতে ছবি তোলা সিনথেটিক অ্যাপারচার রাডার (এসএআর), যা মেঘ, বৃষ্টি বা খারাপ আবহাওয়াতেও স্পষ্ট ছবি দেয়। কৃষিতে ফসলের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, ফলন অনুমান ও খরা শনাক্ত, মৎস্য ও পানি ব্যবস্থাপনায় জলাশয়ের মানচিত্র ও বন্যা পর্যবেক্ষণ, আর পরিবেশে বন উজাড়, বৃক্ষরোপণের মূল্যায়ন ও নদীভাঙন দেখার কাজে এটি ব্যবহার হবে।
সাগরের জন্য চারটি লো আর্থ অরবিট (এলইও) স্যাটেলাইটের একটি কনস্টেলেশন ভাবা হচ্ছে, যা নৌযানের অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) সংকেত ধরে কেন্দ্রীয় ডেটা সেন্টারে পাঠাবে। একটি স্যাটেলাইট পৃথিবী ঘুরবে ৯০ থেকে ৯২ মিনিটে, বাংলাদেশের ওপর থাকবে ১১ থেকে ১২ মিনিট; চারটি থাকলে প্রতি ১০ থেকে ১২ মিনিটে একটি করে মাথার ওপর দিয়ে যাবে। প্রতিটি নৌযানের থাকবে আলাদা ডিজিটাল পরিচয়, জানা যাবে নাম, অবস্থান, গতি ও দিক; বিপদে পড়া নৌযানের এসওএস সংকেত সঙ্গে সঙ্গে কমান্ড সেন্টার আর কাছের নৌযানে পৌঁছাবে।
বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০১৮ সালে উৎক্ষেপণ করা বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১-এর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা; আগে এআইএস, পরে আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট। তাঁর মতে, এতে মৎস্য, কৃষি ও পরিবেশের পাশাপাশি নগরায়ণ, ভূমি ব্যবস্থাপনা, উপকূল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার তথ্যও মিলবে। এআইএস উদ্যোগটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে; সম্ভাব্যতা যাচাই, কারিগরি নকশা, অর্থায়ন ও টেন্ডার নিয়ে আলোচনা চলছে।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের হিসাব উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে ভূ-পর্যবেক্ষণ ডেটা থেকে বিশ্বে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হবে; নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকলে বিদেশ থেকে তথ্য কেনায় বৈদেশিক মুদ্রাও বাঁচবে।
ছবি: NASA/JPL-Caltech / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন) (প্রতীকী: রাডার স্যাটেলাইটের শিল্পীর কল্পনা)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)