এ বছরের গ্লোবাল ফুড টেক অ্যাওয়ার্ডসের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় পর্বের সংক্ষিপ্ত তালিকায় উঠেছে দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, তাইওয়ান ও অস্ট্রেলিয়ার পাঁচটি স্টার্টআপ। ফুডনেভিগেটর ও এশিয়া-প্যাসিফিক অ্যাগ্রি-ফুড ইনোভেশন সামিট যৌথভাবে এই পুরস্কার দেয়। প্রতিযোগীদের বয়স পাঁচ বছরের কম ও কর্মী ২০ জনের কম হতে হয়; ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর সিঙ্গাপুরের সম্মেলনে বিজয়ীর নাম ঘোষণা হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ফিউচারসেন্স বানিয়েছে ফুডফোরচেইন, ব্লকচেইনভিত্তিক একটি প্ল্যাটফর্ম। ইন্টারনেট অব থিংসের তথ্য দিয়ে এটি খামার থেকে কারখানা হয়ে বিতরণ পর্যন্ত প্রতিটি পণ্যের চালান অনুসরণ করে। এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশ্লেষণে দেখা যায় কোথায় খাদ্য নষ্ট হচ্ছে, আর অপচয়, ব্যবহার ও খরচের হিসাব মেলে তাৎক্ষণিকভাবে।
ভারতের মাইলওয়াইজ ইনোভেশনস তৈরি করেছে অঙ্কুরিত মিলেটের আটা, যাতে রক্তে শর্করা ধীরে বাড়ে, প্রোটিন বেশি এবং গ্লুটেন নেই বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি; রুটি-বিস্কুট বানাতে এটি গমের আটার মতো কাজ করে। মূলত খাদ্য প্রস্তুতকারকদের জন্য তৈরি এই আটায় নিজেরাও বাজারে এনেছে বুস্ট বান, যার প্রতিটিতে ১৮ গ্রাম প্রোটিন। ভারতেরই আরেক প্রতিষ্ঠান দ্য মিসফিটস দেখতে খুঁতওয়ালা বলে বাতিল হওয়া ফল ও সবজি কিনে তা দিয়ে স্প্রেড, নাশতা ও চাটনি বানায়, যাতে সেগুলো নষ্ট না হয়।
তাইওয়ানের অক্সপেরিয়াল বায়োহেলথ কম তাপমাত্রায় উদ্ভিজ্জ উপাদান নিষ্কাশন ও নিজস্ব পেটেন্ট করা প্রক্রিয়া মিলিয়ে কার্যকরী খাদ্য উপাদান তৈরি করে; প্রথম পণ্য প্রোপোলাইট তাইওয়ানে বিক্রি হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রোডাক্সিয়ম সিস্টেমসের ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পণ্যের বিবরণ, লেবেল ও মোড়ক খাদ্য আইনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে ঝুঁকি চিহ্নিত করে।
বিচারকেরা উদ্ভাবন, বাস্তব প্রভাব, বাণিজ্যিক সম্ভাবনা, টেকসই হওয়া ও বড় পরিসরে বিস্তারের ক্ষমতা দেখেছেন। ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের টমি হারিয়াদি বলেন, তিনি এমন প্রযুক্তি চান যা বাস্তবসম্মত, কম খরচের এবং নানা ধরনের জনগোষ্ঠীতে কাজে লাগে; খাদ্যের অপচয় কমানোকে তিনি ক্রমবর্ধমান অগ্রাধিকার বলেছেন। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এসওএসভির সিরিল এবারসওয়েলারের মতে, যে উদ্যোক্তারা নিজেরাই খাতটি ভেতর থেকে চেনেন, তাঁরাই সমস্যা ও সুযোগ সবচেয়ে ভালো বোঝেন।
ছবি: T.K. Naliaka / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: FoodNavigator





মন্তব্য
(০)