সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ৩০ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৯২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

বুড়িগঙ্গা-তুরাগে সাকার ফিশের দাপট, কমছে দেশীয় মাছ ও জেলের আয়

অ্যাকোয়ারিয়াম থেকে আসা সাকার ফিশ এখন দেশের অন্তত ১৭টি নদীতে। পরীক্ষামূলক পুকুরে এর উপস্থিতিতে মৃগেলের বৃদ্ধি ৪৮.৪ শতাংশ কম হয়েছে, আর ঢাকার জেলেদের জালে উঠছে বিক্রির অযোগ্য এই মাছ।

বুড়িগঙ্গা-তুরাগে সাকার ফিশের দাপট, কমছে দেশীয় মাছ ও জেলের আয়
মৎস্য

অ্যাকোয়ারিয়ামের কাচ পরিষ্কারের মাছ হিসেবে আসা বিদেশি সাকার ফিশ এখন দেশের নদী, খাল, বিল ও জলাভূমিতে ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকার বুড়িগঙ্গা ও তুরাগে মাছটির আধিপত্য বাড়ায় দেশীয় মাছ চাপে পড়ছে, আর জাল ভরে মাছ উঠলেও আয় কমছে নদীনির্ভর জেলেদের।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের (টিবিএস) প্রতিবেদনের বরাতে এগ্রিকেয়ার২৪ জানিয়েছে, ১৯৮০-এর দশকে শৌখিন মাছের বাণিজ্যের হাত ধরে সাকার ফিশ বাংলাদেশে আসে। শৈবাল খাওয়ার জন্য মাছটি অ্যাকোয়ারিয়ামে জনপ্রিয় ছিল। পরে উন্মুক্ত জলাশয়ে ছেড়ে দেওয়ায় এটি বংশবিস্তার করে নদী ও জলাভূমিতে ছড়িয়ে পড়ে।

সদরঘাটের কাছে বুড়িগঙ্গায় মাছ ধরেন কামাল মিয়া। তাঁর জালে এখন প্রচুর সাকার ফিশ ওঠে, সেগুলো ছাড়াতে সময় যায়, জালও ছেঁড়ে। তুরাগের জেলে মোহাম্মদ সেলিমের দাবি, দিনে ২০ কেজি মাছ ধরলে কখনো কখনো তার ১৫ কেজিই থাকে সাকার ফিশ, যার বাজারমূল্য নেই।

২০২৩ সালের এক গবেষণায় দেশের অন্তত ১৭টি নদীতে সাকার ফিশের উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে আছে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, পদ্মা, হালদা ও মেঘনা। আরেক গবেষণায় ৬৪ জেলার ৩৮টিতে মাছটি পাওয়া গেছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জীববিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় বুড়িগঙ্গার নমুনায় সাকার ফিশের তিনটি প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে।

পরীক্ষামূলক পুকুরে সাকার ফিশ থাকলে মৃগেলের বৃদ্ধি ৪৮.৪ শতাংশ এবং রুইয়ের বৃদ্ধি ২১.৪ শতাংশ কম পাওয়া গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নিয়ামুল নাসের বলেন, মাছটি খাবার ও বসবাসের জায়গা নিয়ে দেশীয় মাছের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষিত ও কম অক্সিজেনের পানিতেও এটি টিকে থাকে, তবে দেশীয় মাছ কমার পেছনে নদীদূষণ ও আবাসস্থল ধ্বংসও দায়ী।

২০২৩ সালের শুরুতে সাকার ফিশের আমদানি, প্রজনন, বিক্রি, পরিবহন ও রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, কিন্তু উন্মুক্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়া মাছ নিয়ন্ত্রণ কঠিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হাসান ফারুক জাতীয় কর্মপরিকল্পনার তাগিদ দিয়েছেন। তাঁর প্রস্তাব, জেলেদের ধরা সাকার ফিশ সরকারিভাবে সংগ্রহ, আর্থিক প্রণোদনা ও নিরাপদ অপসারণের ব্যবস্থা করা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নিষেধাজ্ঞায় এর বিস্তার ঠেকানো যাবে না; দরকার নিয়মিত বৈজ্ঞানিক জরিপ, শৌখিন মাছের আমদানি ও বিক্রিতে নজরদারি, জনসচেতনতা এবং নদীর পরিবেশ পুনরুদ্ধার। প্রতিবেদনটি এগ্রিকেয়ার২৪ প্রকাশ করেছে টিবিএসের বরাতে।

ছবি: সাকার ফিশ (Pterygoplichthys প্রজাতি), George Chernilevsky / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪

এগ্রিকেয়ার২৪সূত্র

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

নৌবাহিনীর মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান শেষ, জব্দ ৮৪ লাখ মিটার অবৈধ জাল

৮ থেকে ২৯ অক্টোবর ২১২টি অভিযানে ৮৪ লাখ ২১ হাজার ৬৭০ মিটার অবৈধ জাল, চারটি বোট ও ৫৭০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করেছে নৌবাহিনী; জব্দ সামগ্রীর মূল্য ৬১ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

বাংলা নিউজ ২৪৩১ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে পিরোজপুরের নদীতে ইলিশ কম, হতাশ জেলেরা

সন্ধ্যা, বলেশ্বর ও কালীগঙ্গায় মধ্যরাত থেকে জাল ফেলে দু-একটির বেশি ইলিশ পাননি অনেক জেলে। ২৫ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও ১৮-২২ কেজি পেয়েছেন বলে তাঁদের অভিযোগ; জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন, পূর্ণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জাগো নিউজ ২৪৩১ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

ডিএনএ বারকোডিংয়ে সুন্দরবনে নতুন রেকর্ড পাঁচ মাছ ও দুই চিংড়ির প্রজাতি

সিএনআরএস ও আরণ্যক ফাউন্ডেশনের ১৬ মাসের জরিপে সুন্দরবনের ৬৫টি নদী-খালে ২৫১ প্রজাতির মাছ ও ৫১ প্রজাতির ক্রাস্টেশিয়ান নথিভুক্ত হয়েছে; ডিএনএ বারকোডিংয়ে দেশের উপকূলে নতুন রেকর্ড সাতটি প্রজাতি।

প্রথম আলো৩১ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)