সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ২৯ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৫°মেঘলাআর্দ্রতা ৯৪%বাতাস ৮ কিমি/ঘ

মতামত: শক্তিশালী এল নিনোর আঘাত পড়বে ভারতের গ্রামের কুয়া, গমখেত আর খেতমজুরের ওপর

ডাউন টু আর্থে এক লেখায় রঞ্জন পান্ডা বলছেন, ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত এল নিনো প্রায় নিশ্চিতভাবে থাকবে বলে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানাচ্ছে; তাই ভারতের খামার, গ্রামের পানির উৎস আর খেতমজুরদের এখনই প্রস্তুত করতে হবে।

মতামত: শক্তিশালী এল নিনোর আঘাত পড়বে ভারতের গ্রামের কুয়া, গমখেত আর খেতমজুরের ওপর
মতামত

এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সর্বশেষ মূল্যায়নে ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত এটি টিকে থাকার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ, আর এটি অন্তত ১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোগুলোর একটি হতে পারে। ডাউন টু আর্থে এক লেখায় রঞ্জন পান্ডা যুক্তি দিয়েছেন, ভারতে এর ক্ষতি ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার চেয়ে বেশি দেখা যাবে গ্রামের শুকিয়ে যাওয়া কুয়ায়, তাপে পোড়া গমখেতে, আর্দ্রতা হারানো বৃষ্টিনির্ভর ধানখেতে, কমতে থাকা চারণভূমিতে আর নিরাপদে কাজ করতে না পারা খেতমজুরের জীবনে। লেখার মতামত লেখকের নিজস্ব।

পানির প্রশ্নে তিনি জল জীবন মিশনের সাফল্য মেনে নেন: ২০১৯ সালের আগস্টে গ্রামের প্রায় ১৭ শতাংশ পরিবারে কলের পানির সংযোগ ছিল, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তা ৮১ শতাংশ ছাড়িয়েছে। কিন্তু সরকারের ২০২৪ সালের মূল্যায়নে ২ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি পরিবারের মধ্যে নির্ধারিত মানের পানি পাচ্ছিল মাত্র ৭৬ শতাংশ। দেশের ৬,৭৬২টি মূল্যায়িত ভূগর্ভস্থ পানির এককের ৭৩০টি অতিরিক্ত উত্তোলিত হওয়ায় তিনি সংযোগ গোনার বদলে পানির উৎস সুরক্ষা, পুকুর-দিঘি ও জোহাড় পুনরুদ্ধার এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানের পানি সংরক্ষণ ব্যয় বাস্তব ফল দিয়ে মাপার কথা বলেছেন।

ফসলের ক্ষেত্রে তিনি ন্যাচারাল হ্যাজার্ডস অ্যান্ড আর্থ সিস্টেম সায়েন্সেস সাময়িকীর একটি গবেষণার উল্লেখ করেন, যাতে দেখা গেছে ১৯৫১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে খরা ও তাপপ্রবাহ একসঙ্গে আঘাত হানা এলাকা ভারতের ১০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, ছড়িয়েছে ওডিশা, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামেও, আর তীব্র বছরগুলোতে দেশের ধানের ফলন ১২.১ শতাংশ কমেছে। ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের উদ্ধৃত গবেষণা অনুযায়ী, দানা পুষ্ট হওয়ার সময় তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে গমের ফলন ৩ থেকে ৪ শতাংশ কমতে পারে। তাই শীতের শেষ দিক গরম হলে দেরিতে বোনা ও কম সেচ পাওয়া খেতে গম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা মানুষের জীবন নিয়ে। ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের এক বিশ্লেষণের অনুমান, স্বাভাবিক বছরের তুলনায় সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত ভারতে তাপজনিত কারণে প্রায় ১৫,৮০০ বাড়তি মৃত্যু হতে পারে। ২০২৫ সালের ল্যানসেট কাউন্টডাউন ইন্ডিয়া তথ্যপত্রের হিসাবে, ২০২৪ সালে তাপের কারণে ২৪,৭০০ কোটি সম্ভাব্য শ্রমঘণ্টা নষ্ট হয়েছে, যার দুই-তৃতীয়াংশ কৃষিতে, আর এতে সম্ভাব্য আয় ক্ষতি আনুমানিক ১৯,৪০০ কোটি ডলার। পান্ডা লিখেছেন, ধানখেতের একজন মজুর এয়ারকন্ডিশনার চালাতে পারেন না, এক দিনের মজুরিও ছাড়তে পারেন না।

২০২৬-২৭ রবি মৌসুম ও তার পরের জন্য তাঁর প্রস্তাব: বোনার সময়, তাপসহিষ্ণু জাত, সেচ ও মাটির আর্দ্রতা নিয়ে এলাকাভিত্তিক পরামর্শ; ২০২৭ সালের খরিফে বৃষ্টিনির্ভর কৃষকের জন্য বিকল্প ফসল ও স্বল্পমেয়াদি জাত; তাপ ও একাধিক জলবায়ু ঝুঁকি স্বীকার করে সময়মতো ক্ষতিপূরণ দেয় এমন শস্যবিমা; জেলা ও পঞ্চায়েত পর্যায়ে তাপ, বৃষ্টি ও মাটির আর্দ্রতার তথ্য মিলিয়ে আগাম সতর্কবার্তা; এবং ছায়াযুক্ত কর্মস্থল, খাবার পানি, বিশ্রাম ও কাজের সময় বদলসহ গ্রামের তাপ মোকাবিলা পরিকল্পনা।

তাঁর ভাষায়, "ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো একটি সতর্কবার্তা, রায় নয়।" এটি কৃষি ও মানবিক সংকটে রূপ নেবে কি না, তা নির্ভর করবে গ্রামীণ ভারত কতটা প্রস্তুত হয় তার ওপর।

ছবি: ভারতের খরাপ্রবণ মাহবুবনগর জেলায় বর্ষার আগে জমি তৈরি করছেন একজন কৃষক, Saibhaskar / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

সূত্র: Down To Earth

ডাউন টু আর্থসূত্র

মতামত

সম্পর্কিত খবর

মতামত

নতুন কৃষক নয়, আগে বিদ্যমান কৃষ্ণাঙ্গ ফলখামারকে স্বাবলম্বী করার আহ্বান

ফুড ফর মজানসিতে লেখা কলামে ফ্রুট সাউথ আফ্রিকার ইন্ডাস্ট্রি অ্যাফেয়ার্স ম্যানেজার নোমোন্দে এনটলোকো বলেছেন, নতুন ফলচাষি আনার আগে বর্তমান উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন, জমির দলিল আর অনুদান থেকে ঋণে ধাপে ধাপে ওঠার সুযোগ দরকার।

ফুড ফর মজানসি২৯ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফসল

জিনব্যাংকে নিয়মিত অর্থায়নের আহ্বান সিজিআইএআর ও ক্রপ ট্রাস্ট প্রধানের

জাতিসংঘ জীববৈচিত্র্য সম্মেলনের আগে লেখা নিবন্ধে তাঁরা বলছেন, একটি সংরক্ষিত বীজের নমুনাই কৃষকের কোটি কোটি ডলারের ক্ষতি ঠেকাতে পারে, অথচ বহু দেশের জাতীয় জিনব্যাংক দীর্ঘদিন অর্থসংকটে।

CGIAR২৯ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ছাদকৃষি

ঢাকার ছাদে বাগান মাত্র ৫ শতাংশে, ছাদবাগান নীতিমালার দাবি আইনজীবীর

আইনজীবী জেসমিন জেবা সমকালে লিখেছেন, ঢাকায় বাগান করার উপযোগী প্রায় তিন লাখ ছাদ থাকলেও বাগান আছে মোটে ৫ শতাংশে। ছাদবাগানের সরকারি সংজ্ঞা, কর রেয়াত আর ভাড়াটিয়ার অধিকার নিয়ে নীতিমালা চান তিনি।

সমকাল২৮ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)