সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩২°মূলত পরিষ্কারআর্দ্রতা ৬৬%বাতাস কিমি/ঘ

অতিথি পাখি শিকার প্রতিরোধ করা জরুরি

আজাহার ইসলামসাধারণত হেমন্তের পরেই আসে শীত। তবে এবার প্রকৃতির নিয়ম ভেঙ্গে একটু আগেই শীতের আগমন ঘটেছে। শীতের তীব্রতা ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে। শীত এলেই প্রতিবছর নাম না জানা হাজারো পাখির আগমন ঘটে আমাদের দেশে। আন্তর্জাতিকভাবে জলচর পাখির জন্য স্বীকৃত ২৮টি জায়গা বাংলাদেশের সীমানায় রয়েছে।

পরিবেশ

আজাহার ইসলামসাধারণত হেমন্তের পরেই আসে শীত। তবে এবার প্রকৃতির নিয়ম ভেঙ্গে একটু আগেই শীতের আগমন ঘটেছে। শীতের তীব্রতা ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে। শীত এলেই প্রতিবছর নাম না জানা হাজারো পাখির আগমন ঘটে আমাদের দেশে। আন্তর্জাতিকভাবে জলচর পাখির জন্য স্বীকৃত ২৮টি জায়গা বাংলাদেশের সীমানায় রয়েছে।

শীত এলেই এসব এলাকার খাল-বিল, হাওড়-বাওর, পুকুর, জলাশয় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পাখির কলকাকলিতে। হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে আসে নাম না জানা এসব পাখি। আমরা এদের অতিথি পাখি বলে থাকি।

শীতের তীব্রতা সইতে না পেরে অতিথি পাখিরা তুলনামূলক যে দেশে শীত কম সে দেশে চলে যায়। তাছাড়া তীব্র শীতে খাবারেরও অভাবও দেখা যায়। অধিকাংশ সময় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে থাকে। সেই সাথে তুষারপাত। সব মিলিয়ে পাখিদের থাকা ও খাবার সংগ্রহ করা তুলনামূলক অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। এসব পাখি আসে উত্তর মেরু, সাইবেরিয়া ইউরোপ, এশিয়ার কিছু অঞ্চল ও হিমালয়ের আসপাশের কিছু এলাকা থেকে।

শীতের মৌসুমে আসা অতিথি পাখিদের মধ্যে রয়েছে বালিহাঁস, পাতিহাঁস, লেজহাঁস, পেরিহাঁস, চমাহাঁস, জলপিপি, রাজসরালি, লালবুবা, পানকৌড়ি, বক, শামুককনা, চখপখিম সারস, কাইমা, শ্রাইক, গাঙ কবুতর, বনহুর, হরিয়াল, নারুন্দি, মানিকজোড়া অন্যতম। প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় ১৫ প্রজাতির হাঁস ছাড়াও গাগিনি, গাও, ওয়েল, পিগটেইল, ডাটাস্মক, থাম, আরাথিল, পেলিক্যান, পাইজ, শ্রেভির, বাটান এসব পাখি এসে থাকে।

প্রাণিবিজ্ঞানীদের মতে, বাংলাদেশের পাখি দুই শ্রেণির। আবাসিক আর অনাবাসিক। অতিথি পাখি অনাবাসিক শ্রেণির আওতায় পড়ে। আবাসিক ও অনাবাসিক মিলে দেশে প্রায় ৬৫০ প্রজাতির পাখি রয়েছে। যার মধ্যে ৩৬০ প্রজাতি আবাসিক। বাকি ৩০০ প্রজাতি অনাবাসিক। সব অনাবাসিক পাখি শীতের সময় আসে না। ৩০০ প্রজাতির মধ্যে ২৯০টি শীত মৌসুমে আসে এবং ১০টি প্রজাতি থেকে যায়।

বাড়িতে অতিথি আসলে যে কেউই খুশিতে থাকে। অনটন থাকলেও বাঙালিরা সর্বোচ্চ চেষ্টায় থাকে অতিথি আপ্যায়নে। তবে অতিথি পাখিদের সাথে ঘটে তার উল্টোটা। বন্দুকের গুলি, বিভিন্ন রকম ফাঁদ, বিষটোপ দিয়ে আমরা আপ্যায়ন করি অতিথিদের।

আমরা অতিথি পাখি বললেও তারা মূলত আসে জীবন বাঁচাতে। অপরদিকে আমরা তাদের বাঁচতে না দিয়ে শিকারে মত্ত হই। প্রাণ বাঁচাতে এসে প্রাণ যায় যায় অবস্থা। পত্রিকার পাতা খুললেই এমন অহরহ ঘটনার সংবাদ দেখা যায়। এছাড়াও অবাধে কত শিকার হচ্ছে তার সঠিক পরিসংখ্যান বলা কঠিন।

একটি পাখির ওজন কতটুকুই বা হতে পারে? সর্বোচ্চ ১শ থেকে ২শ গ্রাম। অথচ এইটুকুর স্বাদ নিতেও উৎসুক থাকে অনেকেই। সামান্য মুনাফার লোভে কিছু অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে পাখি নিধনে মত্ত হয়ে ওঠে। বাজারে পাখির প্রচুর চাহিদাও রয়েছে। কোনোভাবে ধরতে পারলেই বিক্রি করতে খুব একটা বেগ পোহাতে হয়না। ২শ থেকে ৫শ টাকা পর্যন্তও অনায়াসে এসব পাখি বিক্রি হয়ে যায়।

বেআইনিভাবেই শিকার হচ্ছে এসব পাখি। যা দণ্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ। ১৯৭৪ সালে বন্য প্রাণি রক্ষা আইন ও ২০১২ সালে বন্য প্রাণি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে দণ্ডের বিধান রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছর জেল, এক লাখ টাকা দণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত। একই অপরাধ ফের করলে শাস্তি ও জরিমানা দ্বিগুণের বিধানও রয়েছে।

এছাড়া যদি কোন ব্যক্তি অতিথি পাখির মাংস ও দেহের অংশ সংগ্রহ করে দখলে রাখে কিংবা বেচা-কেনা করে। তবে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

এক ধরণের অসাধু ব্যক্তি মুনাফার আশায় আইনকে উপেক্ষা করে এসব কাজ করে চলেছে। দুঃখজনক জনক হলেও সত্য এসব আইন থাকলেও প্রচলন খুব কম দেখা যায়। তাই অতিথি পাখি শিকার রোধে প্রচলিত আইন জোরদার করা জরুরি। সেই সাথে স্থানীয় প্রশানকেও তৎপরতা চালাতে হবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, ল অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

এমএমএফ/এমকেএইচ

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

ফসল

তিন নিওনিকোটিনয়েড কীটনাশক আকাশ থেকে ছিটানো নিষিদ্ধ করতে কৃষি মন্ত্রণালয়কে ১৮০ দিন দিল ব্রাজিলের আদালত

ইমিডাক্লোপ্রিড, ক্লোথিয়ানিডিন ও থায়ামেথক্সামের ইবামা পুনর্মূল্যায়ন বছরের পর বছর কার্যকর না হওয়ায় টিআরএফ৩ প্যানেল 'প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা' দেখেছে; ফিপ্রোনিলের পর্যালোচনা শেষ করতে ইবামার হাতে ৩৬০ দিন।

AgroPages২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

গারো পাহাড়ের সামাজিক বনায়নে ২৫ হাজার আকাশমণি উধাও, ২৫ অংশীদারের ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি

শেরপুরের নালিতাবাড়ীর মধুটিলা রেঞ্জের দাওধারা-কাটাবাড়ি মৌজায় ২০১৭-১৮ সালে সৃজিত বাগানের প্রায় সব গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে; অংশীদারেরা বলছেন বন বিভাগ চাইলে ঠেকানো যেত, রেঞ্জ কর্মকর্তা অবগত নন বলছেন, আর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা তদন্ত কমিটির কথা জানিয়েছেন।

কৃষি সময়২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

খরায় ৫ লাখ টন খড়ের ঘাটতি: ভার্জিনিয়ায় জরুরি অবস্থা, আগেভাগেই শীতের খড় খাওয়াতে বাধ্য খামারিরা

গভর্নর অ্যাবিগেল স্প্যানবার্গারের নির্বাহী আদেশ ২১-এ ১ অক্টোবর থেকে খড় পরিবহনে অতিরিক্ত-প্রস্থ ছাড়, জরুরি তহবিল ও মূল্য-কারসাজি প্রতিরোধ চালু; এক্সটেনশনের হিসাবে অঙ্গরাজ্যে খড়ের ফলন ৩৫ শতাংশ কম।

Morning Ag Clips২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()